বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কাজ করা বিদেশি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরি খুঁজতে যে ৬০ দিন সময় পান, সেই সুযোগ বাতিল হয়ে যাবে। ফলে চাকরি হারানোর পর এইচ-১বি ভিসাধারীদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে।
এছাড়া এইচ-১বি ভিসাধারীদের পাশাপাশি আরও কয়েক ধরনের ভিসাধারীও এর আওতায় পড়বেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অনলাইনে প্রকাশিত সরকারি এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বিদেশি দক্ষ কর্মী নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনের কথা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, এইচ-১বি ও আরও কিছু অস্থায়ী কর্ম ভিসাধারীর চাকরি শেষ হয়ে গেলে তাদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে।
৪০ সেকেন্ডে ৩ প্রশ্ন, অতঃপর ভারতীয় নাগরিকের মার্কিন ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর বৈধ অভিবাসন সীমিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, এটি তার সর্বশেষ উদ্যোগ। এর আগে দক্ষ কর্মীদের জন্য ভিসার ফি বাড়ানো হয়েছিল। সম্প্রতি নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতির কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মার্কিন মিশনে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ডিএইচএস বলেছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কারণে যেসব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তবে তাদের মতে, এসব চাকরি আমেরিকান কর্মীদের দেয়া সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়া বিদেশি কর্মীরা তাদের নিয়োগকর্তা নতুন করে আবেদন করলে আবারও কাজের জন্য দেশটিতে ফিরতে পারবেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, কর্মীদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো একই পদে সমান যোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগ করবে অথবা আই-১২৯ আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। মূলত এটাই ডিএইচএসের ধারণা।
মার্কিন ভিসা পেতে একের পর এক ডাকাতির নাটক, আটক ১১ ভারতীয়২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা ৬০ দিনের এই সুযোগের ফলে চাকরি হারানোর পর বিদেশি কর্মীদের নতুন চাকরি খোঁজার সময় দেয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে বাড়ি বিক্রি করা বা সন্তানদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার মতো প্রয়োজনীয় কাজ গুছিয়ে নেয়ারও সুযোগ পান তারা।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস স্কুল অব ল-এর অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল চিন বলেন, ‘অনেক এইচ-১বি কর্মী বছরের পর বছর ধরে এখানে আছেন। তারা ও তাদের পরিবার নিজেদের বসতি ও সমাজ গড়ে তুলেছেন। শুধু চাকরি পরিবর্তন করছেন বলে তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য করার কোনো যুক্তিসংগত কারণ আমি দেখি না।’
১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস এইচ-১বি ভিসা চালু করে। ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই ভিসা গুরুত্বপূর্ণ। যেসব পদে যোগ্য মার্কিন কর্মীর ঘাটতি রয়েছে, সেসব পদে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয় এই ভিসা।
বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য মার্কিন ভিসার নতুন নিয়মডেলয়েট, পিডব্লিউসি ও আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসার বড় স্পনসর।
ব্যবসায়িক অভিবাসন বিষয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল-এর আইনজীবীরা বলেছেন, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিদেশি কর্মীদের ছাঁটাই ও চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া সামলাতে মানবসম্পদ বিভাগগুলোর হাতে থাকা সময় অনেক কমে যাবে।
অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এফডব্লিউডি.ইউএসের প্রেসিডেন্ট টড শুল্টে বলেন, ‘মনে হচ্ছে, প্রতি সপ্তাহেই এই প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠান ও জনগোষ্ঠীর জীবন আরও কঠিন করে তুলতে নতুন কোনো পদক্ষেপ ঘোষণা করছে।’
মার্কিন ভিসায় বড় পরিবর্তনের আভাস, আসছে নতুন নিয়মপ্রস্তাবটি কার্যকর হলে শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীরাই নয়, আরও কয়েক ধরনের ভিসাধারীও এর আওতায় পড়বেন। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের জন্য ই-১ ভিসা, বাণিজ্যিক যানবাহন পরিচালকদের জন্য ই-২ ভিসা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী বা ব্যবস্থাপকদের জন্য এল-১ ভিসা, বিজ্ঞান, ক্রীড়া বা শিল্পকলায় ‘অসাধারণ দক্ষতা’ থাকা ব্যক্তিদের জন্য ও-১ ভিসা এবং টিএন ভিসাধারী পেশাজীবীরা।
এ ছাড়া সিঙ্গাপুর ও চিলির দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি১ ভিসা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষায়িত কর্মীদের জন্য ই-৩ ভিসাধারীরাও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় পড়বেন। তবে নিয়মটি চূড়ান্ত করার আগে দুই মাস ধরে জনসাধারণের মতামত নেয়া হবে।
বিজ্ঞাপন