জাতীয়

সেই স্কুলে ফাঁকা চেয়ারে প্রধান শিক্ষকের স্মৃতি, মাঠে মরদেহ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রাজধানীতে ছিনতাইকারীর নির্মম হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে প্রাণ হারানো প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীনের (৫৭) মরদেহ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছাতেই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। চোখের চিকিৎসা শেষ করে বিকেলেই বগুড়ার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু চিকিৎসার বদলে লাশ হয়ে ফ্রিজিং ভ্যানে বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ফিরে এলেন প্রিয় শিক্ষক। প্রতিদিন সকালে সবার আগে যিনি স্কুলে এসে শিক্ষার্থীদের জন্য দরজা খুলে দিতেন, আজ তার নিথর দেহ বহনকারী ফ্রিজিং ভ্যানটি বিদ্যালয় মাঠে প্রবেশ করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন উপস্থিত সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন রনজিলা পারভীন। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পোশাক থেকে শুরু করে আর্থিক সহযোগিতা করতেন নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে। আরও পড়ুন হাতে থাকা ব্যাগে ছিনতাইকারীর টান, রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু সহকর্মীদের মতে, তিনি ছিলেন স্কুলের বটবৃক্ষের ছায়ার মতো। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হবে ভেবে যিনি কখনোই ছুটি নিতে চাইতেন না, সেই শিক্ষক আজ সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চিরদিনের মতো বিদায় নিলেন। বিদ্যালয়ে তার কক্ষটির খালি টেবিল-চেয়ার ও হাজিরা খাতায় তার নামটি এখন কেবলই স্মৃতি। শুক্রবার রাত ১২টার বাসে স্বামী আব্দুল মতিনের সঙ্গে চোখের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় রওনা হন রনজিলা পারভীন। শনিবার সকালে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনালে নেমে ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার জন্য একটি রিকশায় ওঠেন তারা। সকাল ৬টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে সজোরে টান দেয়। আরও পড়ুন ব্যাগ ছিনতাইকালে শিক্ষিকা হত্যা, মূল সন্দেহভাজন ‘প্যারা পনি’ গ্রেফতার ছিনতাইকারীদের টানাটানি সামলাতে না পেরে চলন্ত রিকশা থেকে পিচঢালা রাস্তায় ছিটকে পড়েন তিনি এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পথচারী ও স্বামীর সহায়তায় উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গাবতলী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ। আমরা তার এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের পর রোববার তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। ১৯৮৮ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই গুণী শিক্ষকের এমন আকস্মিক বিদায়ে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। এল.বি/এফএ/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>