বিজ্ঞাপন
সময় যতই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে চাকরির বাজার ততই কঠিন হচ্ছে। আর সরকারি চাকরি হলে তো কথাই নেই। তবে শারীরিক ফিটনেস এবং কিছু যোগ্যতা থাকলেই আপনি পেতে পারেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকরির সুযোগ। এখানে শারীরিক ফিটনেস, যোগ্যতা, সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ-সুবিধাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সেনাবাহিনীর কাজ কী?
সেনাবাহিনী হলো একটি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সেই প্রধান শাখা, যা মূলত ভূমিতে যুদ্ধ অথবা দেশ রক্ষা করার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সুসজ্জিত থাকে। সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ হলো যে কোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা।
সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দেওয়া হলো:
দেশ রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা
প্রতিরক্ষা: দেশের বিরুদ্ধে যে কোনো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র বা আক্রমণ প্রতিহত করা।সিভিল প্রশাসনকে সহায়তা: দেশের সংকটময় মুহূর্তে বা জরুরি পরিস্থিতিতে অসামরিক প্রশাসনকে (সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) সাহায্য করা।
দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবসেবা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প বা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের মতো প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা।
জাতি গঠন ও আন্তর্জাতিক অবদান
অবকাঠামো উন্নয়ন: সরকারের নির্দেশনায় দেশের রাস্তাঘাট, সেতু, ফ্লাইওভার ইত্যাদি নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।জাতিগঠনমূলক কাজ: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি অথবা ভোটার তালিকা প্রস্তুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাজে সহযোগিতা করা।আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা: জাতিসংঘের (ইউএন) শান্তি রক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।
আরও পড়ুন
নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে
সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকরির প্রধান যোগ্যতাগুলো দেওয়া হলো:
শিক্ষাগত যোগ্যতা
সাধারণ ট্রেড: এসএসসি বা সমমান (মাদরাসা, কারিগরি, উন্মুক্ত) পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩ পেয়ে উত্তীর্ণ।
টেকনিক্যাল ট্রেড: এসএসসি ভোকেশনাল অথবা সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৩ অথবা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৩ সহ পাস থাকতে হবে।
বয়সসীমা
সাধারণ ট্রেড: ১৭ থেকে ২২ বছর।টেকনিক্যাল ট্রেড: ১৭ থেকে ২৩ বছর (এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়)।
শারীরিক যোগ্যতা (পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য)
উচ্চতা: পুরুষ প্রার্থীর জন্য ন্যূনতম ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি)।নারী প্রার্থীর জন্য সাধারণত ন্যূনতম ৫ ফুট ১ ইঞ্চি বা সার্কুলার অনুযায়ী নির্ধারিত।
ওজন: পুরুষ প্রার্থীর জন্য কমপক্ষে ৪৯.৯০ কেজি এবং নারী প্রার্থীর জন্য উপযুক্ত অনুপাতে।
বুকের মাপ: পুরুষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি এবং প্রসারণে অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি।নারী প্রার্থীদের বুকের মাপ সাধারণত স্বাভাবিক অবস্থায় ২৮ ইঞ্চি এবং প্রসারণে ৩০ ইঞ্চি অথবা বিজ্ঞপ্তির ধরন অনুযায়ী হয়ে থাকে।
অন্যান্য যোগ্যতা
