বিজ্ঞাপন
আমিরুল ইসলাম, নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরান কেবল আত্মরক্ষা করছে এবং চাপের মুখে কখনো মাথা নত করবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি জানিয়েছেন, শক্তি প্রয়োগের ভাষা মেনে না নিলেও আলোচনা ও কূটনীতির জন্য তেহরান প্রস্তুত।
বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের শিকার’। চলমান যুদ্ধের মধ্যে জাতিসংঘের মঞ্চে দেওয়া তার এই ভাষণে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের বিরুদ্ধে ইরানে হামলার অভিযোগ তোলা হয়।
ভাষণের সময় পেজেশকিয়ান প্রয়াত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং যুদ্ধের শুরুর দিকে নিহত ইরানি স্কুলশিক্ষার্থীদের ছবি তুলে ধরেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ কেবল নিজেদের রক্ষা করেছে। ইরান সন্ত্রাসী নয় দাবি করে তিনি বলেন, নিরীহ ইরানিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং এর জবাবে তার দেশ সর্বশক্তি দিয়ে আত্মরক্ষা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রসঙ্গ তুলে পেজেশকিয়ান বলেন, হামলা চালানো হলেও ইরান মাথা নত করেনি। ভাষণের শেষ দিকে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ট্রাম্প এবং যারা ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চান, তাদের বুঝতে হবে—তেহরান আলোচনা, কূটনীতি ও সমঝোতার জন্য প্রস্তুত; তবে শক্তি প্রয়োগ বা হুমকির ভাষা মেনে নিয়ে নয়।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এর সমালোচনা করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বা মানবাধিকার নিয়ে অন্যদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তেহরানের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ।
পেজেশকিয়ানের ভাষণের এক দিন আগে একই মঞ্চে বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন তিনি।
তবে একই দিনে কূটনৈতিক তৎপরতার খবরও সামনে আসে। ট্রাম্প জানান, তার দুই শীর্ষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার প্রায় তিন ঘণ্টা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বৈঠকটিকে ‘খুব ভালো’ বলে বর্ণনা করলেও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তেহরান অবশ্য ওই যোগাযোগের গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে হওয়া ওই আলোচনায় নতুন কিছু ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।
এক বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থেমে থেমে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির আশপাশে হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় কম রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের বার্তা, অন্যদিকে শর্তসাপেক্ষে আলোচনার দরজাও খোলা রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন