বিজ্ঞাপন
হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীসহ দেশের সব সম্প্রদায়ের সমস্যা ও প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই সরকারের নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ধর্মমহাসম্মেলন ও সুধী সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে চার দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথম দিনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমস্যাগুলোকে আমরা আলাদা করে দেখি না। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীসহ সব সম্প্রদায়ের সমস্যা ও প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই সরকারের নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, মসজিদ ও মন্দিরে অনুদানের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সহায়তার পাশাপাশি মন্দিরের পুরোহিতদেরও অনুদান দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের উদ্যোগ আগে নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম-বর্ণের কোনো বিষয় নেই। নির্ধারিত যোগ্যতার আওতায় যেসব পরিবার পড়বে, তারাই এসব কার্ডের সুবিধা পাবে।
তিনি বলেন, ‘এটি পরিবর্তনের সূচনা, শেষ নয়। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
বর্তমান সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য ক্ষমতায় আসেনি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেক দিন পর বাংলাদেশে একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে, যেখানে সব সম্প্রদায় ও শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
সমাজে বিভেদ ও অবক্ষয় দূর করতে সময় লাগবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিগত দিনের পরিস্থিতি একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
সামাজিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু বলেন, সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি ছাড়া কোনো দেশই প্রকৃত অর্থে সামনে এগিয়ে যেতে পারে না।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, সরওয়ার জামাল নিজাম, ভারতীয় হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।
মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম কৈবল্যধাম আশ্রমের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ কালীপদ ভট্টাচার্য।
জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু। সঞ্চালনা করেন কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ।
এ ছাড়া ধর্মতত্ত্ববিদ অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী, অধ্যাপক রুপন ধর, উত্তম কুমার চক্রবর্তী, লায়ন তপন কান্তি দাশ, অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি ও প্রকৌশলী আশুতোষ দাশসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের নেতারা আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। এর আগে টেলিভিশন ও বেতারের শিল্পীদের অংশগ্রহণে গান ও নৃত্যের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন