বিজ্ঞাপন
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নবীরন বেগম (৫৫) নামে এক নারীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ধানক্ষেতে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, তাঁর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার অভিযোগও উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দীন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার পুকুরপাড়ের আখক্ষেতের পাশে কলাগাছের নিচ থেকে নবীরন বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী।নবীরন বেগমের মৃত্যু নিয়ে তাঁর ভাই আবজাল শেখের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হওয়া একটি বক্তব্য নিয়েও এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার বোন মারা গেছে, এলাকার সবার সম্মিলিত চেষ্টার সিদ্ধান্তে ৪ লাখ টাকায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে। আমরাও তা মেনে নিয়েছি। আমরা চাই না আমার বোনের লাশ কাটাছেঁড়া হোক।’বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া মণ্ডল হ্যাচারীজ সংলগ্ন জামে মসজিদে নবীরন বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হেফাজতে নেয়। এরপর ঘটনাস্থল দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দীন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার পুকুরপাড় ও আখক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড় ও পাশের আখক্ষেত কারেন্টের তার দিয়ে ঘেরা। আখক্ষেতের ভেতরে মরদেহ উদ্ধারের স্থানেও একটি গর্ত রয়েছে। পুকুরপাড়ের পাশেও মরদেহ পুঁতে রাখার জন্য গর্ত করা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রফিকুল মৃধার বাড়ির পাশের আখক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাঁকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধারের সময় নবীরন বেগমের পায়ে কাপড় প্যাঁচানো ছিল এবং শরীরের অর্ধেক মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।অভিযুক্ত আবু তালেব বেপারী ও আবজাল শেখ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করলেও ইচমাইল বেপারী তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।নিহতের ছেলে রাসেল শেখ বলেন, ‘আমার মা আমাদের ধানক্ষেতে কাজ করার সময় সেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে পারি, স্ট্রোক জনিত কারণে নবীরন বেগমের মৃত্যু হয়েছে। যার কারণে গতকাল মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। আজ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি, তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন। কাজেই আজ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে নবীরন বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
বিজ্ঞাপন