বিজ্ঞাপন
অপ্রিতম ও গণপতি চক্রবর্তী পরিবারসহ সকল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দেশে নাগরিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করার দাবিতে আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফোরাম।
উক্ত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সনজিত কুমার দে, ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং শাক, সহ সভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী, আল আমিন, মোস্তফা আমিন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মেহেদী হাসান রিয়াদ, মোঃ জসিম মিয়া, স্বপন কুমার সাহা প্রমুখ।
সুরঞ্জন ঘোষ বলেন, অপ্রিতম ও গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো সহিংস অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরী। কোনো অপরাধীর দায় তার ধর্মীয়, সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি কোনো পরিচয়ের কারণে অপরাধীর প্রতি ছাড় দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদ দ্বারা বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসন্ত্রাস, সহিংসতা, গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার সমাজে বিভাজন ও অনিরাপত্তা সৃষ্টি করে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কার্যকর ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই—বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধন থেকে ফোরামের দাবিসমূহ
১. প্রকৃত অপরাধী ও তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
২. হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বা উসকানি থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা উদঘাটন করতে হবে।
৩. অগ্নিসন্ত্রাস, সহিংসতা, গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. ধর্ম—বর্ণ—সম্প্রদায় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. কোনো অপরাধের দায় কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দিয়ে সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
৬. আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সুরঞ্জন ঘোষ আরও বলেন, “আমরা হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই, অপরাধীর বিচার চাই। কিন্তু কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে দায়ী করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধী যে পরিচয়েরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা।”
তিনি আরও বলেন, “অপশক্তির উত্থান, অগ্নিসন্ত্রাস ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মত ও বিশ্বাসের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে।”
বাংলাদেশ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফোরাম দেশের সর্বস্তরের শান্তিপ্রিয় নাগরিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে ন্যায়বিচার, নাগরিক নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের পক্ষে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন