ব্রেকিং নিউজ
ছুটি নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরীর, কোথাও ২৪ ঘণ্টাই ডিউটি! সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত-আফগান সিরিজের সম্প্রচারস্বত্ব পাকিস্তানী সংস্থাকে দেয়ায় বিতর্ক সারা দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ১০ হাজার টাকা ভাতায় ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে বিআরটিসি মোটরসাইকেলে ‘অচেতন’ তরুণীর ছবি ভাইরাল, জানা গেল আসল ঘটনা ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা জমকালো আয়োজনে নবীনদের বরণ করে নিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু আমাদের ভাবমূর্তি মেধা ধ্বংস করতে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী 
জাতীয়

স্বামীর দেওয়া সোনার নেকলেস কেন বিক্রি করে দিয়েছিলেন ফাতেমা (রা.)?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
একদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের আদরের মেয়ে ফাতেমার (রা.) ঘরে ঢুকে দেখলেন, তার হাতে একটি সোনার নেকলেস। নেকলেসটি আলী (রা.) ফাতেমাকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। রাসুল (সা.) বললেন, ফাতেমা! তুমি কি পছন্দ কর যে, লোকেরা বলাবলি করবে, ফাতেমা রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মেয়ে, অথচ তাঁর কাছে আগুনের নেকলেস আছে! এই কথা বলে নবীজি (সা.) আর বসলেন না, বের হয়ে গেলেন। ফাতেমা (রা.) তখনই নেকলেসটি খুলে বাজারে পাঠিয়ে তা বিক্রি করালেন এবং ওই নেকলেস বিক্রির টাকা দিয়ে একজন ক্রীতদাস কিনে আজাদ করে দিলেন। পরে এ খবর শুনে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর শোকর, যিনি ফাতেমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেছেন। (সুনানে নাসাঈ, মুনযিরি ফিত-তারগিব ওয়াত-তারহিব) নারীদের জন্য সোনার অলংকার ব্যবহারের বিধান এই হাদিসটি পড়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে তবে কি নারীদের জন্য সোনা ব্যবহার করা হারাম? উত্তর হলো, না, হারাম নয়। ইসলামি আইন বিশারদদের মতে নারীদের জন্য সোনা ও রেশম ব্যবহার করা যে সম্পূর্ণ বৈধ ও জায়েজ এ ব্যাপারে পুরো উম্মতের ইজমা’ বা ঐকমত্য রয়েছে। পবিত্র কোরআনে সুরা যুখরুফে আল্লাহ তাআলা নারীদের ব্যাপারে বলেছেন, তারা ‘অলংকারে আবৃত হয়ে লালিত পালিত হয়’। (সুরা যুখরুফ: ১৮) রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের যুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কোনো ধরনের দ্বিমত ছাড়াই মুসলিম নারীদের সোনা পরিধান করা সর্বজনবিদিত। ইমাম নববী (রহ.) ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে লিখেছেন, সহিহ হাদিসসমূহের ভিত্তিতে ইজমা বা সর্বসম্মত মত হলো, নারীদের জন্য রেশম পরা, সোনা ও রুপার অলংকার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েজ। আরও পড়ুন হজরত ফাতেমার (রা.) ইন্তেকাল যেভাবে হয়েছিল হাদিসটির ব্যাখ্যা কী? তাহলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কেন ফাতেমার (রা.) সোনার চেইন দেখে এমন কঠোর মন্তব্য করেছিলেন এবং ফাতেমাই (রা.) বা কেন তা বিক্রি করে দিলেন? বিজ্ঞ আলেম ও মুহাদ্দিসগণ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: ১. হতে পারে হাদিসটি মানসুখ কিছু আলেমের মতে, ইসলামের প্রথম যুগে সোনা ব্যবহারের বিষয়ে যে কঠোরতা ছিল, এটি তখনকার ঘটনা। পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহর (সা.) বহু হাদিস দ্বারা নারীদের সোনা পরিধান জায়েজ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আগের কঠোরতা মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে। ২. সোনার অলংকারের জাকাত দেওয়া জরুরি অনেক আলেমের মতে, হাদিসে বর্ণিত শাস্তির হুঁশিয়ারি এমন সোনার অলংকারের ব্যাপারে যে অলংকারের জাকাত আদায় করা হয় না। আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই নারীর হাতে সোনার বালা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি পছন্দ করো যে আল্লাহ তোমাদের জাহান্নামের আগুনের বালা পরিয়ে দিন? তাঁরা বললেন, না। নবীজি (সা.) বললেন, তবে এর জাকাত আদায় করো। (মুসনাদে আহমদ) হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, অলংকারের জাকাত দেওয়া হলে তা ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। (বায়হাকি) ৩. অহংকার ও লোকদেখানো মানসিকতা না থাকা জরুরি অনেক মুহাদ্দিস বলেছেন, সোনা পরার কারণে যার মধ্যে অহংকার, লোকদেখানো ভাব বা আত্মগরিমা প্রকাশ পায়, তার ক্ষেত্রে এই হাদিসে বর্ণিত শাস্তির হুঁশিয়ারি প্রযোজ্য হবে। ৪. নবীজি (সা.) নিজের মেয়ের জন্য অপছন্দ করেছেন হতে পারে সাধারণভাবে সোনার অলংকার পরিধান করা জায়েজ হলেও নবীজি (সা.) নিজের মেয়ের জন্য এটা অপছন্দ করেছেন। তিনি চেয়েছেন নবী পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে ফাতেমা (রা.) খোদাভীতি ও দুনিয়াবিমুখতার ক্ষেত্রে সাধারণ মুমিনদের চেয়ে উঁচু মানদণ্ড অনুসরণ করুন। রাসুলুল্লাহর (সা.) সামান্যতম অপছন্দ বা অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্রই ফাতেমা (রা.) স্বামীর দেওয়া প্রিয় অলংকারটি ত্যাগ করেন। সেই অর্থ দিয়ে একজন মানুষকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বিনিময়ে তিনি পান আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং মহানবীর (সা.) মুখ নিঃসৃত পরম আশীর্বাদ। আরও পড়ুন সচ্ছলতার জন্য ফাতেমাকে (রা.) যে দোয়া পড়তে বলেছিলেন নবিজি (সা.) ওএফএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>