সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২৮ বছর পর নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন ভাঙন ও আইনি লড়াইয়ের মুখে প্রতীকটি স্থগিত করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ফলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার দুটি শূন্য আসনের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে লড়তে হবে নতুন নাম ‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’ ও নতুন প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ নিয়ে।
এ বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০৮টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হন। বিপরীতে তৃণমূল পায় মাত্র ৮০টি আসন। এই শোচনীয় পরাজয়ের পর দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের এক পর্যায়ে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন বিধায়ক মমতার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে দল ছাড়েন।
বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী ৬৫ জন বিধায়ক পাল্টা তৃণমূল গড়ে তোলেন এবং বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পান। সেখানে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন ঋতব্রত নিজেই।
পরবর্তী সময়ে বিবদমান উভয় পক্ষই নিজেদের মূল তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে দলের ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকের ওপর অধিকার দাবি করে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ভারতের নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ায়। ১২ ও ১৭ সেপ্টেম্বর দিল্লির নির্বাচন সদরে উভয় পক্ষের ১০ জন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কমিশনের ফুল বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে গতকাল রাতে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানায়। একই সঙ্গে আসন্ন উপনির্বাচনে উভয় পক্ষকে বিকল্প নাম ও প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নির্দেশ দেয়।
কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ সকালে উভয় পক্ষই নতুন নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব পাঠায়। মমতার পক্ষ থেকে তিনটি নাম ও দুটি প্রতীকের প্রস্তাব করা হয়েছিল। নামগুলো ছিল—‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’ ও ‘সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’। আর প্রতীকের তালিকায় ছিল ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ ও ‘ব্যাট’। নির্বাচন কমিশন মমতার দলের জন্য ‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ করে। একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়, মমতার পক্ষ আর ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি ব্যবহার করতে পারবে না।
অন্যদিকে ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন অংশটি তাদের প্রস্তাবিত তিনটি নামের মধ্যে ‘জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’ জমা দেয়। প্রতীকের বিকল্প হিসেবে চেয়েছিল খাম, ব্ল্যাকবোর্ড ও টর্চ। নির্বাচন কমিশন তাদের দলের নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘খাম’ বরাদ্দ করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজেই দলের প্রতীক হিসেবে এঁকেছিলেন জোড়া ফুল। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে মমতা ও তৃণমূলের অবিচ্ছেদ্য পরিচয় হয়ে থাকা সেই জোড়া ফুল প্রতীক এবার রাজ্য রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে সাময়িকভাবে হলেও হারিয়ে গেল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>