বিজ্ঞাপন
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে ফের মামলা করল পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মমতার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
অভিযোগ, গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাদিবস উপলক্ষে সমাবেশ ছিল। ওই সমাবেশ করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সমাবেশ করার অনুমতি দেন আদালত।
আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সভা করা যাবে। রাস্তার একটি অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সভা শেষ করতে হবে।
সেইমতো সভাস্থলের পাশের রাস্তা যান চলাচলের জন্য স্বাভাবিক রেখেছিল কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকের ভিড় পুলিশের গার্ড রেল টপকে রাস্তার ওপর চলে আসে। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশের দাবি, জনতাকে মঞ্চের কাছে চলে আসার জন্য ইন্ধন দিয়েছিলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। এতে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে এবং আদালতে বেঁধে দেওয়া সময়সীমাও মানা হয়নি।
এর পরেই কলকাতার হেস্টিংস থানার এক কমকর্তা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেন। কলকাতা পুলিশ যে ধারায় মামলা দায়ের করেছে তার মধ্যে রয়েছে, বিএমএস ১৩২,যা জামিন অযোগ্য ধারা, ৬১(২)-অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ২২৩-সরকারি কর্মকর্তার আদেশ অমান্য, ১২৫(এ)-অন্যের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করা, ১৩২-কর্তব্যরত অবস্থায় সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া, বল প্রয়োগ করা, ২৮৫-জনসাধারণের পথ চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি।
কলকাতা পুলিশ আরও অভিযোগ করেছে, মঞ্চ থেকে এমন কিছু মন্তব্য করেন মমতা ব্যানার্জী যাতে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
সভা চলাকালীন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের লোকেরা হেল্প করবে আপনাদের। এই গাড়িগুলোকে বের করে দাও। অসুবিধা না হয় যেন। পুলিশ কেন গাড়ি বের করছে না?।
এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে হাইকোর্টের নির্দেশ ভাঙলেন? রাস্তার একটা অংশ ছেড়ে করতে বলা হয়েছিল। গাছের নিচে থাকা লোককে ডেকে রাস্তা বন্ধ করিয়ে কী করলেন! আমি পুলিশকে বলেছি এফআইআর করতে, ওনার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যেতে।
ডিডি/কেএএ/
বিজ্ঞাপন