বিজ্ঞাপন
এখন চলছে ২০২৬ সাল। যেসময় হাতে স্মার্টফোন, ডিজিটাল টাকা, এক ক্লিকেই পৃথিবীর খবর সামনে চলে আসে, এআইয়ের বিশ্বজয়। হঠাৎ একদিন চোখ খুলে দেখলেন-আপনি ফিরে গেছেন ১৯৮০-এর দশকে। যেসময় ইন্টারনেট নেই, স্মার্টফোন নেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নেই। আপনার জন্মই হয়তো তখনো হয়নি। অথচ আপনার কাছে জানা আছে আগামী চার দশকে পৃথিবী কীভাবে বদলাবে। তাহলে প্রথম কাজটা কী করবেন?
সম্ভবত প্রথমেই একটু হতবাক হয়ে চারপাশ দেখবেন। তারপর শুরু হবে হিসাব-নিকাশ। কোরিয়ান ও চাইনিজে এমন ফ্যান্টাসি ড্রামা আছে যেখানে ছেলেমেয়েরা টাইম ট্রাভেল করে গিয়ে নিজেদের বাবা-মার ভুল শুধরে দেন, বিশেষ করে জীবন সঙ্গী, এতে তাদের আর বর্তমানে অস্তিত্ব থাকে না। এগুলো যদিও শুধুই কল্পনা, বাস্তবে যা সম্ভব না।
আচ্ছা আপনি টাইম ট্রাভেল করে ৮০-র দশকে গেলে কী করবেন, এখনকার দুনিয়া সম্পর্কে তো জানা আছে। তাহলে আসুন কয়েকটি বিষয়ে ভাবা যাক-
সোনা কিনবেন, নাকি জমি?
যদি অতীতের তথ্য আপনার মনে থাকে, তাহলে বিনিয়োগের চিন্তা আসবেই। আজকের দিনে সোনার মূল্য কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, জমির দাম কীভাবে বেড়েছে এসব জানেন আপনি। তাই ৮০-র দশকে ফিরে গেলে হয়তো সামর্থ্য অনুযায়ী সোনা কিনে রেখে দেওয়ার কথা ভাববেন। একইভাবে শহর বা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এমন এলাকায় জমি কেনার সুযোগও হাতছাড়া করতে চাইবেন না।
তবে এখানেও একটা বড় সমস্যা আপনি ২০২৬ সালের মানুষ হলেও ১৯৮০-র দশকে আপনার কাছে সেই সময়ের অর্থ, পরিচয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রমাণ থাকবে না। তাই বাস্তবে কাজটি সিনেমার মতো এত সহজ হতো না। তবু নিজের পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যতের কথা ভেবে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরি করাই হতে পারত অন্যতম লক্ষ্য।
আরও পড়ুন
প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের ফাঁদে পড়ে রেজিনা, অতঃপর..
বিদেশে পড়তে যাবেন?
আরেকটি সিদ্ধান্ত হতে পারে শিক্ষা। যদি জানেন আগামী কয়েক দশকে কোন কোন দেশ প্রযুক্তি, ব্যবসা বা গবেষণায় এগিয়ে যাবে, তাহলে হয়তো বাবা-মাকে বলতেন সুযোগ পেলে আমাকে বিদেশে পড়তে পাঠাও। কিংবা তাদের বিদেশ যেতে বলতে পারতেন। তবে এখানেও সময়ের বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮০-র দশকের শিক্ষা, ভিসা, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আজকের মতো ছিল না। তাই শুধু ‘ভবিষ্যৎ জানি’ বললেই সব দরজা খুলে যেত না। বরং ভালো শিক্ষা, ভাষা শেখা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নিজের সক্ষমতা তৈরি করাকে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা যেত।
বাবা-মাকে কী বলবেন?
এটাই সম্ভবত সবচেয়ে আবেগের জায়গা। কারণ আপনি যদি ২০০০ সালে জন্ম নেওয়া মানুষ হন কিংবা ৮০-র দশকের পরে তাহলে ১৯৮০-র দশকে ফিরে গিয়ে দেখবেন আপনার বাবা-মা তখন তরুণ। হয়তো তাদের সংসার হয়নি, আপনিও পৃথিবীতে আসেননি। তাদের সামনে দাঁড়িয়ে কী বলবেন?
