বিজ্ঞাপন
ইরানের সঙ্গে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই ব্যয় প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার করে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় প্রতিষ্ঠান কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সিবিওর হিসাবের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি আরও ০.৫ শতাংশ বাড়তে পারে।
যুদ্ধের ব্যয়ের বড় অংশই এসেছে দ্রুত বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে। এসব অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে সিবিও জানিয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্ত্রের ঘাটতির এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলা ছিল মার্কিন সেনা ও স্বার্থ রক্ষায় ‘সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ’। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মজুত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেলও অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সময় ও স্থানে হামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে মার্কিন অস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি মূল্যও বেড়েছে। এতে অন্য সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চীন-তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতি পেন্টাগনের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে সিবিও সতর্ক করেছে।
যুদ্ধের ব্যয়ের এই হিসাবের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যুদ্ধের জন্য নেওয়া ঋণের সুদ ও অর্থায়ন ব্যয়ও এতে ধরা হয়নি। এসব খরচ যুক্ত হলে মোট ব্যয় আরও কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।
সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির শত শত ভবন এবং যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণও বাড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, আগস্টে দেশটির মোট সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন