ব্রেকিং নিউজ
পদ্মা সেতুতে গতকালের দুর্ঘটনায় কতটুকু ক্ষতি হলো, মেরামতে ব্যয় কত প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর: ডান-বামের সমীকরণে বিএনপির আস্থার রাজনীতি পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে অর্জিত জীবিকা আত্মমর্যাদা বাড়ায় ডিজিটাল ও শারীরিক আসক্তি থেকে বাঁচতে নিজের সচেতনতাই মুখ্য বিকেএসপি ফুটবলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বাবার চিঠির অপেক্ষায় থাকা ছেলে, মেসেজের যুগে হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি লোডশেডিং কমবে ‘খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে’: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা মালদ্বীপে ডলার সিন্ডিকেটের সন্ধান, তিন বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ৬ চট্টগ্রামে নতুন সেতু নির্মাণে বাধা এক্সপ্রেসওয়ে মেসির সুখ কামনায় তাঁর মা, বউয়ের চোখে গর্ব ও ভালোবাসা
সারাদেশ

‘আমি বেঁচে গেছি, কিন্তু আমার ভাই ও বোন পারেনি’

b
bd24live অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় পরিবার হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছে অসংখ্য শিশু। গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় ১৭ হাজার শিশু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। এখনো নিখোঁজ রয়েছে অনেক শিশু ও শিক্ষার্থী। নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রাসুয়া জেলার খালতে এলাকার ১৪ বছর বয়সী আকাশ তামাংয়ের চোখের সামনে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা তার স্কুল ও চারপাশের এলাকা গ্রাস করে নেয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি জঙ্গলের দিকে ছুটে যান। কিন্তু তার ছোট ভাই ৮ বছর বয়সী আশ্বিন এবং ১১ বছর বয়সী বোন অনিশা তখন স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। বন্যার পর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকাশ বলেন, ‘আমি বেঁচে গেছি, কিন্তু আমার ভাই ও বোন পারেনি।’ আকাশ জানান, বন্যার দিন সকালে তিনি ছোট ভাই-বোনের জন্য খাবার তৈরি করে তাদের নুওয়াকোটের রামচন্দ্র বেসিক স্কুলে পাঠিয়েছিলেন। তারা বেত্রাবতীতে ভাড়া করা একটি ছোট কক্ষে থাকত। তাদের বাবা মালয়েশিয়ায় এবং মা দুবাইয়ে কর্মরত। একইভাবে রাসুয়ার ১৬ বছর বয়সী সামির তামাং তার দুই ছোট বোনকে হারিয়েছেন। ১৩ বছর বয়সী প্রিয়া ও সাত বছর বয়সী পার্বতী বন্যার পর থেকে নিখোঁজ। সামির জানান, বন্যার সময় তিনি স্কুলে ছিলেন এবং প্রাণ বাঁচাতে পাহাড়ের দিকে ছুটে যান। তার দুই বোন তখন বাড়িতে ছিল। সামির বলেন, ‘আমার বোনেরা আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিল। এক মুহূর্তেই বন্যা তাদের কেড়ে নিয়েছে।’ বন্যায় বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকও নিখোঁজ হয়েছেন। নেপালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ২৫০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এখনো নিখোঁজ। এর মধ্যে ২৩০ শিক্ষার্থীর ২১৩ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এবং ১৭ জন বন্যার পানিতে ভেসে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ ১৯ শিক্ষকের মধ্যে ১০ জনের ভেসে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নুওয়াকোট, রাসুয়া ও ধাদিংয়ের অন্তত ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও কাদামাটি সরানোর কাজ চলতে থাকায় নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বন্যায় ১২ বছর বয়সী আনজু তামাং তার মা সুভামায়াসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারিয়েছে। কালিকা গ্রামীণ পৌরসভার কালিকাস্তানে আকস্মিক বন্যায় তার মা, বড় ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, চাচা, চাচি এবং এক বছর বয়সী এক চাচাতো ভাই মারা যায়। পাঁচ বছর আগে বাবাকেও হারানো আনজু এখন আত্মীয়দের সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছে। ইউনিসেফের নেপাল প্রতিনিধি অ্যালিস আকুঙ্গা জানিয়েছেন, ত্রিশূলী ও ভোতেকোশি নদীর করিডোরজুড়ে এই দুর্যোগে আনুমানিক ১৭ হাজার শিশু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, বেঁচে যাওয়া শিশুরা এখন রোগ, অপুষ্টি, শোষণ এবং মানসিক আঘাতের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র, শিক্ষা উপকরণ এবং মানসিক সহায়তা প্রয়োজন। বন্যার পর শিশু পাচার ও অবৈধভাবে শিশু স্থানান্তরের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। নেপালের নারী, শিশু ও জ্যেষ্ঠ নাগরিক মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, স্থানীয় শিশু কল্যাণ কর্মকর্তার সুপারিশ ও জাতীয় শিশু অধিকার কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিখোঁজ বা আশ্রয়হীন শিশুদের অন্যত্র নিয়ে যেতে পারবে না। এদিকে নেপাল রেডক্রস জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি রয়েছে। তাৎক্ষণিক ত্রাণ হিসেবে অনেক শিশুকে ইনস্ট্যান্ট নুডলসের মতো খাবার দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারছে না। শিশুদের জন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ ও সুষম খাবার সরবরাহ জরুরি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। ইউনিসেফ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা দিতে বিশেষজ্ঞ দল মোতায়েন করেছে। নিখোঁজ শিশুদের শনাক্ত করা, অভিভাবকহীন শিশুদের নিবন্ধন এবং পরিবারের সঙ্গে তাদের পুনর্মিলনের কাজও চলছে। বন্যায় স্বজন, ঘরবাড়ি ও স্কুল হারিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে শিশুরা। ১৩ বছর বয়সী নির্মল ঘালে জানান, স্কুলে যাওয়ার সময় তিনি তার দাদা-দাদিকে নদীর স্রোতে ভেসে যেতে দেখেছেন। প্রাণ বাঁচাতে জুতা খুলে জঙ্গলের দিকে দৌড়েছিলেন তিনি। নির্মল বলেন, নদীর শব্দ শুনলেই এখন তার আতঙ্ক লাগে। তিনি আর স্কুলে ফিরতে চান না; এমনকি তার কাছে বদলানোর মতো অতিরিক্ত পোশাকও নেই। নেপালের জাতীয় শিশু অধিকার কাউন্সিল জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নিখোঁজ শিশুদের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ এখনো সম্ভব হয়নি। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ শিশুদের শনাক্ত ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ করছেন।
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>