বিজ্ঞাপন
বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী ও দেশটির বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের বান্দার-ই কুহেস্তাক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ও কয়েক আবাসিক এলাকায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত এবং আরও ৬৩ জন আহত হয়। এসব হামলার জবাবে পাঁচ দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা চালায় ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুহেস্তাক শহরের একটি বাড়িতে এ নিষ্ঠুর হামলা চালানো হয়। কুহেস্তাক ছাড়াও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপ।
ইরানের সেনাবাহিনীর তথ্য মতে, বুধবার সকালে সেনাবাহিনী পরিচালিত বহুসংখ্যক বিস্ফোরক ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-জুফরা ও আল-মিনহাদ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা মার্কিন বাহিনীর রাডার ব্যবস্থা ও অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে চালানো হয়।
জানা গেছে, আল-জুফরা বিমানঘাঁটি এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। এটি বিমান অভিযান, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং সামরিক রসদ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর রাডার স্থাপনা ও কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি জর্ডানের প্রিন্স হাসান ঘাঁটিতে RQ-4 ও MQ-9 ড্রোনের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। এ হামলায় বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকজন পাইলট ও ফ্লাইট ক্রু নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানের স্থলবাহিনী ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সমন্বিত (ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন) হামলা চালিয়েছে। এতে একটি মেরামত কেন্দ্র, সরঞ্জাম সংরক্ষণের কয়েকটি গুদাম এবং একটি গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে।
এছাড়া, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন কমান্ডের কমান্ড পোস্ট ও আবাসিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, আবাসিক এলাকায় শত্রুপক্ষের হামলা এবং বিয়ের অনুষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। তাদের দাবি, এসব ঘটনা ‘আমেরিকান মানবাধিকারের’ ন্যক্কারজনক চরিত্র প্রকাশ করে। এই অপরাধের জবাব নিঃসন্দেহে বড় পরিসরে ও ব্যাপক আকারে দেবে ইরানের সেনাবাহিনী।
সূত্র: তাসনিম/মেহের নিউজ এজেন্সি
কেএম
বিজ্ঞাপন