বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘রাজনৈতিক কারণে বিরোধীরা সমালোচনা করতে পারলেও অনিয়ম ও জালিয়াতি ভেঙে অর্জিত এই সত্য ও ন্যায়বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া অনুচিত।’
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির পর বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে আমি তথ্য প্রমাণসহ অভিযোগ দাখিল করেছিলাম। কিন্তু সে সময় আমি কোনো সুরাহা পাইনি। যে কারণে আমি গণঅভ্যুত্থানের পরে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান স্যার বরাবর ২০১৯ সালের অভিযোগের গ্রাউন্ডে পুনরায় অভিযোগ দাখিল করি। ’
‘তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। তদন্ত কমিটি কয়েক মাসের তদন্তের ভিত্তিতে তথ্য পায় যে, গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব অবৈধ এবং নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি ও অনিয়ম হয়েছে।’
রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ‘যার প্রেক্ষিতে উক্ত কমিটি গোলাম রাব্বানীর এমফিলের ছাত্রত্ব এবং ডাকসু পদ বাতিল করার সুপারিশ করে এবং পরবর্তীতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়। ছাত্রত্ব বাতিল হলে ডাকসু পদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান স্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মতামত জানতে চান।’
‘আইন উপদেষ্টা হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে মতামত দেন যে, যেহেতু গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে, সেহেতু ডাকসু পদ থাকার সুযোগ নেই এবং তিনি গোলাম রাব্বানীর ডাকসু পদ বাতিল করে বৈধ প্রার্থী হিসেবে আমাকে ২০১৯ সালের ডাকসুর জিএস ঘোষণা করার বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।’
তিনি খেলেন, ‘কিন্তু পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনসহ উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান স্যারের দায়িত্বের পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিষয়টি স্থবির হয়ে যায়। পরবর্তীতে নতুন প্রশাসন গঠিত হওয়ার পরে আমি পুনরায় ঢাবি উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম স্যারের নিকট আবেদন করি। তিনি পুনরায় নতুন নিয়োগ পাওয়া আইন উপদেষ্টার কাছে দুই দফা মতামত জানতে চান।’
‘আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গোলাম রাব্বানীকে ২ বার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করলে তিনি (গোলাম রাব্বানী) স্বীকার করে নেন যে, তার ভর্তিতে অনিয়ম হয়েছে এবং তিনি এর দায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দেন।’
আরও পড়ুন
রাশেদ খাঁন / জ্বালানি সংকটেও ১ লাখ লিটার তেল খরচ করে লংমার্চ করবে জামায়াত!
তিনি আরও লেখেন, ‘গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপিত হলে সম্মানিত সকল শিক্ষক ও অন্যান্য সিন্ডিকেট সদস্যদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল ও আমাকে ২০১৯ সালের ডাকসুর জিএস ঘোষণা করা হয়।’
‘আমি আমার সম্মানিত ভোটারদের পক্ষ হয়ে লড়াই করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছি। এই বিজয় যারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল, তাদের বিজয়। কিন্তু যাদের কষ্ট পাওয়ার কথা, তারা চুপ থাকলেও কষ্ট পাচ্ছে আমাদের বর্তমান বিরোধী দল! রাজনৈতিক কারণে আপনারা আমার সমালোচনা বা বিরোধিতা করতে পারেন, কিন্তু ন্যায়বিচার পাওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারেন না।’
রাশেদ পোস্টে লেখেন, ‘পরিশেষে বলতে চাই, ভুক্তভোগী বাকি প্রার্থীরাও ন্যায়বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে অভিযোগ দাখিল করলে আমিও তাদের পাশে থাকবো, ইনশাআল্লাহ।’
এমআরএম
বিজ্ঞাপন