বিজ্ঞাপন
রান্নাঘরের এক কোণে রাখা একটি গ্যাস সিলিন্ডার। পরিবারের কাছে এটি নিছক একটি রান্নার উপকরণ। সকালে চা, দুপুরের ভাত, রাতে রান্না—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এই সিলিন্ডার। কিন্তু সেই একই সিলিন্ডার কখনো কখনো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি ঘরকে আগুনের গোলায় পরিণত করে। একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ভেঙে যায়, কেউ দগ্ধ হন, কেউ প্রাণ হারান, কেউ সারা জীবন বয়ে বেড়ান আগুনের দাগ।
প্রতিবার এমন দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হয়। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন। প্রশাসন অভিযান চালায়। গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্কতার পরামর্শ দেওয়া হয়। তারপর কিছুদিন পর সবকিছু আবার আগের মতো চলতে থাকে। নতুন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত আমরা ভুলে যাই—আমাদের রান্নাঘরের পাশে, দোকানের গুদামে, রেস্তোরাঁর পেছনে কিংবা কোনো গাড়ির ভেতর একটি সম্ভাব্য বিপদ নীরবে অপেক্ষা করছে।
বাংলাদেশে গ্যাসের সংকট বাড়ছে। পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ অনিয়মিত হচ্ছে। অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের চাপ থাকে না। শিল্প-কারখানা, পরিবহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি—সবখানেই গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। প্রশ্ন হলো, এই বিকল্প ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়। এটি নাগরিকের অধিকার। যে রান্নাঘরে একটি মা সন্তানের জন্য খাবার রান্না করেন, সেটি যেন হঠাৎ আগুনের ঘরে পরিণত না হয়—এ নিশ্চয়তা রাষ্ট্রকে দিতে হবে। যে দোকানে একজন শ্রমিক জীবিকা অর্জন করেন, সেখানে যেন একটি ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার তাঁর মৃত্যুর কারণ না হয়—এ নিশ্চয়তা ব্যবসায়ীকে দিতে হবে।
সাধারণত দুর্ঘটনার পর আমরা দায়টি ব্যবহারকারীর ওপর চাপিয়ে দিতে অভ্যস্ত। বলা হয়, সিলিন্ডার ঠিকভাবে রাখা হয়নি, রেগুলেটর পরীক্ষা করা হয়নি, গ্যাসের পাইপ পুরোনো ছিল, চুলার পাশে দাহ্য পদার্থ রাখা হয়েছিল, কিংবা ব্যবহারকারী নিয়ম মানেননি। এসব কারণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিরাপত্তার পুরো দায় কি শুধু ব্যবহারকারীর?
একজন সাধারণ মানুষ যখন বাজার থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনছেন, তখন তিনি কি নিশ্চিতভাবে জানেন—সিলিন্ডারটি কত পুরোনো, এটি কতবার রিফিল করা হয়েছে, এর মান পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, এতে সঠিক পরিমাণ গ্যাস আছে কি না? তিনি কি জানেন, সিলিন্ডারের ভালভ, রেগুলেটর ও সংযোগের মান কী? তিনি কি জানেন, ব্যবহৃত সিলিন্ডারটি নিরাপদ কি না?
বেশির ভাগ মানুষ এসব জানেন না। জানার কথাও নয়। কারণ তিনি প্রকৌশলী নন, গ্যাস বিশেষজ্ঞ নন, পণ্য পরীক্ষকও নন। তিনি একজন ভোক্তা। তাঁর প্রত্যাশা খুব সাধারণ—তিনি যে পণ্য কিনছেন, সেটি নিরাপদ হবে।
এখানেই রাষ্ট্র ও ব্যবসায়ীর দায়িত্ব শুরু হয়।
একটি গ্যাস সিলিন্ডার বাজারে পৌঁছানোর আগে তার উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ, রিফিলিং ও বিপণনের প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার। কিন্তু বাস্তবে এই পুরো শৃঙ্খল কতটা নিয়ন্ত্রিত, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
দেশে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার বাজারে রয়েছে। দোকান, গুদাম, পরিবহন ও রেস্তোরাঁয় সিলিন্ডার ব্যবহারের দৃশ্যও সর্বত্র। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, দোকানের সামনে গাদাগাদি করে সিলিন্ডার রাখা হয়েছে। কোথাও সিলিন্ডার রাখা হচ্ছে সরাসরি রোদে। কোথাও গ্যাসভর্তি ও খালি সিলিন্ডার একসঙ্গে স্তূপ করে রাখা। অনেক রেস্তোরাঁয় রান্নাঘরের কাছেই অসংখ্য সিলিন্ডার রাখা হয়। আবাসিক ভবনের নিচে, সিঁড়ির পাশে কিংবা সংকীর্ণ জায়গায় সিলিন্ডার মজুতের ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়।
এগুলো শুধু নিয়মভঙ্গ নয়; এগুলো সম্ভাব্য বিপর্যয়ের প্রস্তুতি। একটি দুর্ঘটনা কখনো একা আসে না। একটি ছোট লিকেজ, একটি ত্রুটিপূর্ণ রেগুলেটর, একটি নিম্নমানের পাইপ কিংবা অসতর্কভাবে রাখা একটি সিলিন্ডার—সব মিলিয়ে তৈরি হতে পারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন দুর্ঘটনা হলে শুধু একটি পরিবার নয়, আশপাশের বহু পরিবারও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
