ব্রেকিং নিউজ
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, ইসরায়েলের পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা প্রবীণদের সম্পত্তি দানের নতুন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী ভিনিসিয়ুসের প্রেমিকাকে ঘিরে তোলপাড়, কী নিয়ে এত সমালোচনা? গেস্টরুম-গণরুমের নির্যাতনের ইতিহাস নিয়ে ডাকসুর গ্রন্থ, মোড়ক উন্মোচন ১৩ বছরেও শেষ হয়নি চেয়ারম্যান ফারুক হত্যার বিচার, স্বজনদের ক্ষোভ আমিনবাজারে এসআই-কে পিটিয়ে হত্যা: আরো ৩ জন গ্রেপ্তার ডিবির অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার, নারীসহ গ্রেফতার ৪ যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ‘গণভোট’ চান ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট যমুনা গ্রুপে ম্যানেজার নিয়োগ, ৩ জেলায় কাজের সুযোগ সস্তায় ইলিশের বিজ্ঞাপন, অগ্রিম টাকা নিয়ে ক্রেতার নম্বর ব্লক করে দেয় চক্রটি
জাতীয়

সাত ক্রিকেটার ছাঁটাইয়ের কথা জানতেনই না বাবর আজম!

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নেওয়া একের পর এক সিদ্ধান্তে ক্রিকেটবিশ্বে তৈরি হয়েছে তুমুল আলোচনা। সিরিজের মাঝপথে সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো, সঙ্গে দুই কোচকেও সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এমনিতেই প্রশ্ন উঠেছিল পাকিস্তান ক্রিকেটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে। এবার সেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হলো অধিনায়ক বাবর আজমের বক্তব্যে। বাবরের দাবি, সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে মাঝ সিরিজে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করেনি পিসিবি। এমনকি সিদ্ধান্তের বিষয়টি তিনি অন্য সবার মতোই পরে জানতে পেরেছেন। ‘আমার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি। আমার কাছেও এটা খবর ছিল। এসব ঘটনা পরে জানতে পেরেছি। পিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই এ বিষয়ে তারাই আপনাদের আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে,’ বলেছেন বাবর। বাবরের এই বক্তব্য সত্য হলে, ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড যে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, সেটি ছিল কার্যত একতরফা সিদ্ধান্ত। আর সেখানেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে- জাতীয় দলের অধিনায়কই যদি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে কিছু না জানেন, তাহলে দলের ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তগুলো আসলে কারা নিচ্ছেন? মাঝ সিরিজেই সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে শোচনীয় পরাজয়ের পর সোমবার বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দেয় পিসিবি। দ্বিতীয় টেস্টে লর্ডসে ১৯৪ রানে হারের পর সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে সাত ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামা পাঁচজন হলেন- উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান, চোটে থাকা ওপেনার ইমাম-উল হক, প্রথম টেস্টে অধিনায়কত্ব করা সালমান আলী আগা, স্পিনার আলী উসমান এবং পেসার খুররম শাহজাদ। এ ছাড়া অলরাউন্ডার আমির জামাল ও ব্যাটার আওয়াইস জাফর ইংল্যান্ড সফরে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেয়েই দেশে ফিরছেন। শুধু খেলোয়াড় নয়, কোচিং স্টাফেও এসেছে বড় পরিবর্তন। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে পিসিবি। তাদের জায়গায় তৃতীয় ও শেষ টেস্টের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবং অ্যাশলি নফকেকে। বার্মিংহামে ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়ার কথা সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। পাকিস্তান ক্রিকেটে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো- এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দলের অধিনায়ক কোথায় ছিলেন? বাবর আজমের বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় তার কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে সরিয়ে দেওয়ার খবর তিনিও পরে জানতে পেরেছেন। এতে পিসিবির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, টেস্ট সিরিজ চলাকালে দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফে এত বড় পরিবর্তন সাধারণ কোনো সিদ্ধান্ত নয়। অথচ অধিনায়ককে এ বিষয়ে আগে থেকে অবহিত না করার বিষয়টি পাকিস্তান ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের দুর্বলতাই সামনে আনছে। অবশ্য পিসিবির এমন কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের ভয়াবহ পারফরম্যান্স বড় কারণ। তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুই টেস্টেই হেরে ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে পাকিস্তান। লিডসে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারের পর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে হেরেছে ১৯৪ রানে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা ব্যাটিং। সিরিজের চার ইনিংসের কোনোটিতেই ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে সিরিজের শেষ টেস্টের আগে দলেই শুধু পরিবর্তন নয়, পুরো কাঠামোতেই যেন জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বাবরের দ্বিতীয় অধ্যায়ও ব্যর্থ শান মাসুদকে মে মাসে সরিয়ে দেওয়ার পর টেস্ট দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব আবারও বাবর আজমের হাতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাবরের দ্বিতীয় দফার নেতৃত্বও পাকিস্তানের টেস্ট ভাগ্য বদলাতে পারেনি। তার নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ ১-১ ড্র করেছিল পাকিস্তান। এরপর ইংল্যান্ডের মাটিতে এসে প্রথম দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে। বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক রেকর্ডও ভীষণ হতাশাজনক। সবশেষ ১১টি অ্যাওয়ে টেস্টের মধ্যে ১০টিতেই হেরেছে তারা। অর্থাৎ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের ব্যর্থতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সমস্যাই যেন আরও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। ইংল্যান্ড সফরের শুরু থেকেই বাবরের জন্য সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। আঙুলের চোটের কারণে লিডসে প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি তিনি। ওই ম্যাচে পাকিস্তানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সালমান আলী আগা। কিন্তু প্রথম টেস্টের পর সালমানকেও দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এখন আবার মাঝ সিরিজে সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোয় দল নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্টের জন্য নতুন করে দলে নেওয়া হয়েছে কয়েকজন ক্রিকেটারকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ওপেনার সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজল। সাইম এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে আটটি টেস্ট খেলেছেন। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে চোট পাওয়ার পর ইংল্যান্ড সফর থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন আবদুল্লাহ। এবার তাকে আবারও দলে ফিরিয়েছে নির্বাচকরা। এ ছাড়া পাঁচজন আনক্যাপড ক্রিকেটারও ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস, পেসার মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, উইকেটরক্ষক সাদ বেগ এবং পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ ইমরান ও রাজাউল্লাহ। অর্থাৎ, সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দলে অভিজ্ঞদের জায়গায় একঝাঁক তরুণকে সুযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ড সফরে প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পিসিবির এমন সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘প্যানিক বাটন’ চাপার সঙ্গে তুলনা করছেন। সিরিজের মাঝপথে একসঙ্গে সাত ক্রিকেটারকে দেশে পাঠানো এবং দুই কোচকে সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব বেশি দেখা যায় না। বিশেষ করে যখন দলের অধিনায়ক নিজেই বলছেন, এ বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু মাঠের ব্যর্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং দল নির্বাচন, কোচিং কাঠামো, অধিনায়কের সঙ্গে বোর্ডের সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা- সবকিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। এখন দেখার বিষয়, এত বড় পরিবর্তনের পর বার্মিংহামের তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তান আদৌ ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না। নাকি মাঝ সিরিজে সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তই পাকিস্তান ক্রিকেটের আরও একটি অস্থির অধ্যায়ের সূচনা হয়ে থাকবে। আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>