বিজ্ঞাপন
ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে ছিনতাইকারীর হামলায় নিহত বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিনের (৫৬) প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বাদ জোহর তার দীর্ঘ সাড়ে তিন যুগের প্রিয় কর্মস্থল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে প্রিয় শিক্ষককে শেষ বিদায় জানান সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় অধিবাসীরা।
আরও পড়ুন
চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন রনজিলা, ফিরলেন লাশ হয়ে
এর আগে সকালে রনজিলার মরদেহ প্রিয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছালে পুরো নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। দীর্ঘ ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে যে প্রাঙ্গণে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, সেখানে এবার তার প্রত্যাবর্তন ঘটে লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে। প্রিয় শিক্ষিকাকে শেষবারের মতো দেখতে মানুষের ঢল নামে। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও সহকর্মীরা।
জানাজায় ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণ দিয়ে ও সুবিচার দাবি করে নিহতের স্বামী আব্দুল মতিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা রিকশায় চেপে যাচ্ছিলাম। আর হয়তো ৩০ কিংবা ৪০ সেকেন্ড সময় লাগতো আমরা হাসপাতালে পৌঁছে যেতাম। তার আগেই ছিনতাইকারী দুজন মোটরসাইকেল আরোহী তার (স্ত্রী) কাছ থেকে হাতব্যাগ হ্যাঁচকা দিয়ে টান দিয়ে ছিনতাই করে নেয়। ওইসময় সে নিজের ভারসাম্য রক্ষা করতে না পেরে রিকশা থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়। রিকশার চলন্ত অবস্থার গতির কারণে সে পড়ে যাওয়া স্থান থেকে ১০ হাত দূরে ছিটকে যায়। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাড়ির পাশের স্কুলে আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন চাকরি করেছে। আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না এই কারণে যে, একজন শিক্ষক সে দীর্ঘদিন ৩০-৩২ বছর শিক্ষকতা করার পর তাকে এভাবে অকালে চলে যেতে হবে। সে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিল, তাকে লাশ হয়ে ফিরে আসতে হবে—এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’
পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে স্বামী মতিউত রহমানের সঙ্গে চোখের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বগুড়া থেকে ঢাকায় যান রনজিলা পারভিন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাজধানীর সংসদ ভবন দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানের শিকার হন তিনি। এসময় রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন
সেই স্কুলে ফাঁকা চেয়ারে প্রধান শিক্ষকের স্মৃতি, মাঠে মরদেহ
ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার মধ্যরাতে তার মরদেহ বগুড়া শহরের রহমাননগরে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে রোববার সকালে নেওয়া হয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
প্রথম জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর রনজিলা পারভিনের মরদেহ তার নিজ গ্রাম গাবতলী উপজেলার তরফসরতাজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
এসআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন