বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপের মঞ্চে বাঁশি বাজানোর স্বপ্নটা আপাতত পূরণ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ হারিয়েছেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আর্তান। কিন্তু সেই হতাশা তাকে থামাতে পারেনি। বরং মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
ইউরোপের বাইরে জন্ম নেওয়া প্রথম রেফারি হিসেবে আগামী ১২ আগস্ট পিএসজি ও অ্যাস্টন ভিলার মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উয়েফা সুপার কাপের ম্যাচ পরিচালনা করতে যাচ্ছেন আর্তান। ৩৪ বছর বয়সী এই রেফারির গল্প যেন বাধা পেরিয়ে স্বপ্ন ছোঁয়ার এক অনন্য উদাহরণ।
গত দেড় বছর আর্তানের ক্যারিয়ারে ছিল অসাধারণ উত্থানের সময়। প্রথম সোমালিয়ান হিসেবে তিনি কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল পরিচালনা করেন। এরপর জেতেন ২০২৫ সালের সিএএফ বর্ষসেরা পুরুষ রেফারির পুরস্কার। সেই ধারাবাহিকতায় জায়গা করে নেন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত রেফারিদের তালিকায়।
কিন্তু বিশ্বকাপের স্বপ্নে বড় ধাক্কা আসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায়। ফলে আসরে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেননি তিনি।
আর্তান বলেন, ‘এটি খুব কঠিন সময় ছিল। অনেক মানুষ আমার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন। কেউ বহু বছর ধরে পরিশ্রম করে কোনো কিছু করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পর যখন সেটি করতে পারে না, তখন বিষয়টি খুবই কঠিন। তবে সারা বিশ্ব থেকে যে সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
তবে হতাশার মধ্যেই নতুন সুখবর আসে। ২০২৬ উয়েফা সুপার কাপে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচে দায়িত্ব পালন করে উয়েফা সুপার কাপের ইতিহাসে প্রথম ইউরোপের বাইরের রেফারি হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বেন এই সোমালিয়ান।
সিএএফ সভাপতি পাত্রিস মোটসেপে আর্তানের নিয়োগকে আফ্রিকান রেফারিদের জন্য বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এটি ফুটবলের মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করার একটি চমৎকার উদাহরণ।
আর্তানের জীবনের পথটাও সহজ ছিল না। অল্প বয়সেই বাবাকে হারান তিনি। মায়ের কাছ থেকেও দীর্ঘ সময় আলাদা থেকে বড় হয়েছেন। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই শুরু হয় তার রেফারিংয়ের যাত্রা। ছোটখাটো পাড়ার ম্যাচ দিয়ে শুরু করে স্কুলের প্রতিযোগিতা, এরপর সোমালিয়ার লিগ-এভাবেই ধাপে ধাপে উঠে এসেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক ম্যাচ কর্মকর্তাদের তালিকায় জায়গা পান আর্তান। এরপর ২০২৪ সালে প্রথম সোমালিয়ান রেফারি হিসেবে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে ম্যাচ পরিচালনা করেন। একের পর এক বাধা পেরিয়ে তার ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছে নতুন নতুন ইতিহাস।
সুপার কাপে নিজের প্রথম ইউরোপীয় ম্যাচ নিয়ে উচ্ছ্বসিত আর্তান। তিনি বলেন, ইউরোপে প্রথম ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ তার জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা হবে। একই সঙ্গে সিএএফ ও উয়েফার মধ্যে রেফারিং নিয়ে সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
সুপার কাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দুই দলের খেলার ধরন, কৌশল, আচরণ ও খেলোয়াড়দের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করছেন তিনি। জুনের শেষ দিকে কুয়েতি প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচও পরিচালনা করেছেন, সেটিও ছিল তার ক্যারিয়ারের আরেকটি ‘প্রথম’ অভিজ্ঞতা।
তবে আর্তানের সবচেয়ে বড় বার্তা তরুণদের জন্য। নিজের জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যদি সফল হতে পারি, তাহলে যে কেউ সফল হতে পারে। তুমি যা করতে চাও, তা করতে পারো। কখনো স্বপ্ন দেখা বন্ধ করো না।’
রেফারি হতে আগ্রহীদের উদ্দেশে তার পরামর্শ, প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা, দক্ষতা বাড়ানো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ন্যায্য ও ধারাবাহিক থাকা। বাধা যতই আসুক, নিজের লক্ষ্য থেকে সরে না যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
আরআর/এমএমআর
বিজ্ঞাপন