বিজ্ঞাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ও বে-আইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল জারির এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী নিগার সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিদুল ইসলাম জনি ও শিহাব উদ্দিন খান।
আরও পড়ুন
বেসুরো গান, ভাইরাল খ্যাতি এবং এক শিক্ষকের শাস্তি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ২৪ জুন এক চিঠিতে চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানায়।
চিঠিতে বলা হয়, তাশরিক-ই-হাবিবের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ও একাডেমিক কমিটির সব সদস্য তার সঙ্গে কাজ করার ব্যাপার অপারগতা প্রকাশ করায় ২২ জুন তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন চৌধুরী মো.তাশরিক-ই-হাবিব।
এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিহাব উদ্দিন খান জাগো নিউজকে বলেন, চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা সংক্রান্ত ২৪ জুনের চিঠি কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
আরও পড়ুন
ভাইরাল ঢাবি অধ্যাপককে অব্যাহতি, যা বলছেন নেটিজেনরা
গত ২৪ জুন অধ্যাপক তাশরিককে নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়, কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে আলোচনায় আসেন অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব। শাহ আবদুল করিম, জেমস ও ফজলুর রহমান বাবুর গান গেয়ে তিনি ফেসবুকে অনেকের নজরে পড়েন।
অনেক শ্রোতা তার গান শেয়ার করে প্রশংসা করলেও ‘ভিন্নধর্মী সুরে’ গান গাওয়ায় অনেকে আবার তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের আধেয় তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যেও তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, একাডেমিক কার্যক্রমবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
এফএইচ/বিএ
বিজ্ঞাপন