ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

পুনর্নিরীক্ষণে খাতাপ্রতি ফি ১৫০ টাকা, শিক্ষক পান মাত্র ১২ টাকা!

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার রেকর্ডসংখ্যক খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছে। এতে দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর আয় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। অথচ যারা এ খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করছেন, সেই শিক্ষকরা নামমাত্র মূল্যায়ন ফি পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের ‘পকেট কাটা’ বেশিরভাগ টাকায় চলে যাচ্ছে শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তাদের পকেটে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের ব্যয় ২০ কোটি, শিক্ষকের পকেট মাত্র ২ কোটি! বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানায়, এবার দেশের সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি খাতা বা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন করা হয়েছে। এতে খাতাপ্রতি ফি ছিল ১৫০ টাকা। সেই হিসাবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন থেকে বোর্ডগুলো আয় করেছে ১৯ কোটি ৩১ লাখ ৮৮ হাজার ৯০০ টাকা। আরও পড়ুন এসএসসির ফল ‌‘পুনর্মূল্যায়ন ফাঁদ’, শিক্ষার্থীদের গচ্চা ২০ কোটি টাকা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুনর্নিরীক্ষণে আগে খাতাপ্রতি ফি ছিল ১২৫ টাকা। তখন পরীক্ষক বা শিক্ষককে দেওয়া হতো খাতাপ্রতি ৭ টাকা। এখন ফি বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা হয়েছে। এর থেকে ‍যিনি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করেন, তিনি পান ১২ টাকা। বাকি ১৩৮ টাকার মধ্য থেকে কিছু টাকা শিক্ষকদের বোর্ডে আসা-যাওয়ার খরচ দেওয়া হয়। বাকি টাকা বোর্ডের ফল তৈরির সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন পদে দায়িত্বরত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা পান। তার ভাষ্য, ‘যদি ২০ কোটি টাকা আয় হয়, তাহলে দেড় কোটি টাকার মতো শিক্ষকরা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য পান। ৫০ লাখ টাকার মতো টিএ-ডিএ দেওয়া হয়। বাকি ১৮ কোটি টাকাই বোর্ডে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের পকেটে যায়।’ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সাধারণ গণিত বিষয়ের খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করছেন এমন একজন শিক্ষক মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রথম দফা মূল্যায়নে আমরা ৪৫ টাকা করে পেয়েছি। সে সময় ৩০০-৪০০ খাতা দেওয়া হয়েছিল। এখন দিনেই ৩০০-৪০০ খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করছি। এতে খাতাপ্রতি ১২ টাকা দেওয়া হবে। আর আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বোর্ড থেকে কত দূরে সে অনুযায়ী যাতায়াত ভাতা পাবো। পাশাপাশি বোর্ড থেকে সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি খাতার পুনর্নিরীক্ষণ ফি ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। এ টাকার অন্তত অর্ধেক অর্থাৎ ৭৫ টাকা শিক্ষকদের দেওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের যা দেওয়া হয়, তা খুবই কম। এটা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নয়।’ আরও পড়ুন এসএসসির ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয় যেভাবে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য খাতা শিক্ষকরা বাইরে নিয়ে যেতে পারেন না। তাদের বোর্ডে বসে দিনভর খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করতে হয়। গত ২৪ আগস্ট থেকে ঢাকা বোর্ডসহ সব বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণ শুরু হয়েছে। এ প্রক্রিয়া আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। ফল তৈরির পর ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। কয়েকটি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা খাতা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে এসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকরা। প্রত্যেকটি বিষয়ের দুই থেকে তিনজন শিক্ষক খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করছেন। তারা জানান, মূলত প্রথমে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন পড়া খাতাটি গুদাম বা সংরক্ষণাগার থেকে বের করা হয়। এ কাজ করেন অফিস সহকারীরা। এরপর সেই খাতা বিষয়ভিত্তিক সাজানো হয়। খাতাগুলো ভিন্ন ভিন্ন টেবিলে রাখা হয় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদের ভাগ করে দেওয়া হয়। এবার গণিত খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করছেন এমন একজন শিক্ষক মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে জাগো নিউজকে জানান, প্রথমে তারা নম্বর যোগ-বিয়োগে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করছেন। পাশাপাশি কিছু খাতা রিভিউ করছেন। বিশেষ করে কোনো খাতায় নম্বর অস্বাভাবিক থাকলে সেটি পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সব খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ নেই। দিনে একজন কতটি খাতা দেখছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‌‘কেউ ৩০০টি দেখছেন, আবার কেউ ৪০০-৫০০টিও দেখছেন। দিনভর শুধু খাতা দেখাই কাজ।’ আরও পড়ুন এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের ফল হতে পারে ১০ সেপ্টেম্বর জানতে চাইলে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘পরীক্ষকরা এখন সারা দিন খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করছেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ খাতা দেখা শেষ হবে। এরপর বাকি কাজ চলবে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করার চেষ্টা করছি।’ আবেদন লাখ লাখ, ফল পরিবর্তন খুবই অল্প শিক্ষার্থীর প্রতি বছর এসএসসি ও এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণে লাখ লাখ আবেদন জমা পড়লেও খুব অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তন হয়। এতে বোর্ডের আয় বাড়ে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের বাড়তি খরচের বোঝা টানতে হয়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে পৌনে ৩ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করা হলেও ফল পরিবর্তন হয় মাত্র ২ হাজার ৭৮৩ জনের। ২০২৩ সালে সাড়ে ৪ লাখ আবেদন জমা হলেও ফল পরিবর্তন হয়েছিল ১১ হাজার ৩৬২ জন শিক্ষার্থীর। ২০২৪ সালে ৫ লাখ আবেদন জমা পড়লেও ৮ হাজার ৮৭৫ জনের ফলাফলে পরিবর্তন আসে। আর ২০২৫ সালে সোয়া ৬ লাখ আবেদন থাকলেও ফল পরিবর্তন হয়েছিল ১৫ হাজার ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর। আরও পড়ুন এসএসসির ফলে অসন্তোষ: ৪ লাখ শিক্ষার্থীর প্রায় ১৩ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জ নিয়ম বদলানোর পরিকল্পনায় শিক্ষামন্ত্রী এদিকে, পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণার পর রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় চাপে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।  চাপের মুখে খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা করা যায় কি না, তা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। গত ১৭ আগস্ট রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার এসএসসির উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এ অবস্থা দেখে মনে হয় প্রায় সব শিক্ষার্থীই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে চায়। তাই খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এত খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তাই খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।এএএইচ/জেএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>