বিজ্ঞাপন
আর্জেন্টিনার জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
বিশ্বকাপের ফাইনালের পর দীর্ঘ সময় ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মেসি। তাঁর ভাষায়, জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তটি নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের হলেও এখন তিনি মনে করছেন, সরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়।
মেসি বলেন, জাতীয় দলের জার্সির জন্য তিনি সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েছেন। শুধু সাম্প্রতিক সাফল্যের সময় নয়, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার হয়ে লড়াই করেছেন দেশের মানুষকে আনন্দ দিতে এবং ফুটবলের মাধ্যমে তাদের গর্বিত করতে।
আবেগঘন বার্তায় মেসি আরও জানান, জাতীয় দলের হয়ে খেলার অধ্যায় শেষ হয়ে আসছে—আর এই অধ্যায়টি বন্ধ করার ভাবনাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাকে তিনি ভালোবেসেছেন, ভালোবাসেন এবং ভবিষ্যতেও ভালোবেসে যাবেন। তবে তাঁর মনে হয়েছে, নিজের দেওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসছে, যারা জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।
গত দুই দশকে সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে মাঠে থেকে সমর্থকদের গর্জন শোনার অভিজ্ঞতা তিনি ভীষণভাবে মিস করবেন বলেও জানান। এখন থেকে একজন সাধারণ সমর্থকের মতো মাঠের বাইরে থেকে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করবেন—সাফল্যের সময়ে যেমন, কঠিন সময়েও তার চেয়েও বেশি।
নিজের পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও দলের কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তাঁদের সঙ্গে কাটানো সময় থেকে পাওয়া অসংখ্য স্মৃতি ও মুহূর্ত আজীবন সঙ্গে রাখবেন বলে জানান তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে পাওয়া অর্জনের দিকে ফিরে মেসি বলেন, সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের এমন কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছেন, যা একসময় স্বপ্নের মতো ছিল। সেই পথচলার অংশ হতে পারাকে তিনি অসাধারণ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শেষে নিজেকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেসি লিখেছেন—‘এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা।’
মেসির বিদায়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটল। ২০২২ বিশ্বকাপসহ আন্তর্জাতিক ফুটবলে একাধিক বড় শিরোপা এনে দেওয়া এই মহাতারকা দুই দশকের বেশি সময় ধরে ছিলেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতীকগুলোর একজন।
বিজ্ঞাপন