হয়তো বলবেন ‘জীবনে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালো করে ভেবো। শুধু সমাজ কী বলছে, সেটা দেখে বিয়ে কোরো না। নিজের পছন্দ, মানসিকতা আর মূল্যবোধকে গুরুত্ব দাও।’ কিন্তু এখানেই তৈরি হবে ভয়ংকর এক প্রশ্ন। আপনি যদি বাবা-মায়ের জীবনসঙ্গী বদলে দেন, তাহলে আপনার নিজের অস্তিত্বই হয়তো আর থাকবে না।
সময়ভ্রমণ নিয়ে তৈরি গল্পগুলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা এখানেই। দক্ষিণ কোরিয়ার মাই পার্ফেক্ট স্ট্রেঞ্জার-এ অতীতে গিয়ে মায়ের জীবন ও বিয়ের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার ইচ্ছা এমন এক প্রশ্ন তোলে মায়ের জীবন ভালো করতে গিয়ে যদি সন্তানটিই পৃথিবীতে না আসে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত কি সত্যিই ভালো?
আবার কোরিয়ার ফ্যামিলিয়ার ওয়াইফ সিরিজের গল্পে অতীতে ফিরে গিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া হলে পুরো বর্তমান জীবনই পাল্টে যায়। অর্থাৎ অতীতের একটি ছোট পরিবর্তনও ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।
এছাড়া চাইনিজ ড্রামা ক্লোজার টু ইউ, আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু বি ফ্রেন্ডস উইথ ইউ, বিলংড টু ইওর ওয়ার্ল্ড, লাভ আন্ডার দ্য ফুল মুন। এছাড়া কোরিয়ান সবচেয়ে জনপ্রিয় টাইম ট্রাভেল ড্রামা টুইংকিলিং ওয়াটারমেলন, যেখানে বর্তমান থেকে ছেলেতী অতীতে যায় সেখানে তার বাবা তার বর্তমান বয়সের চেয়েও ছোট। বেশ মজার একটি সিরিজ। চাইলে দেখে নিতে পারেন।
আরও পড়ুন
রাজার অবৈধ সন্তান থেকে সফল শাসক, অবিবাহিত রানির বিতর্কিত জীবন
নিজের অস্তিত্বের ঝুঁকি নেবেন?
ধরুন, আপনি জানেন আপনার বাবা-মায়ের সম্পর্কের কোনো সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হবে। আপনি অতীতে গিয়ে সেটি বদলে দিলেন। কিন্তু নতুন বাস্তবতায় হয়তো তারা অন্য কাউকে বিয়ে করলেন। সেই সংসারে আপনি জন্মালেনই না।
এটিই সময়ভ্রমণের সবচেয়ে মজার ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’। আপনি যে ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে গেছেন, সেটিই আপনার পরিবর্তনের কারণে আর থাকবে না। চীনা ও কোরিয়ান ফ্যান্টাসি নাটকে এই ধরনের ‘দ্বিতীয় সুযোগ’, অতীত বদলে দেওয়া এবং সম্পর্কের সিদ্ধান্ত নতুন করে নেওয়ার গল্প বারবার ফিরে আসে। দর্শককে ভাবানো হয় অতীতের ভুল ঠিক করার সুযোগ পেলেও তার মূল্য কতটা দিতে হবে?
হয়তো সবচেয়ে ভালো কাজ হবে শুধু বাবা-মাকে সময় দেওয়া
তাই ৮০-র দশকে সত্যিই ফিরে যেতে পারলে হয়তো সোনা, জমি কিংবা বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হতে পারে বাবা-মাকে একটু বেশি সময় দেওয়া। তাদের তরুণ বয়সের গল্প শুনতেন। হয়তো তাদের যে স্বপ্নগুলো সংসার ও দায়িত্বের চাপে হারিয়ে গিয়েছিল, সেগুলো জানার চেষ্টা করতেন। তাদের বলতেন, নিজের জন্যও কিছু করতে।
আর নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যতটা সম্ভব কম হস্তক্ষেপ করতেন। কারণ আপনি জানেন একটি সিদ্ধান্ত বদলালেই হয়তো আপনার আজকের জীবনটাই আর থাকবে না। বাস্তবে অবশ্য ২০২৬ থেকে ১৯৮০-র দশকে ফিরে যাওয়ার কোনো প্রমাণিত উপায় নেই। সময়ভ্রমণ এখানে পুরোপুরিই কল্পনা। কিন্তু এআই যখন কয়েক সেকেন্ডে আমাদের এমন একটি ছবি বানিয়ে দিতে পারে, যেখানে মনে হয় আমরা সত্যিই চার দশক আগের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে আছি, তখন সেই কল্পনাটা আরও জীবন্ত হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন
সালমান শাহ-মেরিলিন মনরো, আজও যেসব তারকার মৃত্যু রহস্যে ঘেরা
তাই এআইয়ের বানানো ছবিতে ৮০-র দশকে ফিরে গিয়ে যতই মজা করি না কেন, আসল সময়ভ্রমণ সম্ভব না হওয়াটাই হয়তো ভালো। কারণ অতীত বদলানোর চেয়ে বর্তমানটাকে একটু ভালো করে বাঁচার সুযোগ আমাদের হাতে এখনো আছে।
কেএসকে
বিজ্ঞাপন