বিজ্ঞাপন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে প্রায় সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর এ স্মারকলিপি দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাকসুর ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম, অসঙ্গতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জনসম্মুখে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৪২টি কর্মসূচিতে রাকসুর তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তোলন করা টাকার ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ইচ্ছামতো অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং উত্তোলিত অর্থের একটি বড় অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, রাকসু কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান এবং রাকসু ফান্ডের অর্থ মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য। ফলে শিক্ষার্থীদের অর্থের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ হিসাব, বৈধ খাত ও ব্যয়ের প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক। খাত না দেখিয়ে টাকা উত্তোলন, ব্যয়ের যথাযথ প্রমাণ না দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় না করে অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অর্থের জবাবদিহি চেয়ে এতে বলা হয়, সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকলে সেই অর্থ কোথায়, কীভাবে, কোন খাতে এবং কার অনুমোদনে ব্যয় করা হয়েছে, এর পূর্ণাঙ্গ জবাব সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই দিতে হবে। আমরা কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে পূর্বানুমানভিত্তিক দোষী সাব্যস্ত করতে চাই না। তবে অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা অপরিহার্য। দোষী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্মারকলিপিতে সাত দফা দাবি জানিয়ে ছাত্রদল। এর মধ্যে রয়েছে—রাকসু ফান্ড থেকে উত্তোলিত প্রায় সোয়া কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, কোন খাতে কত টাকা কখন এবং কার অনুমোদনে উত্তোলন ও ব্যয় করা হয়েছে তা জানানো, বিল-ভাউচার ছাড়া বা আর্থিক বিধি না মেনে উত্তোলিত অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের লিখিত জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ফান্ডের আয়-ব্যয়, ব্যাংক হিসাব, চেক উত্তোলনের নথি ও বিল-ভাউচার অডিট করা।
এ ছাড়া তদন্তের প্রয়োজনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ, অপব্যবহার, দুর্নীতি বা আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় বা আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার করে রাকসু ফান্ডে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
ভবিষ্যতে রাকসু ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত অডিট, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলক বিল-ভাউচার এবং শিক্ষার্থীদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বলেন, শিক্ষার্থীদের কষ্টার্জিত সোয়া কোটি টাকা রাকসুর ভিপি এবং জিএসসহ তাদের সম্পাদকরা ব্যক্তিগত কাজে উত্তোলন করে বিনা ভাউচারে কর্মসূচি সম্পাদন করেছে। টাকা উত্তোলনের প্রসেস হচ্ছে, কোনো টাকা উত্তোলন করে তার বিল লিখিতভাবে পরিশোধ করে তারপর আবার টাকা উত্তোলন করা। অথচ রাকসু সেই প্রসেস মেইনটেইন করেনি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে টাকাটি ব্যয় করেনি। এর প্রতিবাদেই আমরা আজকে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি।
স্মারকলিপির বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ছাত্রদল রাকসুর অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। এখানে রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি না মেনে তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের অনেকগুলো অভিযোগ করা হয়েছে। উপাচার্য রাজশাহীতে ফিরলেই এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। জনগণের ট্যাক্সের এবং শিক্ষার্থীদের প্রদানকৃত অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিরাজ হোসেন/কেএইচকে/এএসএম
বিজ্ঞাপন