বিজ্ঞাপন
রাস্তার খাবার মানেই অস্বাস্থ্যকরহবে এমন টাও নয়। ব্যস্ত জীবনে অনেকেরই প্রতিদিন বাইরে খেতে হয়। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে খাবারের ধরন, পরিমাণ এবং রান্নার পদ্ধতির দিকে একটু বেশি নজর দেওয়া জরুরি।
একই খাবার কম তেল-মসলায় তৈরি হলে তা তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর হতে পারে। আবার অতিরিক্ত তেল, চিনি ও ভাজাপোড়া যোগ হলে সেই খাবারেই বেড়ে যেতে পারে ক্যালরির পরিমাণ।
তবে একটু সচেতন হলেই স্বাদের সঙ্গে আপস না করেও রাস্তার কিছু খাবারকে তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর করে তোলা সম্ভব। বাইরে খাওয়ার সময় তাই কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং খাবারটি কীভাবে তৈরি হয়েছে সেই বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত।
আসুন জেনে নেওয়া যাক রাস্তার পাশে কোন খাবার খেলে ওজন বাড়বে না
ছোলা
প্রোটিনসমৃদ্ধ রাস্তার খাবার খুঁজলে ভাজা ছোলা হতে পারে ভালো একটি বিকল্প। এটি উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন ও আঁশের চমৎকার উৎস। পাশাপাশি এতে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও রয়েছে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে সিদ্ধ ছোলার সঙ্গে পেঁয়াজ, শসা, টমেটো, কাঁচামরিচ ও লেবু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে খাবারের স্বাদ যেমন বাড়বে, তেমনি যোগ হবে সবজি ও আঁশ। তবে অতিরিক্ত তেল বা ভাজা মসলা ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
সিদ্ধ ডিম
বাইরে খাওয়ার সময় সহজে পাওয়া যায় এমন প্রোটিনের উৎস হলো সিদ্ধ ডিম। ডিম ভাজি বা অতিরিক্ত তেলে রান্না করা ডিমের পরিবর্তে সিদ্ধ ডিম বেছে নেওয়া তুলনামূলকভাবে ভালো। এর সঙ্গে শসা, টমেটো কিংবা অন্য কোনো কাঁচা সবজি রাখলে খাবারটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।
স্টিমড মোমো
ভাজা মোমোর বদলে বেছে নিতে পারেন ভাপে তৈরি মোমো। পুর হিসেবে সবজি বা চিকেন থাকলে এটি তুলনামূলকভাবে ভালো খাবার হতে পারে। সঙ্গে অতিরিক্ত মেয়োনিজ বা বেশি চর্বিযুক্ত সস না নিয়ে ঝাল সস কিংবা হালকা ডিপ পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন।
ফল
রাস্তার ফলের দোকান থেকেও স্বাস্থ্যকর নাশতা বেছে নেওয়া সম্ভব। পেয়ারা, আপেল, কমলা, পেঁপে কিংবা তরমুজের মতো মৌসুমি ফল খেতে পারেন। তবে কাটা ফল কেনার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। খোলা জায়গায় দীর্ঘক্ষণ রাখা বা অপরিষ্কারভাবে কাটা ফল এড়িয়ে চলাই ভালো।
ডাবের পানি
মিষ্টি কোমল পানীয়ের পরিবর্তে ডাবের পানি বেছে নিতে পারেন। এতে কোমল পানীয়ের মতো অতিরিক্ত চিনি মেশানো থাকে না। গরমের দিনে এটি শরীরকে সতেজ করতেও সাহায্য করতে পারে। তবে ডাবের পানিও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পান করার দরকার নেই।
কাবাব বা গ্রিল খাবার
মাংস খাওয়ার ইচ্ছা হলে ডুবো তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে গ্রিল বা কম তেলে রান্না করা কাবাব বেছে নিতে পারেন। সঙ্গে সালাদ রাখুন। অতিরিক্ত মেয়োনিজ, মিষ্টি চাটনি কিংবা তেলযুক্ত সস এড়িয়ে চললে খাবারটি তুলনামূলকভাবে হালকা রাখা সম্ভব।
ভেলপুরি
টক-ঝাল ও মুচমুচে স্বাদের কারণে ভেল পুরি বেশ জনপ্রিয় একটি রাস্তার খাবার। হালকা জলখাবার হিসেবে চিপস বা ডুবো তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে এটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
এতে সবজি এবং অঙ্কুরিত ডাল বা ছোলা যোগ করলে বাড়বে খাবারের পুষ্টিগুণ ও আঁশের পরিমাণ। তবে ভেলপুরি খাওয়ার সময় চাটনির পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখুন। বেশি চাটনি ও অন্যান্য ভাজা উপকরণ যোগ করলে স্বাস্থ্যকর খাবারটিও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত হয়ে যেতে পারে।
পোড়ানো ভুট্টা
রাস্তার মোড়ে মোড়ে পাওয়া পোড়ানো ভুট্টা হতে পারে বেশ ভালো একটি নাশতা। এতে রয়েছে আঁশ বা ফাইবার, পাশাপাশি নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও পাওয়া যায়।
কম আঁচে ভুট্টা পোড়ালে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ফলে হজমশক্তি ও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও এটি উপকারী বলে বিবেচিত হয়।
আরও পড়ুন
চিকেনের পর দুধ খেলে শরীরে কী ঘটে?
ভুট্টার স্বাদ আরও বাড়াতে খাওয়ার আগে এর ওপর লেবুর রস, গোলমরিচের গুঁড়া ও বিট লবণ মিশিয়ে নিতে পারেন। তবে অতিরিক্ত মাখন বা লবণ ব্যবহার না করাই ভালো।
আরও পড়ুন
যেভাবে ভাত খেলে ভুঁড়ি বাড়বে না
কোনো একটি খাবার খেলেই ওজন বাড়ে বা কমে না। সারাদিনে মোট কতটা খাবার গ্রহণ করছেন এবং কতটা শারীরিক পরিশ্রম করছেন, তার ওপর ওজন নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নির্ভর করে। তাই রাস্তার খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে বুদ্ধি করে বেছে নিন, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং অতিরিক্ত তেল, চিনি ও ভাজাপোড়া থেকে দূরে থাকুন।
সূত্র: হেলথলাইন, বোম্বে চাট অ্যান্ড পান, ইন্ডিয়া টুডে
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন