বিজ্ঞাপন
দেশের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করা, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমাণ বাড়াতে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারকদের দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ আটকে থাকা, পণ্য মজুত ও সংরক্ষণে বাড়তি ব্যয়, কোল্ড-চেইন ব্যবস্থাপনার উচ্চ খরচ এবং তুলনামূলক কম সুদে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলা করে খাতটির সক্ষমতা বাড়াতেই নতুন এ অর্থায়ন সুবিধা চালু করা হয়েছে।
নতুন কারখানায় ঋণ ৩০ কোটি টাকা
তহবিলের আওতায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংক অংশগ্রহণ করতে পারবে। সম্পূর্ণ নতুন কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ সাত বছর মেয়াদে ঋণ পাবেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত মেয়াদি ঋণ দেওয়া যাবে।
তবে নতুন কারখানা স্থাপনে প্রকল্পের মোট অর্থায়নে উদ্যোক্তার নিজস্ব মূলধনের অংশ থাকতে হবে। ঋণ ও মূলধনের অনুপাত সর্বোচ্চ ৭০:৩০ নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুরোনো কারখানা আধুনিকায়নে ২০ কোটি
বিদ্যমান হিমায়িত খাদ্য কারখানার সংস্কার, সম্প্রসারণ কিংবা আধুনিকায়নের জন্য সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত মেয়াদি ঋণ নেওয়া যাবে। এ ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর, যার মধ্যে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে।
এ ক্ষেত্রেও প্রকল্পের ঋণ ও উদ্যোক্তার নিজস্ব মূলধনের অনুপাত সর্বোচ্চ ৭০:৩০ রাখা হয়েছে।
চলতি মূলধনে মিলবে ২০ কোটি টাকা
কাঁচামাল কেনা, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য চলতি মূলধন হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে।
এ ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর। তবে সন্তোষজনক লেনদেনের রেকর্ড থাকলে আরও একবার নবায়নের সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এ ঋণ সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বহাল রাখা যাবে।
সৌর প্যানেলে অতিরিক্ত ঋণ
পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌর প্যানেল স্থাপনে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত ঋণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা অথবা মূল প্রকল্প ব্যয়ের ৩০ শতাংশ—যেটি কম, সে পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে।
ব্যাংক পাবে ৪ শতাংশে, গ্রাহকের সুদ সর্বোচ্চ ৭%
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এতে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ পাবে।
বন্ধ কারখানাকে অগ্রাধিকার
চলতি মূলধনের সংকটে যেসব হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আংশিক বা পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ রেখেছে, তাদের এ তহবিলের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
তবে কোনো ঋণখেলাপি উদ্যোক্তা এ সুবিধা পাবেন না। একই খাতে যারা এরই মধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) অথবা রপ্তানি সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন তহবিল (ইএফপিএফ) থেকে অর্থায়ন নিচ্ছেন, তারাও একই খাতের জন্য নতুন এ তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবেন না।
লাগবে সরকারি সংস্থার ছাড়পত্র
তহবিলের অর্থ পেতে সংশ্লিষ্ট কারখানার মৎস্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রয়োজনীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও ছাড়পত্র থাকতে হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, তহবিলের বিশেষ শর্তগুলো যথাযথভাবে পরিপালন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে এ তহবিল তো বটেই, বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো তহবিল থেকেও ঋণ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, নতুন এ অর্থায়ন সুবিধার মাধ্যমে হিমায়িত খাদ্য খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে, নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ইএআর/এমআইএইচএস
বিজ্ঞাপন