
বড় ও মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে সহজে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, ব্যবসা শুরু, সম্প্রসারণ, পুনর্গঠন ও পরিচালনার জন্য উদ্যোক্তারা অর্থবাজার ও পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। তবে ব্যবসায়ের টেকসই উন্নয়নের জন্য পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করা বেশি কার্যকর। তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা থাকায় অনেকে অর্থবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। এতে পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা আসে না এবং ব্যবসায়ের টেকসই প্রসারও বাধাগ্রস্ত হয়।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে আজ শনিবার চট্টগ্রাম চেম্বার ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট: গ্রোথ ডায়ালগ-পাথওয়ে টু লিস্টিং’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ খান এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানিগুলো করপোরেট করহারে ছাড়, সহজে ব্যাংক ঋণ পাওয়া, কৌশলগত ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণসহ বিভিন্ন সুবিধা পায়। বর্তমানে যেসব বড় কোম্পানির বার্ষিক লেনদেন বা সম্পদের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা, তারা সহজে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য একবার নিরীক্ষা করলেই হবে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের গড় লেনদেন বাজার মূলধনের শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ। গড় লেনদেন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা গেলে তা শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছাবে।
চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ না করলেও লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেক ব্যবসায়ী পুঁজিবাজারে আসতে চান না। তালিকাভুক্তির পর বিভিন্ন নিয়মের জটিলতায়ও পড়তে হয়। ব্যবসায় লাভ হলে লভ্যাংশ দেওয়া এবং লোকসান হলে না দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। পুঁজিবাজারকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পৃক্ত। তাই আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও ঐকমত্য প্রয়োজন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের পুঁজিবাজার পঙ্গু হয়ে আছে। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করার পাশাপাশি শক্তিশালী কমিশনও প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান করপোরেট সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদ সাত্তার পুঁজিবাজারের করসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে বিএসইসি ও এনবিআরের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
সংলাপে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৃহৎ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে চট্টগ্রাম চেম্বার বিএসইসির সঙ্গে কাজ করবে বলে জানান চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী।
সংলাপে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এ ছালাম, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের এমডি মো. জামাল উদ্দিন, সিএসইর এমডি সাইফুর রহমান মজুমদার, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলীহুসেইন আকবর আলী, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, লুব-রেফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন সালেহ জহুর, বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান, মোদাচ্ছের এ সিদ্দিক অ্যান্ড কোম্পানির মোদাচ্ছের আহমেদ সিদ্দিকী, পিডব্লিউসির সহযোগী পরিচালক (ডিজিটাল রূপান্তর) শাদাব মাহমুদ, বিএসএম গ্রুপের আবুল বাশার চৌধুরী ও আইআইএবির সভাপতি এম নুরুল আলম বক্তব্য দেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, এ এস এম ইসমাইল খান, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, শহীদুল আলম, মো. সেলিম নুর প্রমুখ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>