বিজ্ঞাপন
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না হলে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমিকরা হলেও তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন, মর্যাদা ও জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত ‘অবিলম্বে জাতীয় মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ। বক্তব্য দেন বিভিন্ন সেক্টরের কেন্দ্রীয় নেতারা।
নাজমা আক্তার বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বলতে শুধু খাবারের খরচ বোঝায় না। খাদ্য, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা ও বিনোদনের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কিছু সঞ্চয় ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার সুযোগ থাকতে হবে। সেটিই হওয়া উচিত একজন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি।
তিনি বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির অজুহাতে শ্রমিকদের সস্তা শ্রমে পরিণত করার প্রবণতা রয়েছে। অথচ শ্রমিকদের বড় একটি অংশ ঠিকমতো খাবারও পান না। আবার ৪০ বছর বয়সের পর অনেক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন।
বাংলাদেশের পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম উল্লেখ করে নাজমা আক্তার বলেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোতে শ্রমিকদের তুলনামূলক বেশি মজুরি দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও মাসিক মজুরি ৩০০ ডলারের বেশি হলেও বাংলাদেশে ১০০ ডলার মজুরি দেওয়ার প্রস্তাব উঠলেই শিল্প টিকবে না এমন যুক্তি দেখানো হয়।
নাজমা আক্তার বলেন, শিল্প টিকিয়ে রাখার অন্যতম শর্ত হলো শ্রমিকদের সুস্থতা, পুষ্টি ও উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা। শ্রমিককে বাদ দিয়ে কেবল মালিকদের সমৃদ্ধ করা কিংবা শিল্প টিকিয়ে রাখার কথা বলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও দাবি-দাওয়া উপস্থাপনের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করা হয়। অথচ মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর মতো সংগঠনগুলো সরকারের কাছে নিজেদের দাবি ও বিভিন্ন প্রণোদনা তুলনামূলক সহজেই আদায় করতে পারে।
শ্রম আইন সংশোধনের পর তিন বছরের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অবিলম্বে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং পোশাক খাতসহ সব খাতের জন্য পৃথক মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানান নাজমা আক্তার।
কম মজুরি ও বেকারত্বের সামাজিক প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সংকট সমাজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে খুন, গুম, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মাদকের মতো অপরাধ বাড়ছে।
শ্রমিকদের যৌথ দরকষাকষির অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নাজমা আক্তার বলেন, শ্রমিক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে এবং উপযুক্ত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরার সুযোগ নিশ্চিত না করলে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
ইএআর/এমএমএআর
বিজ্ঞাপন