জাতীয়

শেয়ারবাজারে ধস, সূচক তলানিতে

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেশের শেয়ারবাজারে রীতিমত ধস নেমেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক প্রায় সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের শেয়ারবাজারে মন্দা চললেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে। দীর্ঘ মন্দার প্রভাবে চলতি বছরের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৯১০ পয়েন্টে যায়, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে একপর্যায়ে সূচকটি ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টের ওপরে উঠে আসে। এতে দীর্ঘদিন ধরে বহন করা বিনিয়োগকারীদের বড় লোকসান কিছুটা কমে আসে। তবে সম্প্রতি আবারও বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে পতনের মধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজার। ফলে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা আবারও ভারী হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও বিনিয়োগ করা পুঁজি হারানোর শঙ্কা পেয়ে বসার পাশাপাশি আস্থার সংকটও তৈরি হচ্ছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে ১০ মিনিটও সেই ধারা অব্যাহত থাকেনি। বরং লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পতনের মাত্রা। ফলে রীতিমত ধস দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলে মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ৩৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৬২টির দাম কমেছে এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৭১টির দাম কমেছে এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৩টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ১২টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৩টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৯৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে সূচকটি চলতি বছরের ২ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। ২ জুন সূচকটি ছিল ৫ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৭২ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচকের বড় পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৯ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ১১ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সায়হাম টেক্সটাইল, মালেক স্পিনিং, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সাউথইস্ট ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, সায়হাম কটন এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩৮টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৫০ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এমএএস/এমকেআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>