জাতীয়

ইলিয়াস কাঞ্চনের চিকিৎসায় মিললো সুখবর

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’র (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের চিকিৎসায় মিলেছে সুখবর। দীর্ঘ দেড় বছর লন্ডনে চিকিৎসা শেষে গত ৩ আগস্ট দেশে ফিরেছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে মাত্র ১০ দিন সময় কাটিয়ে ১২ আগস্ট আবারও চিকিৎসার জন্য লন্ডনে ফিরে গেছেন এই অভিনেতা। দেশে ফেরার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ইলিয়াস কাঞ্চন নাকি অনেক কিছুই মনে করতে পারছেন না। তবে তার পারিবারিক চিকিৎসক রুবাইয়াত রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। ইলিয়াস কাঞ্চনের স্মৃতিশক্তি এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। বরং চিকিৎসার সর্বশেষ পরীক্ষায়ও টিউমার বাড়ার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞ রুবাইয়াত রহমান ইলিয়াস কাঞ্চনের চিকিৎসার সময় লন্ডনে ছিলেন। ৩ আগস্ট অভিনেতা দেশে ফেরার পর তিনিও ঢাকায় ফেরেন। ইলিয়াস কাঞ্চনের বর্তমান শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন এই অভিনেতা। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছেন। এমনকি তার সঙ্গে নামাজও পড়েছেন চিকিৎসক। রুবাইয়াত রহমান বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন তার জীবনযাত্রা, চালচলন এমনকি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকমতো পড়ছেন। আমি নিজে তার সঙ্গে নামাজ পড়েছি। তিনি ইমামতি করেছেন। তার খাবারদাবারে কোনো বাধা বা সমস্যা নেই।’ ইলিয়াস কাঞ্চনের ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা প্রসঙ্গে চিকিৎসক জানান, মস্তিষ্কের যে স্থানে টিউমারটি রয়েছে, সেখানে পৌঁছানো বেশ কঠিন। তবে সময়মতো যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শুরু করায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারের বড় একটি অংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পরে তাকে টার্গেটেড কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আশার খবর এসেছে তার সর্বশেষ সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে। দেশে ফেরার ১০-১৫ দিন আগে লন্ডনে করা ওই সিটি স্ক্যানে টিউমার বাড়ার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকের মতে, এটি ইলিয়াস কাঞ্চনের চিকিৎসায় ইতিবাচক দিক। আরও পড়ুন আল্লাহ যেন আমার অতীতের সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেন: লুবাবা রুবাইয়াত রহমান বলেন, ‘সিটি স্ক্যানে যে রিপোর্ট এসেছে, তার রোগটা বাড়েনি, ইটস আ গুড সাইন। ওষুধ, কেমোথেরাপি-সবকিছু ভালোভাবে কাজ করছে।’ বর্তমান পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রিত বলেই মনে করেন চিকিৎসক। এখনই রোগটি খারাপের দিকে যাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন এবং তার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। এদিকে ইলিয়াস কাঞ্চনের স্মৃতিশক্তি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরও নাকচ করেছেন চিকিৎসক। তার দাবি, অভিনেতার স্মৃতিশক্তি পরিষ্কার। কোনো বিষয় মনে করিয়ে দিলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে তা মনে করতে পারেন। রুবাইয়াত রহমান বলেন, ‘তার সবকিছুই মনে আছে। তিনি কোনো কিছুই ভোলেননি। তার একটাই সমস্যা, কো-অর্ডিনেশন অব স্পিচ।’ চিকিৎসকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মস্তিষ্কের এমন একটি জায়গায় টিউমারটি রয়েছে, যে অংশের মাধ্যমে মানুষ একটি কথার সঙ্গে আরেকটি কথা মিলিয়ে তা প্রকাশ করে। ওই জায়গায় কিছুটা সমস্যা হওয়ায় ইলিয়াস কাঞ্চনের কথা বলার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। তবে তার স্মৃতিশক্তিতে বড় কোনো সমস্যা হয়নি। এমনকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতে পারেন তিনি। ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে ঢাকার গুলশানের বাসায় দেখা হওয়ার একটি ঘটনাও জানান রুবাইয়াত রহমান। চিকিৎসককে দেখেই অভিনেতা জানতে চেয়েছিলেন, তিনি কবে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। চিকিৎসকের মতে, এ ঘটনাই প্রমাণ করে তার স্মৃতিশক্তি এখনো যথেষ্ট ভালো। চিকিৎসকরা আপাতত নতুন করে কোনো আক্রমণাত্মক চিকিৎসা শুরু করার কথা ভাবছেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত রোগের অবনতি না হচ্ছে, ততক্ষণ চলমান চিকিৎসাই অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমানে রেডিওথেরাপির প্রয়োজন না থাকলেও টিউমারটি যেন আর না বাড়ে, সে জন্য কেমোথেরাপি চালিয়ে যেতে হতে পারে। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরে প্রায় ১০ দিন পরিবারের পাশাপাশি সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটান ইলিয়াস কাঞ্চন। এ সময় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। কাকরাইলে নিসচার কার্যালয়েও যান। বাসায় দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা দেখা করতে গেলে তাদের সঙ্গে আড্ডাতেও মেতে ওঠেন এই অভিনেতা। লন্ডনে ফেরার আগে ১১ আগস্ট সকালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়ায় নিজের গ্রামের বাড়িতে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে গ্রামের মানুষের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করেন তিনি। আরও পড়ুন ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের নতুন অধ্যক্ষ সেলিনা মালেক চৌধুরী গত বছরের এপ্রিল থেকে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার অপসারণ সম্ভব না হলেও বড় একটি অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হন চিকিৎসকেরা। পরে চিকিৎসকেরা জানান, সেটি ব্রেন ক্যানসার। অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপির পাশাপাশি ওরাল থেরাপি নেন তিনি। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় তাকে ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে। এরপর প্রথম ধাপের তিন মাসের ওরাল থেরাপি শেষ করে দ্বিতীয় ধাপেও আরও তিন মাস ওরাল থেরাপি নেন তিনি। তিন ধাপ মিলিয়ে প্রায় শতাধিক কেমোথেরাপি নিয়েছেন এই অভিনেতা। সব মিলিয়ে বর্তমানে ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা নিয়ন্ত্রিত এবং চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড়া মিলছে বলে জানিয়েছেন তার পারিবারিক চিকিৎসক। বিশেষ করে সর্বশেষ সিটি স্ক্যানে টিউমার না বাড়ার খবরটি তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্বস্তি এনে দিয়েছে। এখন চিকিৎসকদের নজর টিউমারটি যেন আর না বাড়ে, সেদিকে। এমএমএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>