বাংলাদেশে নগরায়ণের গতি দ্রুত। বহুতল ভবন বাড়ছে, আবাসিক ভবনের সঙ্গে রেস্তোরাঁ, দোকান, গুদাম ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মিশে যাচ্ছে। একই ভবনের নিচে রান্নাঘর, পাশে গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম, ওপরে পরিবার—এই বাস্তবতা অনেক জায়গায় দেখা যায়। অথচ অগ্নিনিরাপত্তা, গ্যাস সংরক্ষণ ও জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থার বিষয়ে যথেষ্ট নজরদারি নেই।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন করা দরকার—সিলিন্ডার গ্যাসকে আমরা কি শুধু একটি বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখব, নাকি একটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি হিসেবে দেখব? যদি এটি শুধু পণ্য হয়, তাহলে বাজারে বিক্রি করলেই দায়িত্ব শেষ। কিন্তু যদি এটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি হয়, তাহলে উৎপাদন থেকে ব্যবহার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপজ্জনক জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘সেফটি চেইন’ বা নিরাপত্তার ধারাবাহিক ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। উৎপাদক, পরিবেশক, বিক্রেতা, ব্যবহারকারী এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা—প্রত্যেকের নির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকে। দুর্ঘটনা ঘটলে শুধু শেষ ব্যবহারকারীকে দায়ী করা হয় না; পুরো ব্যবস্থাটি পরীক্ষা করা হয়। কোথায় ব্যর্থতা ঘটেছে, তা খুঁজে দেখা হয়।
বাংলাদেশেও এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সিলিন্ডার গ্যাসের ক্ষেত্রে শুধু বিক্রয় অনুমোদন যথেষ্ট নয়। সিলিন্ডারের জীবনকাল, নিয়মিত পরীক্ষা, পুনঃপরীক্ষা, রিফিলিংয়ের মান, ভালভের নিরাপত্তা, পরিবহনের নিয়ম এবং সংরক্ষণব্যবস্থা—সবকিছু একটি একীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা যেতে পারে। প্রতিটি সিলিন্ডারের একটি ইউনিক পরিচয় থাকতে পারে। কোন কোম্পানি উৎপাদন করেছে, কখন পরীক্ষা হয়েছে, কতবার রিফিল হয়েছে—এসব তথ্য সহজেই জানা সম্ভব হওয়া উচিত। প্রযুক্তির যুগে এটি অসম্ভব কোনো কাজ নয়। বরং নাগরিকের নিরাপত্তার জন্য এটি রাষ্ট্রের ন্যূনতম দায়িত্ব।
একই সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ থাকা প্রয়োজন। যিনি সিলিন্ডার বিক্রি করবেন, তাঁকে অন্তত মৌলিক নিরাপত্তা সম্পর্কে জানতে হবে। ব্যবহারকারীকে সিলিন্ডার বিক্রির সময় নিরাপদ ব্যবহারের নির্দেশনা দিতে হবে। শুধু একটি সিলিন্ডার হাতে তুলে দিয়ে টাকা নিয়ে চলে গেলে ব্যবসায়ীর দায়িত্ব শেষ হতে পারে না।
রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর হওয়া দরকার। একটি রেস্তোরাঁয় কতটি সিলিন্ডার রাখা যাবে, কোথায় রাখা যাবে, কীভাবে রাখা যাবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট বিধি থাকতে হবে। আবাসিক ভবনের নিচে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার মজুতের অনুমতি দেওয়া যাবে না। অনুমোদনহীন গুদাম ও অবৈধ রিফিলিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে শুধু অভিযান দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের দেশে একটি অদ্ভুত প্রবণতা আছে—দুর্ঘটনার পর অভিযান হয়, জরিমানা হয়, কয়েক দিন খবর হয়; কিন্তু নিয়মিত নজরদারি থাকে না। ফলে ব্যবসায়ীরা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যান। নিরাপত্তা কোনো এককালীন অভিযান নয়। এটি একটি ধারাবাহিক সংস্কৃতি।
ব্যবহারকারীরও দায়িত্ব আছে। সিলিন্ডার সরাসরি রোদে রাখা যাবে না। শোবার ঘর বা বন্ধ স্থানে রাখা উচিত নয়। গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বৈদ্যুতিক সুইচ অন বা অফ করা যাবে না। আগুন জ্বালানো যাবে না। জানালা-দরজা খুলে দিতে হবে এবং নিরাপদভাবে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করতে হবে। রেগুলেটর, পাইপ ও সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা উচিত নয়। কিন্তু ব্যবহারকারীর সচেতনতা দিয়ে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ঢেকে রাখা যাবে না।
