বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০২৮ সাল থেকে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারের মনিটরিংয়ের বাইরে থাকতে পারবে না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে এ নজরদারি জোরদার করা হবে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে রংপুর পিটিআই সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, কে বা কার সন্তানকে কোথায় পড়াতে চান, সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। আমাদের দেখার বিষয় হলো—শিক্ষার্থীরা যেন সঠিক শিক্ষাটা লাভ করে। সরকারি প্রাথমিকের মান উন্নয়ন হলে অভিভাবকরা সন্তানদের এসব বিদ্যালয়ে পড়াতে আগ্রহী হবেন। পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীরা যেন সঠিক শিক্ষা পায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আগামী বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন বিশ্বমানের হয়, প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন সঠিক নৈতিক শিক্ষা ও সঠিক মেধাভিত্তিক শিক্ষা নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারে, সেটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢালাওভাবে সাজাচ্ছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুলের সময় নিয়ে আমরা শক্তভাবে চিন্তা করছি। প্রথম শিফটের স্কুল কত ঘণ্টার হবে আর দ্বিতীয় শিফটের স্কুল কত ঘণ্টার হবে, বৈষম্য থাকবে কি থাকবে না, এগুলো নির্ধারণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের শক্তভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। কোন শ্রেণির জন্য কত ঘণ্টা পাঠদান প্রয়োজন হবে, সেটি হিসেব করে আগামীতে স্কুলের ক্লাস নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে আমাদের শক্ত নির্দেশনা রয়েছে।
কোচিং-বাণিজ্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকদের পে-স্কেল, মর্যাদা, প্রধান শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ও মর্যাদা এবং পদোন্নতির সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয় নতুন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নতুন নীতিমালা নিয়ে সবাই আশাবাদী হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রংপুরে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে এখানে শিক্ষকদের কোনো প্রশিক্ষণ কোর্স হচ্ছে না। এটি আগের সরকারের দুর্বলতার ফল। এখন নতুনভাবে কাজ করা হচ্ছে। শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আগামী দিনে ইউপিডিসির মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। অতি শিগগিরই ইউপিডিসিগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসীসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জিতু কবীর/কেএইচকে/এএসএম
বিজ্ঞাপন