সারাদেশ

ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ কি যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটা?

b
bd24live অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার চেয়ে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কীভাবে এই সংঘাতের সমাপ্তি টানা যায়। ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযান কয়েক মাস ধরে চললেও ঘোষিত সর্বোচ্চ লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়নি বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। মেহর নিউজ এজেন্সির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও কোনো দেশের রাজনৈতিক কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা ভিন্ন বিষয়। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষক কর্নেল ড্যানিয়েল ডেভিসের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরান যুদ্ধ থেকে কথিত ‘বিজয়’ নিয়ে বের হতে চান, তাহলে শুধু সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো যথেষ্ট নয়। ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বন্ধ করার মতো লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। তবে এমন ফল চাপিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেই বলে মনে করেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যয়ও বাড়ছে। মার্কিন কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) হিসাব অনুযায়ী, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান-সংক্রান্ত সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এ ব্যয় প্রতি মাসে গড়ে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার করে বাড়ছে। মার্কিন ওয়ার ডিপার্টমেন্টের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে গোলাবারুদের ঘাটতি এবং উৎপাদন ও পুনরায় মজুত করার সক্ষমতার ওপর চাপের কথাও উঠে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ সংঘাতটি কার্যত পারস্পরিক ক্ষয়যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরান ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক ব্যয় এবং রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। সিআরএস ওয়াশিংটনের সামনে চারটি সম্ভাব্য পথের কথা উল্লেখ করেছে—বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখা, যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো, সামরিক অভিযান আরও বাড়ানো অথবা বিস্তৃত কোনো চুক্তিতে আলোচনা করা। মেহর নিউজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি অংশ দুর্বল করাই যদি যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হয়, তাহলে ওয়াশিংটন সামরিক সাফল্যের দাবি করতে পারে। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা, রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন এবং নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মতো সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জন করতে চাইলে সামরিকভাবে যা করা সম্ভব এবং রাজনৈতিকভাবে যা অর্জন করা সম্ভব—এই দুটির মধ্যে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই ব্যবধান কমার নিশ্চয়তা নেই। বরং হামলা বাড়ালে ইরানের ওপর ক্ষয়ক্ষতি বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ও বাড়বে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিলেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনার কথা বলেছিলেন। এ পরিস্থিতিতে ‘পিছু হটা’ বলতে শুধু অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার বোঝায় না। বরং যুদ্ধ বন্ধ করার এমন একটি রাজনৈতিক কৌশল বের করাই মূল বিষয়, যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি পরাজয় স্বীকার না করেও সামরিক অভিযান বন্ধ করতে পারে এবং কোনো চুক্তি বা নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে। মেহরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাই ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন মূল প্রশ্ন শুধু আরও হামলা চালানোর সামর্থ্য আছে কি না—তা নয়। বরং সেই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল এনে দিতে পারবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। সর্বোচ্চ সামরিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব না হলে ওয়াশিংটন সরাসরি যুদ্ধের বদলে আলোচনা, নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণের মতো চাপ প্রয়োগের পদ্ধতিতে যেতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>