বিজ্ঞাপন
ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় খুব শিগগির হামলা চালানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিরতি দিয়ে দিয়ে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধ বলা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘সামরিক সংঘাত’ শব্দটি ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানান।
ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলেন না। আমিও এটিকে সামরিক সংঘাত বলি। কারণ, এটি আমাদের জন্য ছোটখাটো বিষয়। এটি বড় কোনো ব্যাপার নয়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানে হামলার আগে কয়েক দিন সেখানে বড় ধরনের কোনো লড়াই হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিত বিরতির পরপর হামলা চালাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, জলপথটির নিরাপত্তায় থাকা ইরানের রাডার, উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি মাইন অপসারণকারী জাহাজের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে থাকা মাইন সরানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
‘পিকঅ্যাক্স’ নিয়ে উদ্বেগ
ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ সেখানে কারা যাতায়াত করছে এবং স্থাপনাটিতে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিকঅ্যাক্স ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। পাহাড়ের শত শত মিটার পুরু গ্রানাইট স্তরের নিচে সেখানে দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, ওই স্থাপনায় গোপনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কার্যক্রম থাকতে পারে। তবে ইরানের দাবি, সেখানে উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরি ও সংযোজন করা হয়।
গভীর ভূগর্ভে অবস্থানের কারণে স্থাপনাটি ধ্বংস করা কঠিন বলে মনে করা হয়। এ কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের দাবি
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রেখেছে। তাঁর ভাষ্য, এর ফলে ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য আরও নিরাপদ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তারা (ইরান) পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। আমরা সেটিই করেছি। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’
চলমান সংঘাত কখন শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি ট্রাম্প। তবে তাঁর দাবি, সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয়টি অর্জন করেছি—ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরান থেকে সরে গেলেও দেশটির অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে তেহরানের প্রায় ২৫ বছর সময় লাগবে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিজ্ঞাপন