বৈবাহিক অবস্থা: প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে (তালাকপ্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য নয়)।নাগরিকত্ব: বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।সাঁতার: সেনাবাহিনীতে চাকরি করতে হলে সাঁতার জানা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে নিয়োগ জন্য শারীরিক ও প্রাথমিক পরীক্ষা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে ভর্তির মাঠে প্রাথমিক শারীরিক, মেডিকেল ও লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। আবেদন করার কিছুদিন আগেই আপনার ফিটনেস নিয়ে কাজ করুন। তাহলে সহজেই এই ধাপগুলো অতিক্রম করতে পারবেন। প্রাথমিক শারীরিক ও ফিটনেস পরীক্ষায় সাধারণত নিচের বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।
শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষার প্রস্তুতি
দৌড়: সৈনিক পদে ভর্তির প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষায় সাধারণত ১৬০০ মিটার (প্রায় ১ মাইল) দৌড়াতে হয়।
লং জাম্প: শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষার অংশ হিসেবে লং জাম্প বা দীর্ঘ লাফে সাধারণত ৯ থেকে ১০ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। লং জাম্পের জন্য পায়ের পেশির জোর ও গতির প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন দৌড়ঝাঁপ এবং নির্দিষ্ট মাপে লাফানোর অনুশীলন করলেই এইধাপ অতিক্রম করা যাবে।
পুশ-আপ ও সিট-আপ: চাকরি প্রার্থীর স্ট্যামিনা ও শক্তি যাচাইয়ের জন্য পুশ-আপ, সিট-আপ অথবা চিন-আপ বা পুল-আপ করানো হয়।
পুশ-আপ দেওয়ার নিয়ম
বুক মাটিতে সমান্তরাল রেখে হাত কাঁধের সমান দূরত্বে মাটিতে রাখতে হবে।শরীর সম্পূর্ণ সোজা রেখে বুক নিচে নামাতে হবে যেন মাটি থেকে সামান্য দূরত্ব থাকে।এরপর হাত সোজা করে শরীর আবার আগের অবস্থানে তুলতে হবে।পিঠ উঁচু বা নিচু করা যাবে না।
সিট-আপ দেওয়ার নিয়ম
পিঠ মাটিতে লাগিয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করতে হবে।হাত মাথার পেছনে বা ক্রশ করে বুকে রাখতে হবে।পেট ও কোমরের পেশির জোরে শরীর ওপরের দিকে তুলে হাঁটুর কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে।এরপর আবার আস্তে করে শুয়ে পড়ার অবস্থানে ফিরে আসতে হবে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও মেডিকেল পরীক্ষা
ডাক্তার দ্বারা শরীরের বাহ্যিক কোনো ত্রুটি, হাত বা আঙ্গুলের সমস্যা এবং শারীরিক গঠন ঠিক আছে কিনা তা দেখা হয়। প্রাথমিক ধাপ পেরোলে চোখ, কান, নাক, দাঁত, গলা (ইএনটি), রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা এবং এক্স-রেসহ বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। উচ্চ রক্তচাপ অথবা বাহ্যিক কোনো বড় শারীরিক ত্রুটি আছে কিনা তাও দেখা হয়।
আরও পড়ুন
আয়কর আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে
লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা
লিখিত পরীক্ষার বিষয়সমূহ
লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন থাকে।
বাংলা: ব্যাকরণ ও সাহিত্য অংশ থেকে প্রশ্ন থাকে। যেমন: সংজ্ঞা, বানান শুদ্ধি, এককথায় প্রকাশ, সমার্থক শব্দ ও ভাবসম্প্রসারণ।ইংরেজি: অনুবাদ, গ্রামার (টেন্স, প্রিপজিশন) ও ফিল ইন দ্য ব্ল্যাংকস।গণিত: সাধারণ পাটিগণিত ও বীজগণিত থেকে প্রশ্ন করা হয়। যেমন: ঐকিক নিয়ম, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, বীজগণিতীয় সূত্র ও মান নির্ণয়।সাধারণ জ্ঞান: বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, ভূগোল এবং সমসাময়িক বিভিন্ন সাধারণ জ্ঞান।
মৌখিক ও ভাইভা পরীক্ষার প্রশ্ন
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভা পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস, মানসিক দ্রুততা এবং সাধারণ জ্ঞান যাচাই করা হয়। ভাইভা পরীক্ষায় নিন্মের বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে পরীক্ষা সহজ হবে। ব্যক্তিগত তথ্য: নিজের নাম, বাবার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পরিবার সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা।সেনাবাহিনী সম্পর্কিত: কেন সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান, সেনাবাহিনীর কাজ কী এবং সেনাপ্রধান বা বাহিনী সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা।ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, ৭ই মার্চের ভাষণ এবং জাতীয় ইতিহাস সম্পর্কিত প্রশ্ন।সাধারণ জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ: সাম্প্রতিক ঘটনা, বিভিন্ন জাতীয় প্রতীক, নদী, জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান সম্পর্কে প্রশ্ন।
সেনাবাহিনীর চাকরিতে কী কী কাগজ লাগে?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক বা অন্যান্য পদে আবেদন ও পরীক্ষার সময় যেসব কাগজপত্র এবং জিনিসপত্র সঙ্গে রাখতে হয়; তার একটি তালিকা দেওয়া হলো:
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
সকল পরীক্ষার (এসএসসি ও সমমান) মূল অথবা প্রভিশনাল সার্টিফিকেট এবং নম্বরপত্র (মার্কশিট)। ফটোকপি হলে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।
প্রশংসাপত্র ও চারিত্রিক সনদ
প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত মূল প্রশংসাপত্র (যাতে জন্মতারিখ ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ থাকে)।অভিভাবকের সম্মতিপত্র (যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভা চেয়ারম্যান অথবা ওয়ার্ড কমিশনার কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে)।
ছবি ও অন্যান্য কাগজপত্র
সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত)।নাগরিকত্ব ও অবিবাহিত সনদ (স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে ইস্যুকৃত)।জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ।কারিগরি পদের জন্য সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত কারিগরি বা টেকনিক্যাল সার্টিফিকেট।
সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে পরীক্ষার মাঠে যা সঙ্গে নিতে হবে
পরীক্ষার প্রবেশপত্র (অ্যাডমিন কার্ড)
কলম, পেন্সিল, স্কেল ও ক্লিপবোর্ড।
সাঁতার কাটার উপযোগী পোশাক।
সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে পরীক্ষার স্থান
আপনার পরীক্ষার নির্দিষ্ট স্থান এবং তারিখ আপনার মোবাইলে আসা এসএমএস অথবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অফিসিয়াল ওয়েবসাইট-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত নিজ নিজ জেলার জন্য নির্ধারিত নিকটস্থ সেনানিবাসে বা জোনে এই মাঠ পরীক্ষা নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
তরুণ বয়সেই গড়ে উঠুক ভবিষ্যতের ভিত্তি
সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরির সুযোগ-সুবিধা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা ছাড়াও বিনামূল্যে রেশন, বাসস্থান এবং চিকিৎসা সুবিধাসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।
প্রধান সুযোগ-সুবিধাসমূহ
বেতন ও ভাতা: সরকার নির্ধারিত সৈনিক পদের মূল বেতন স্কেল অনুযায়ী প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন এবং বিভিন্ন ভাতা (যেমন: পোশাক ভাতা, ঝুঁকি ভাতা ইত্যাদি) দেওয়া হয়।
বাসস্থান: কর্মকালীন সময়ে বিনামূল্যে নিরাপদ ও মানসম্মত বাসস্থান অথবা কোয়ার্টারের ব্যবস্থা থাকে।
রেশন: সেনা সদরের নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাদ্য অথবা রেশন সরবরাহ করা হয়।
চিকিৎসা সুবিধা: সৈনিক ও তাদের পরিবার সামরিক হাসপাতালে বিনামূল্যে উচ্চমানের চিকিৎসা ও ওষুধ সুবিধা পান।
পেনশন ও অবসর সুবিধা: চাকরি শেষে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পেনশন, গ্রাচ্যুইটি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়।
ক্যান্টিন সুবিধা: সৈনিকরা কম মূল্যে সেনা ক্যান্টিন থেকে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার সুবিধা পান।
জাতিসংঘ মিশনে যাওয়ার সুযোগ: পেশাগত দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে সম্মানজনক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ থাকে।
সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে কী কী সমস্যা থাকলে চাকরি হয় না?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে শারীরিক বা অন্যান্য কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে প্রাথমিক বা মেডিকেল স্ক্রিনিংয়ে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। সেনাবাহিনীতে চাকরির ক্ষেত্রে ছোটোখাটো বিষয়ও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কিছু সমস্যা থাকলেই প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়।
শারীরিক মাপ ও যোগ্যতার সমস্যা
শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত ত্রুটি
চোখের দৃষ্টি কম থাকলে অথবা নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি সমস্যা থাকলে
পা দুটি যদি জোড়া লাগার সমস্যা (নক-নি) থাকে কিংবা পায়ের তলা সম্পূর্ণ সমান (ফ্ল্যাট ফুট) হয়; তবে মেডিকেল টেস্টে বাদ পড়তে হয়।
কনুইয়ের অতিরিক্ত বাঁকা ভাব (ক্যারিং অ্যাঙ্গেল সমস্যা), হাত বা আঙুল কাটা কিংবা জন্মগত শারীরিক বিকৃতি।
অতিরিক্ত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস অথবা জটিল হৃদরোগ থাকলে চাকরি হয় না।পোকা খাওয়া, ফিলিং বা সিল করা, ফাঁকা কিংবা এলোমেলো ও অস্বাস্থ্যকর দাঁত থাকলে।
নাকে পলিপাস বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকলে।
ভেরিকোজ ভেইন (শিরা ফুলে যাওয়া), চর্মরোগ বা শরীরে বড় ধরনের পোড়া বা কাটা-ছেঁড়ার দৃশ্যমান স্থায়ী দাগ।
অতিরিক্ত ঘামা, তোতলামি, কানের লতিতে ইনফেকশন/নখকুনি জাতীয় জটিলতা।
ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড বা পুলিশ ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক তথ্য থাকলে।
সেনাবাহিনীর সৈনিকদের ট্রেনিং
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সাধারণ ট্রেডসহ অন্যান্য সৈনিক পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সাধারণত ১ বছর বা ১২ মাস মেয়াদী হয়ে থাকে। বিভিন্ন আর্মস ও সার্ভিসেস এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই মৌলিক ও ট্রেড প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়।
প্রশিক্ষণের বিবরণ
সময়কাল: এক বছর মেয়াদি মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ।কার্যক্রম: এই এক বছরে শারীরিক ফিটনেস, অস্ত্র চালনা, ট্যাকটিক্যাল বা যুদ্ধ কৌশল এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেডের ওপর বিশেষ কারিগরি বা পেশাগত জ্ঞান দেওয়া হয়।নিয়োগ: সফলভাবে এই এক বছরের প্রশিক্ষণ শেষ করার পর রিক্রুটদের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সৈনিক’ পদে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্তি বা এনরোলমেন্ট দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীর গবেষণার ১০টি মৌলিক ধাপ
সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে আবেদন করার নিয়ম
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দিতে প্রথমে টেলিটক প্রি-পেইড সংযোগের মাধ্যমে এসএমএস করে নিবন্ধন করতে হয় এবং এরপর টেলিটক সৈনিক পোর্টাল থেকে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
আবেদন করার নিয়ম
এসএমএস এর মাধ্যমে নিবন্ধন: টেলিটক প্রি-পেইড সিম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এসএমএস পাঠিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন ও ফি (সাধারণত ৩০০ টাকা) জমা দিতে হয়। ফি জমা দেওয়ার পর একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাওয়া যায়।অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ: প্রাপ্ত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে টেলিটক সৈনিক পোর্টাল বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অফিসিয়াল ওয়েবসাইট প্রবেশ করে ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে।ছবি আপলোড: ৩০০*৩০০ পিক্সেলের রঙিন ছবি (সর্বোচ্চ ১০০ কেবি) আপলোড করতে হবে।প্রবেশপত্র প্রিন্ট: আবেদন সফল হওয়ার পর অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবেশপত্র প্রিন্ট করে নিতে হবে। যা পরীক্ষার দিন সঙ্গে রাখতে হয়।
আপডেট হালনাগাদ তথ্যের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা নিয়মিত প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে।
এমআইএইচ
বিজ্ঞাপন