বিজ্ঞাপন
নানা কাজে ঢাকায় এসেছিলেন ফেনীর সুলতানুল উলুম আবেদীয়া মাদরাসার শিক্ষক বিএম শরিফুল ইসলাম। বায়তুল মোকাররমে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা শুরু হয়েছে, খবরটি পেয়েই আর অপেক্ষা করেননি। ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে ছুটে আসেন মেলায়। এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ঘুরে দেখেন পছন্দের বই, জানতে চান দাম। শেষ পর্যন্ত কয়েক হাজার টাকার বই কিনে ফেরেন তিনি।
শরিফুল ইসলামের মতো এমন অনেক পাঠকই সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন বায়তুল মোকাররমের ইসলামি বইমেলার জন্য।
কারণ, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ইসলামি বইয়ের সমাহার, নানা বিষয়ের বৈচিত্র্য আর বিশেষ ছাড়ের সুযোগ অন্য সাধারণ বইমেলায় সহজে মেলে না।
তবে পাঠকের আগ্রহ থাকলেও প্রকাশকদের আক্ষেপ, মেলার খবরটি সেভাবে পৌঁছাচ্ছে না সাধারণ মানুষের কাছে। তাদের মতে, প্রচার বাড়ানো গেলে আরও জমে উঠতে পারে দেশের অন্যতম বড় এই ইসলামি বইমেলা।
বই খুঁজছেন, দাম জানছেন, পছন্দ হলে কিনে নিচ্ছেন
শনিবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা। প্রথম দিন থেকেই মেলা ঘিরে পাঠক-ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা গেছে। কেউ এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ঘুরছেন, কেউ বইয়ের পাতা উল্টে দেখছেন, কেউ প্রকাশকের কাছে বইয়ের দাম জানতে চাইছেন। পছন্দ হলে সঙ্গে সঙ্গেই সংগ্রহ করে নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন
বায়তুল মোকাররমে শুরু মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা
মেলা প্রাঙ্গণে শুধু বই কেনাবেচার ব্যস্ততাই নয়, ছিল বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও। বিভিন্ন প্রবেশপথ ও মেলা এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতা দেখা গেছে। পরিবার নিয়ে আসা পাঠক থেকে শুরু করে একা বই কিনতে আসা তরুণ থেকে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে মেলার পরিবেশ।
অনেকের হাতে দেখা গেছে একাধিক বইয়ের ব্যাগ। কেউ কোরআন-হাদিসের বই খুঁজছেন, কেউ সিরাত, কেউ ইসলামি ইতিহাস ও গবেষণার বই। শিশুদের জন্য বই খুঁজছেন অভিভাবকেরাও।
‘বইমেলার জন্য পুরো বছর অপেক্ষা করি’
মেলায় ঘুরতে আসা সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, ইসলামি বইমেলা সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই জানতেন। কারণ, রবিউল আউয়াল মাসে এ ধরনের মেলা হবে, এটা অনেক পাঠকেরই জানা থাকে।
প্রথম দিন মেলায় এসে বেশ কিছু বই পছন্দ হলেও সঙ্গে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় সেগুলো কিনতে পারেননি তিনি। তবে আবার আসবেন বলে জানিয়েছেন।
মিজানুর রহমানের কাছে এ মেলার বড় সুবিধা হলো, নির্দিষ্ট একটি ক্যাটাগরির বিপুল বই এক জায়গায় পাওয়া। সিরাতে রাসুল (সা.) থেকে ইসলামি মূল্যবোধ ও জীবনঘনিষ্ঠ নানা বিষয়ে বই রয়েছে। তার মতে, একজন পাঠক এখানে এলে অন্তত একটি বই তার পছন্দ হবেই। এমনকি কোনো কোনো বই একজন মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন
জ্ঞানচর্চা প্রসারে ইসলামী বইমেলা বিশেষ ভূমিকা রাখবে: ধর্মমন্ত্রী
তবে মেলার শুরুর কয়েকদিনেও কিছু স্টল পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকায় সেটিকে অসুবিধা হিসেবে দেখছেন তিনি। তার মতে, সব স্টল একসঙ্গে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলে আরও ভালো ছাড় কিংবা উপহারের সুযোগ পাওয়া যেত।
৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়
বায়তুল মোকাররমের ৪৫/৪৬ নম্বর স্টলের এমদাদিয়া লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মো. দ্বীন ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মেলায় কোরআন, হাদিস, ইসলামি সাহিত্য, আত্মিক পরিচর্যা, ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি-মুক্তি, কোরআন-সুন্নাহর বিশ্লেষণ, তাফসিরসহ ইসলামি জ্ঞানচর্চার নানা বিষয়ের বই পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতি বছর রবিউল আউয়াল উপলক্ষে বইমেলাটি শুরু হলেও এবার কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। তারপরও পাঠকদের উপস্থিতি নিয়ে তারা আশাবাদী।
তার হিসাবে, ভালো দিনে একটি স্টলে দৈনিক ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বই বিক্রি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দৈনিক বিক্রি এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্তও পৌঁছায়।
