ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগ চান অংশীজনরা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দেশে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলতে একটি ‘স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। তারা বলেন, এই গণমাধ্যম কমিশন গঠনের মাধ্যমে সরকার স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য এখন প্রয়োজন একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। কমিশন গঠনের আগে গণমাধ্যম মালিক, সম্পাদকীয় ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সম্পাদক, আইন বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিকতা বিষয়ের শিক্ষক, গণমাধ্যম উন্নয়ন সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া জরুরি। শনিবার (২৯ আগস্ট) যশোরের স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজ ও দৈনিক গ্রামের কাগজের যৌথ উদ্যোগে, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (আইএমএস), ডেনমার্কের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে এসব মত উঠে এসেছে। গণমাধ্যম সংস্কারে এমআরডিআইয়ের পাঁচ বছর মেয়াদি অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিকল্পনার আওতায় আয়োজিত সংলাপে বক্তারা বলেন, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে এর স্বাধীনতা, কাঠামো, ক্ষমতা ও জবাবদিহির বিষয়ে অংশীজনদের আস্থা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনটি এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন এটি একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষা ও পেশাগত মান নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে, অন্যদিকে জবাবদিহি ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করে। সংলাপের শুরুতে এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বর্তমান সরকার একটি স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে যে অঙ্গীকার করেছে এবং এ লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই এ প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যম অংশীজন ও নাগরিকদের মতামতকে বিবেচনায় নিতে হবে। ২০২৩ সালে বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনা এবং তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক ‘মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। হাসিবুর রহমান বলেন, খসড়া গণমাধ্যম কমিশন আইনে স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার যে ধারণা রয়েছে, সেটিকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এই কমিশন গণমাধ্যম খাতকে একটি সহায়ক কাঠামো দিতে পারে, যা সাংবাদিকতার পেশাদারত্ব নিশ্চিতের পাশাপাশি এই খাতের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারে ভূমিকা রাখতে পারে। গণমাধ্যমের মালিকানার ক্ষেত্রে সার্কুলেশন সংখ্যা প্রকাশ এবং অডিটে বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাঠকের আস্থা বাড়াতে হলে এসব প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জন্য একটি কার্যকর কোড অব কনডাক্ট প্রণয়নও গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে এমআরডিআইয়ের পক্ষ থেকে একটি উপস্থাপনায় স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রেক্ষাপট, এর প্রয়োজনীয়তা এবং কমিশনের কাছে বিভিন্ন অংশীজনের প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়। যেখানে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয় বরং এর স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও পেশাগত মানের মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করাই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ বলে জানানো হয়। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান এবং দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন, জনস্বার্থে সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে এখনই সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণের সময় এসেছে। এর মাধ্যমে একদিকে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত মান বজায় থাকবে, অন্যদিকে জনগণের সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকারও অক্ষুণ্ন থাকবে। শুধু একটি কমিশন গঠন করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না জানিয়ে কামাল আহমেদ বলেন, এর স্বাধীনতা, কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের নৈরাজ্যজনক অবস্থা সমাধান করতে এবং অপব্যবহার রোধে তিনি সাংবাদিকতার জন্য একটি নূন্যতম জাতীয় মানদণ্ড তৈরি এবং নীতি নৈতিকতার কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। নীতি সংলাপে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য, কমিশনের কাঠামো ও ক্ষমতা, স্বনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। যশোরের স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি শান্তনু ইসলাম সুমিত বলেন, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে আমরা আশাবাদী। তবে কমিশনকেও জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে। কমিশন যেন নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার ভূমিকা পালন করে এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের পেছনে সরকার ও গণমাধ্যম মালিক উভয়েরই দায় রয়েছে। ভালো সাংবাদিকতার জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান, বিজ্ঞাপন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করা এবং সাংবাদিকদের নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দৈনিক গ্রামের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মবিনুল ইসলাম মবিন স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন। কমিশন গঠনে জনমত তৈরিতে সবার অংশগ্রহণে এ ধরনের আলোচনা আরও হওয়া প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সভায় যশোরের স্থানীয় পর্যায়ের সম্পাদক, সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন একরাম-উদ-দ্দৌলা, সম্পাদক, দৈনিক কল্যাণ, যশোর; সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সভাপতি, যশোর আইনজীবী সমিতি; ফকির শওকত, সাবেক সভাপতি, প্রেস ক্লাব, যশোর; শাহিন ইকবাল, সাবেক অধ্যক্ষ, উপশহর ডিগ্রী কলেজ, যশোর; আহসান কবির বাবু, সম্পাদক, দৈনিক সুবর্ণভূমি, যশোর; ফারাজি আহমেদ সাঈদ বুলবুল, সাবেক সভাপতি, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন; আমিনুর রহমান মামুন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক সমাজের কথা, যশোর; সাজেদ রহমান বকুল, সভাপতি, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন; এসএম তৌহিদুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, প্রেসক্লাব যশোর; আকরামুজ্জামান আকরাম, সভাপতি, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর; শেখ দীনু আহমেদ, সভাপতি, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর; এলিন সাঈদ-উর রহমান, সহকারী পরিচালক, জেলা তথ্য অফিস, যশোর; বিথীকা সরকার, ব্যবস্থাপক, আইইডি, যশোর; এবং হাবিবা শেফা, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, যশোর। এমকেআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>