বিজ্ঞাপন
রাজশাহীর বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সবজির দাম স্থিতিশীল। এতে স্বস্তিতে বাজার করছেন ক্রেতারা। তবে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ডিমের দাম।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নগরীর সাহেব বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যে দামে সবজি বিক্রি হয়েছে, এ সপ্তাহেও প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে শসা ও করলা ৩০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫-৫০, পটল ৩০, ঢেঁড়স ২৫-৩০, বেগুন ৪০, ফুলকপি ৬০-৭০, ঝিঙা ৩০, চিচিঙ্গা ৩০, বরবটি ৪০, কচুর লতি ৪০, কাঁচা পেঁপে ২৫ এবং মিষ্টি কুমড়া ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচাকলা প্রতি হালি ২৫ টাকা, ওল ৪০, লাউ প্রতিটি ৩০ এবং চালকুমড়া প্রতি পিস ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে গত সপ্তাহের মতো গাজর ও টমেটোর দামও স্থিতিশীল। বাজারে গাজর ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১৪০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদা ১৮০ টাকা, নাটোরের রসুন ৮০ এবং দেশি রসুন ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের দামেও বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
ব্যবসায়ীরা জানান, রাজশাহীর বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি আসছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় অধিকাংশ সবজির দাম গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল। দাম স্থিতিশীল থাকায় বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ভালো বলে জানান বিক্রেতারা।
সবজি ক্রেতা গালিব বলেন, ‘গত সপ্তাহে যে দামে সবজি কিনেছি, এ সপ্তাহেও প্রায় একই দামে কিনতে পারছি। বাজারে সবজির দাম এখন আমাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আছে। এভাবে স্থিতিশীল থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো।’
বাজার করতে আসা হাফিজুর বলেন, ‘রাজশাহীতে প্রচুর সবজির আবাদ হয়। কিছুদিন আগে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির দাম বেড়েছিল। এখন সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় দামও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বাজার যদি এভাবেই থাকে, তা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক।
সবজি বিক্রেতা আলী আকবর বলেন, ‘রাজশাহীর বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন পর্যাপ্ত সবজি আসছে। তাই গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও অধিকাংশ সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও স্বস্তিতে বাজার করছেন।’
আরেক বিক্রেতা জসিম বলেন, ‘প্রায় সব ধরনের সবজি ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও এখন অনেক কমে গেছে। বাজার এভাবে স্থিতিশীল থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই ভালো।’
মাছের বাজারেও গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রুই ২৭০-৩০০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০, তেলাপিয়া ১৭০-২১০, পাঙাশ ১৮০-২০০, চাষের কৈ ২০০-২২০, চাষের শিং ৩০০-৩৫০, টেংরা ৬০০-৭০০, বোয়াল ৬৫০-৮০০, চিংড়ি ৬৫০-৯০০, কোরাল ৭৫০, দেশি কৈ ৮০০-১০০০ এবং দেশি শিং ১০০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ডিমের দাম। দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭৫-৮০ টাকা, হাঁসের ডিম ৭০, ফার্মের লাল ডিম ৪৪ এবং সাদা ডিম ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির মধ্যে ব্রয়লার ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি ২৫০-২৬০, দেশি মুরগি ৫৫০, সাদা লেয়ার ২৯০, লাল লেয়ার ৩৪০, ফাউমি ৩৩০ এবং হাঁস ২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিম ও মুরগী ব্যবসায়ী হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে ডিমের দাম বেড়েছে। হালিতে ২ থেকে ৪ টাকা এবং ডজনে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্রয়লার ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। মুরগির বাজারে দামের বড় কোনো পরিবর্তন নেই।’
মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম
বিজ্ঞাপন