মেলার আরেকটি বড় আকর্ষণ বিশেষ ছাড়। সন্ধান পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাদের খান জাগো নিউজকে বলেন, সাধারণ বইয়ের দোকান বা স্টোরে যেখানে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়, সেখানে মেলায় সর্বনিম্ন ৫০ শতাংশ এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
ফলে সিরাত, কোরআন, হাদিস কিংবা ইসলামি জ্ঞানভিত্তিক বই কিনতে আগ্রহী পাঠকদের জন্য এ মেলা বাড়তি সুবিধা তৈরি করছে বলে মনে করছেন প্রকাশকেরা।
‘মেলা হচ্ছে, কিন্তু মানুষ জানছে না’
তবে মেলার বড় একটি সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে প্রচারের ঘাটতির বিষয়টি। সন্ধান পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাদের খান বলেন, আগে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় মেলাটিও হতো। গত দুই-তিন বছর সেই সময়ের সঙ্গে মেলার আয়োজন না হওয়ায় অনেক মানুষ মেলার বিষয়ে জানতে পারছেন না।
তার মতে, স্টল ও বইয়ের প্রস্তুতি প্রকাশকদের পক্ষ থেকে আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন গণমাধ্যমে প্রচার। দেশের অন্যতম বড় ইসলামি বইমেলা হলেও সাধারণ মানুষের কাছে খবরটি পৌঁছানো না গেলে মেলার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।
আরও পড়ুন
ইসলামি বইমেলায় জ্ঞান উৎসবে শামিল হওয়ার আহ্বান আজহারীর
আয়োজক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতি তার দাবি, শুধু মেলার আয়োজন করলেই হবে না; প্রতিদিন মেলার তথ্য, কর্মসূচি ও অন্যান্য বিষয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
ফেনী থেকে এসে ‘হিউজ লেভেলের’ বই সংগ্রহ
ফেনীর শিক্ষক বিএম শরিফুল ইসলামের কাছে মেলার আলাদা গুরুত্বের কারণও এই বইয়ের বৈচিত্র্য। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সাধারণ বইমেলায় ইসলামি ক্যাটাগরির বই তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। কিন্তু বায়তুল মোকাররমের এই মেলায় ইসলামি বইয়ের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।
কোরআন, হাদিস, সীরাতসহ ইসলামি জ্ঞানের নানা শাখার বই এক জায়গায় পাওয়ায় প্রতিবছরই তিনি এখানে আসেন।
মেলায় ঘুরে তার চোখে পড়েছে বিভিন্ন বিশেষ কর্নারও। ফিমেল কর্নার, শাপলা কর্নারসহ বিভিন্ন আয়োজন তার কাছে ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে মেলাটি ‘অসাধারণ’ লেগেছে বলে জানান তিনি।
তরুণদের বই ও সংস্কৃতির সঙ্গেও যুক্ত করার তাগিদ
ইসলামি সংগীতশিল্পী হারুনুর রশীদ মনে করেন, বইমেলার পাশাপাশি ইসলামি সাংস্কৃতিক আয়োজনও বাড়ানো প্রয়োজন।
বইমেলায় ঘুরতে এসে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, তরুণ সমাজের একটি অংশ নেশাসহ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় সরকারিভাবে ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জ্ঞানচর্চার আয়োজন বাড়ানো গেলে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।
বইমেলা থেকেও অনেক তরুণ বই কিনে পড়ছেন এবং নিজেদের জীবনকে ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে সাজানোর চেষ্টা করছেন বলে মনে করেন তিনি। তাই এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া দরকার বলে তার মত।
মেলার প্রচারের পাশাপাশি এর সময় ও মেয়াদ বাড়ানোর দাবিও এসেছে পাঠক ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে।
হারুনুর রশীদ বলেন, এক মাসের পরিবর্তে মেলা আরও কিছুদিন চললে ভালো হয়। কারণ অনেকে শুরুতে মেলার খবর জানেন না, আবার কেউ কর্মব্যস্ততার কারণে শেষ দিকে এসে জানতে পারেন।
তার মতে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রচার বাড়ানো গেলে মেলায় আরও বেশি মানুষ আসবেন। এতে ক্রেতা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি প্রকাশক ও স্টল মালিকদের বিক্রিও বাড়বে।
বর্তমানে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকে। অফিসসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত মানুষের কথা বিবেচনা করে সময় আরও আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
২০৬ প্রতিষ্ঠান, ১৪৪ স্টল
এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ২০৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলা বাস্তবায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, থাকছে ১৪৪টি স্টল। এসব স্টলে শতাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বই প্রদর্শন ও বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি মিসর, লেবানন, পাকিস্তান ও ভারত থেকে সাতটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ফলে বায়তুল মোকাররমের এ আয়োজন ইসলামি সাহিত্য ও প্রকাশনার বড় সমাবেশে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন
বই চিন্তার দক্ষতা বাড়ায়: মিজানুর রহমান আজহারী
মেলায় কোরআনের অনুবাদ, তাফসির, হাদিস, সিরাত, ইসলামি দর্শন, ইতিহাস, গবেষণা ও ধর্মীয় সাহিত্যসহ নানা বিষয়ের বই রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত গ্রন্থের অনুবাদের পাশাপাশি মৌলিক ও গবেষণাধর্মী বইও পাওয়া যাচ্ছে। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে ধর্মীয়, নৈতিক ও ইসলামি শিক্ষামূলক বই।
শুধু বই নয়, থাকছে সংস্কৃতি ও শিশুদের আয়োজন
মাসব্যাপী এ আয়োজনে বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের অংশগ্রহণে ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা হবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনেরও আয়োজন রয়েছে।
শিশুদের জন্য আলাদা শিশু চত্বর, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মিডিয়া কর্নার ও তথ্যকেন্দ্র এবং নারীদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ইসলামি বই দেখার ও সংগ্রহের সুযোগ পাবেন পাঠকেরা। এতে মেলায় বড় ধরনের জনসমাগম হবে।
উদ্বোধনে ধর্মমন্ত্রীর বার্তা
শনিবার বিকেলে মেলার উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসারে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব বয়সী মানুষ যেন ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণে গড়ে ওঠে এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও ইসলামের প্রকৃত বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছায়, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মেলা সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্মমন্ত্রী ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে কোরআন-হাদিস প্রচারের প্রকৃত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাত, হজ ব্যবস্থাপনা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ বিভিন্ন বিষয়েও কথা বলেন।
তিনি জানান, ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪ হাজার ৩৪১ জনের অব্যয়িত ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ বছর হজের বিমানভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবাইতকে ভাতা দেওয়ার তথ্য তুলে ধরেন।
ডিজিটাল যুগে নির্ভরযোগ্য জ্ঞানের তাগিদ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম কামরুজ্জামান ইসলামি জ্ঞানচর্চাকে গবেষণাভিত্তিক ও সময়োপযোগী করার আহ্বান জানান।
ডিজিটাল যুগে বিভ্রান্তি রোধে নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা, ই-বুক ও ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে বিশুদ্ধ জ্ঞান সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শিশু-কিশোরদের উপযোগী নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক বই প্রকাশের জন্য লেখক ও প্রকাশকদের প্রতিও আহ্বান জানান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
পাঠক জানলে মেলা আরও জমবে
বায়তুল মোকাররমের চত্বরে এখন বইয়ের খোঁজে মানুষের আনাগোনা। কেউ কোরআন-হাদিসের বই খুঁজছেন, কেউ সিরাত, কেউ ইতিহাস-গবেষণা কিংবা ইসলামি সাহিত্য। কেউ শুধু দেখছেন, কেউ দাম জানতে চাইছেন, আবার পছন্দ হলেই ব্যাগে তুলে নিচ্ছেন বই।
আরও পড়ুন
ইসলামি বইমেলায় লেখক হয়ে ওঠার গল্প শোনালেন আলেম লেখকরা
মেলায় ঘুরতে আসা রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তোফায়েল আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, শিশুদের জন্য আলাদা চত্বর, নারীদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা, বিশেষ ছাড় এবং দেশি-বিদেশি প্রকাশকদের বিপুল সংগ্রহ; সব মিলিয়ে আয়োজনের পরিসরও বড়। তবু প্রকাশকদের চোখে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, এই মেলার খবর কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, বইয়ের সংগ্রহ আছে, পাঠকের আগ্রহ আছে, ছাড়ও আছে। সারা বছর অপেক্ষা করে থাকা পাঠকেরাও মেলা শুরুর পর ছুটে আসছেন। এখন প্রচারটা বাড়ানো গেলে বায়তুল মোকাররমের এই মাসব্যাপী আয়োজন শুধু ইসলামি বই কেনাবেচার জায়গা নয়। পাঠাভ্যাস, জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের একটি বড় মিলনস্থলে পরিণত হতে পারে।
এমডিএএ/এমআইএইচএস/
বিজ্ঞাপন