জাতীয়

রাশেদ জামানের ছবিতে কোলাহলের শহরে নির্জনতার সন্ধান

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রাজধানী ঢাকা যেখানে প্রতিদিনের শুরুই হয় শব্দ, ব্যস্ততা আর ছুটে চলার মধ্য দিয়ে। যানজট, মানুষের ভিড়, ব্যস্ত সড়ক কিংবা চারপাশের অসংখ্য শব্দের ভেতর নিজের সঙ্গে একটু সময় কাটানোর সুযোগ যেন ক্রমেই কমে আসছে। এমন এক শহুরে জীবনের মাঝেই দর্শককে কিছুটা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান। ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ের কামরুল হাসান গ্যালারিতে চলছে রাশেদ জামান একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘দ্য কোয়ায়েট উইদিন’। প্রদর্শনীতে ঢুকলেই প্রথম যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো ছবিগুলোর নীরবতা। এখানে নেই চড়া রঙের আয়োজন কিংবা দৃশ্যের বাহুল্য। বরং আলো, ছায়া, প্রকৃতি, আকাশ, দিগন্ত আর শূন্যতার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের আবেগঘন আবহ। রাশেদ জামানের ছবির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো তিনি পরিচিত দৃশ্যকে ঠিক পরিচিত অবস্থায় রাখেননি। গাছের পাতা, আকাশ কিংবা দিগন্তরেখা কখনো স্পষ্ট, কখনো ঝাপসা। কোথাও মনে হয় ছবি যেন ধীরে ধীরে চিত্রকর্মে পরিণত হচ্ছে। আবার কোনো ফ্রেমে বাস্তব দৃশ্যের মধ্যেই তৈরি হচ্ছে স্বপ্নের মতো এক জগৎ। এই প্রদর্শনী দেখতে আসা দর্শকের জন্য তাই ছবিগুলো শুধু দেখার বিষয় নয়; বরং কিছুক্ষণ থেমে থাকারও উপলক্ষ। একটি ছবির সামনে দাঁড়িয়ে হয়তো কেউ নিজের শৈশবের কোনো বিকেল মনে করছেন, কেউ আবার নদী, মাঠ কিংবা গ্রামের নির্জনতার কথা ভাবছেন। ছবিগুলো প্রত্যেক দর্শকের কাছে আলাদা আলাদা অনুভূতির দরজা খুলে দিচ্ছে। রাশেদ জামানের নিজের ভাষ্যেও উঠে এসেছে সেই আত্মঅনুসন্ধানের কথা। ব্যস্ত জীবন আর নাগরিক কোলাহলের মধ্যে নিজের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি থেকেই এই ছবিগুলোর যাত্রা। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ধারণ করা মুহূর্তগুলোকে তিনি পরবর্তী সময়ে নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের কাঙ্ক্ষিত রূপ দিয়েছেন। ছবির ক্ষেত্রে শুধু ক্যামেরায় দৃশ্য ধারণ করেই থেমে থাকেননি তিনি। প্রিন্ট করার পরও ছবির ওপর কাজ করেছেন। কোথাও ড্রাই ব্রাশ ব্যবহার করেছেন, কোথাও টেক্সচার বের করে এনেছেন, আবার কোথাও রঙের তীব্রতা কমিয়েছেন। ফলে প্রতিটি ছবি হয়ে উঠেছে আলোকচিত্র ও চিত্রকলার মাঝামাঝি এক স্বতন্ত্র ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা। রাশেদ জামানের এই কাজের সঙ্গে তার সিনেমাটোগ্রাফির অভিজ্ঞতারও যোগ রয়েছে। সিনেমায় যেমন আলো শুধু দৃশ্যকে আলোকিত করে না, বরং গল্পের আবহ ও চরিত্রের অনুভূতিও প্রকাশ করে; তেমনি এই প্রদর্শনীতেও আলো যেন নিজেই একটি চরিত্র। কোথাও নরম আলো প্রশান্তি তৈরি করেছে, কোথাও আলো-আঁধারির খেলা এনে দিয়েছে রহস্য। প্রদর্শনীর অনেক ছবিতে মানুষের উপস্থিতি নেই। অথচ সেই শূন্যতার মধ্যেই মানুষের অনুভূতি যেন আরও প্রবল হয়ে ওঠে। বিস্তীর্ণ প্রান্তর, একটি গাছ কিংবা দূরের দিগন্ত এই সামান্য উপাদান দিয়েই শিল্পী তৈরি করেছেন বিশাল এক অনুভূতির জগৎ। আর যেখানে মানুষ আছে, সেখানেও তাকে পাওয়া যায় নিঃসঙ্গ অবস্থানে। যেন চারপাশে এত মানুষ, এত শব্দ থাকার পরও প্রত্যেক মানুষের ভেতরে আলাদা একটি নীরব পৃথিবী রয়েছে। দেশের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকের কাছেও এমন একটি প্রদর্শনী আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। অভিনেত্রী নাজিফা তুষি, অভিনেত্রী জেনি, নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী, মেজবাউর রহমান সুমন, সহ শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের অনেকে প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেছেন। অভিনেত্রী নাজিফা তুষি বলেন, ‘দ্য কোয়ায়েট উইদিন’ প্রদর্শনীতে আজ দ্বিতীয়বার এসেছি। প্রথমবার দেখার পরও মনে হয়েছে, ছবিগুলোর মধ্যে এমন কিছু আছে, যা বারবার টানে। রাশেদ জামানের ছবিগুলো দেখতে সত্যিই খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে আলো-ছায়ার ব্যবহার আর ছবির নীরবতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্রতিটি ছবির সামনে দাঁড়ালে মনে হয়, কিছুক্ষণ নিজের ব্যস্ততা ভুলে অন্য এক জগতে চলে গেছি।’ শহুরে জীবনের তীব্র গতির বিপরীতে ‘দ্য কোয়ায়েট উইদিন’ যেন ধীর হওয়ার একটি আমন্ত্রণ। যেখানে কোনো ছবি দেখে প্রশ্ন জাগে, এটি কি সত্যিই কোনো বাস্তব দৃশ্য, নাকি শিল্পীর কল্পনায় তৈরি কোনো জগৎ? আবার কোনো ছবির সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয়, এতদিন যে দৃশ্যকে খুব সাধারণ বলে পাশ কাটিয়ে গেছি, সেটির মধ্যেও হয়তো সৌন্দর্যের অন্য একটি ভাষা ছিল। রাশেদ জামানের কাজের সবচেয়ে বড় সাফল্য সম্ভবত এখানেই তিনি দর্শককে শুধু ছবি দেখাচ্ছেন না, ছবির ভেতর নিজের অনুভূতি খুঁজে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন। মিরপুর থেকে মামুন নামে এক এসেছেন প্রদর্শনী দেখতে। তিনি বলেন, ‘ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরে এমন একটি প্রদর্শনী সত্যিই অন্যরকম অভিজ্ঞতা। ছবিগুলোর সামনে দাঁড়ালে মনটা অনেকটা শান্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে প্রকৃতি আর আলোকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা বেশ মুগ্ধ করেছে।’  ‘দ্য কোয়ায়েট উইদিন’ প্রদর্শনী চলবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা প্রদর্শনীটি দেখতে পারবেন।   এমআই/এলআইএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>