বিজ্ঞাপন
পাকিস্তানকে কবর দিয়ে আমরা বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছি বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, আমি পাকিস্তানকে ঘৃণা করি না।
এখন একটা বিতর্ক তৈরি হইছে—জিন্নাহ নাকি আমাদের দেশ বানায়ে দিছে? না! মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে আমি ছোট মনে করি না।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্পর্কে ফজলুর রহমান বলেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৮৭৬ সালে বোম্বেতে জন্মগ্রহণ করেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯০৯ সালে প্রথম চেমস মন্টেগুর মাধ্যমে যে আইন হয়েছে তার মাধ্যমে সে মুম্বাই থেকে পার্লামেন্ট সদস্য হয়েছে।
তার বাড়ি মুম্বাই। মুম্বাই তখন গুজরাট ছিল। এখন যেখানে মোদি ও অমিত শাহের বাড়ি। সেই গুজরাটের একটা খোজা পরিবারে, যারা মাছ বিক্রি করত।
তাদেরকে বলা হতো গুঞ্জা। হি ওয়াজ এ হিন্দু। আমি তাকে অশ্রদ্ধা করতেছি না। এখন মাছ বিক্রি করত বলে ব্রাহ্মণরা তাদের ঘৃণা করত। তাই মুসলমান হয়ে গেছে।
তার ঘরের সন্তান হলো মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তিনি বাপের বেটার মতো মাত্র ১৬ বছর বয়সে এন্ট্রান্স পাস করে ২২ বছর বয়সে ব্যারিস্টার হয়েছে জিন্নাহ। জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের লখনৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯২৯ সালে তাঁর ঘোষিত ১৪ দফায় মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক দাবি ছিল। ১৪ দফা দিল, হিন্দু-মুসলমান দুই জাতি করল, জিন্নাহ একটা পাকিস্তান বানাইল।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাঙালি নেতাদের ভূমিকার প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান আমরা সবাই মিলেই বানাইছিলাম, আমরা তো অস্বীকার করি না। কিন্তু বানাইয়া যখন দেখলাম পাকিস্তান ভালো না, তখন ৫২ সালেই আমরা ফাইট শুরু করলাম।
বিজ্ঞাপন