বিজ্ঞাপন
বড় ধসের পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক কিছুটা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। তবে, অন্য দুই সূচক কমেছে। ডিএসইতে প্রধান মূল্যসূচক বাড়াতে মূখ্য ভূমিকা রেখেছে বস্ত্র ও বিমা খাতের কোম্পানিগুলো।
বস্ত্র ও বিমা খাতের ওপর ভর করে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়লেও অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাজারটিতে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি মূল্যসূচকও কমেছে।
এর আগে, গতকাল রোববার ডিএসইতে বড় ধরনের ধস নামে। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১০৩ পয়েন্ট কমে যায়। একদিনে প্রধান মূল্যসূচক ১০০ পয়েন্টের ওপরে কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে সোমবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মেলে। তবে, অল্প সময়ের মধ্যে দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। এতে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।
এতে আবারও পতনের শঙ্কা পেয়ে বসে বিনিয়োগকারীদের। অবশ্য, লেনদেনের শেষদিকে বস্ত্র ও বিমা খাতের কোম্পানিগুলো শেয়ারের দাম বড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতেও। এতে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ১৭০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৬৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুন
প্রত্যাশার ‘ফাঁদে’ পুঁজিবাজার, তীব্র হচ্ছে আস্থা সংকট
অন্যদিকে, বস্ত্রখাতের ৪৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ৭টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর বিমা খাতের ৩৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৬টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮১টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ২৩টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৬টির এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ৮টির দাম কমেছে এবং ১২টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৬৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৩ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৫৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
প্রধান মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৭১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২৬ কোটি ৫ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৮ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম কটনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার। ২০ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনভয় টেক্সটাইল।
এছাড়া, ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- মালেক স্পিনিং, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সায়হাম টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, বেক্সিমকো, লাভেলো আইসক্রিম এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫১টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১৫টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৮২ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
এমএএস/এএমএ
বিজ্ঞাপন