একজন মানুষ যদি জানেনই না যে তাঁর সিলিন্ডারটি নিরাপদ কি না, তাহলে তাঁকে শুধু ‘সচেতন হন’ বললে দায়িত্ব শেষ হয় না। একজন দরিদ্র পরিবার যদি নিম্নমানের সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হয়, কারণ ভালো মানের সিলিন্ডারের দাম বেশি, তাহলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাজার ও রাষ্ট্রেরও।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে ধীরে ধীরে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কী হবে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। মানুষ যখন একটি বিকল্পের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন বাজারে সিন্ডিকেট, মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি বাড়ে। সিলিন্ডার গ্যাসের বাজার যদি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ ভোক্তার দর-কষাকষির ক্ষমতা কমে যাবে। জ্বালানি নিরাপত্তা মানে শুধু জ্বালানি পাওয়া নয়। নিরাপদ, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহই প্রকৃত জ্বালানি নিরাপত্তা।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নীতিতে তাই দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থাপনা—সবকিছুকে একসঙ্গে দেখতে হবে। একটি সংকটের কারণে আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থার ওপর পুরো দেশকে নির্ভরশীল করে তোলা কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিককে নিরাপদ বিকল্প দেওয়া। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা নয়, যেখানে পাইপলাইনে গ্যাস নেই বলে মানুষ বাধ্য হয়ে অনিরাপদভাবে সিলিন্ডার ব্যবহার করবেন।
আজ বাংলাদেশের বহু পরিবার সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছে। তাঁদের সবাইকে শুধু সতর্ক করে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যে সিলিন্ডার তাঁরা কিনছেন, সেটি নিরাপদ কি না—তা নিশ্চিত করতে হবে। যে দোকান থেকে কিনছেন, সেটি অনুমোদিত কি না—তা নিশ্চিত করতে হবে। যে পরিবেশক সরবরাহ করছেন, তিনি নিয়ম মানছেন কি না—তা নিশ্চিত করতে হবে। যে কোম্পানি উৎপাদন করছে, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা অনেক বেশি মানবিক, সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় নীতি। একটি পরিবার আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে কোনো রাষ্ট্র তার দায় শেষ করতে পারে না। একজন মানুষের জীবন, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ, একটি পরিবারের স্বপ্ন—এসব কোনো জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ দিয়ে ফিরিয়ে আনা যায় না। তাই সিলিন্ডার গ্যাসের বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো—নিরাপত্তা কার দায়িত্ব?
উত্তরটি খুব স্পষ্ট: ব্যবহারকারীর দায়িত্ব আছে, কিন্তু পুরো দায়িত্ব তাঁর নয়। ব্যবসায়ীর দায়িত্ব আছে, কিন্তু শুধু ব্যবসায়ীরও নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব আছে, কিন্তু শুধু অভিযান চালালেই সেই দায়িত্ব শেষ হয় না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো পুরো ব্যবস্থাটিকে এমনভাবে পরিচালনা করা, যাতে একজন সাধারণ নাগরিক নিরাপদ পণ্য ব্যবহার করতে পারেন।
নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়। এটি নাগরিকের অধিকার। যে রান্নাঘরে একটি মা সন্তানের জন্য খাবার রান্না করেন, সেটি যেন হঠাৎ আগুনের ঘরে পরিণত না হয়—এ নিশ্চয়তা রাষ্ট্রকে দিতে হবে। যে দোকানে একজন শ্রমিক জীবিকা অর্জন করেন, সেখানে যেন একটি ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার তাঁর মৃত্যুর কারণ না হয়—এ নিশ্চয়তা ব্যবসায়ীকে দিতে হবে। আর যে পণ্য ব্যবহার করে মানুষ প্রতিদিনের জীবন চালান, সেই পণ্য নিরাপদ কি না—তা নিশ্চিত করার জন্য পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে। কারণ একটি সিলিন্ডার শুধু ধাতব পাত্র নয়। তার ভেতরে থাকা গ্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের রান্না, একটি শিশুর ক্ষুধা, একজন মায়ের শ্রম এবং একটি পরিবারের নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার।
সেই অধিকারকে বাজারের অনিয়ম, অবহেলা কিংবা প্রশাসনিক উদাসীনতার হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট, ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।drharun.press@gmail.com
এইচআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন