সারাদেশ

শিশু কলি হত্যা: রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল সেই মোস্তফা

b
bd24live অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ১০ বছরের কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি তদন্ত কর্মকর্তার। গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, ঘটনার দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলি তার ভাইকে নিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানে চিপস কিনতে যায়। ওই সময় মোস্তফা তার মোবাইলে শিশুটির একাধিক ছবি তোলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে সন্ধ্যায় কলি মোস্তফার দোকানের সামনে একটি বেঞ্চে বসে ছিল। মাগরিবের নামাজ শেষে মোস্তফা তাকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে রিমান্ডে মোস্তফা জানিয়েছেন। পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর মোস্তফা মরদেহ বস্তাবন্দি করে গোপন করার চেষ্টা করেন। ওই রাতেই প্রায় ১০টার দিকে তিনি আবার নিজের মুদি দোকান খোলেন এবং রক্তমাখা শরীরে গোসল করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজের পর পরিবারের সঙ্গে খোঁজার নাটকতদন্ত কর্মকর্তা বেনু রায় বলেন, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর কয়েক দিন ধরে মোস্তফা নিহত শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিশে ছিলেন। এমনকি গভীর রাতে মোবাইল ফোনে কলির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার খোঁজখবরও রাখতেন। শিশুটির সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও তিনি অংশ নেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও তিনি ঘটনাস্থলে সাংবাদিক ও পুলিশের পাশে অবস্থান করছিলেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা। পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের একপর্যায়ে মোস্তফার নাম সামনে আসে। তাকে আটক করতে গেলে তার আচরণেও পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। মোবাইলে মিলেছে আপত্তিকর ছবিতদন্ত কর্মকর্তা জানান, মোস্তফার মোবাইল ফোনে তার দোকানে আসা বিভিন্ন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা ছবি পাওয়া গেছে। এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হত্যার পর মোস্তফা তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং তিনি শুধু মরদেহ গোপন করার কাজে সহযোগিতা করেছেন। অন্যদিকে মোস্তফা দাবি করেছেন, তারা দুজন মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন। দুই আসামির বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় একজন নাকি দুজন জড়িত ছিলেন, তা ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনের পর স্পষ্ট হবে। নিহত শিশুর আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কয়েকটি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। মোস্তফার স্বীকারোক্তির পর নির্ধারিত সময়ের আগেই রিমান্ড শেষ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>