ব্রেকিং নিউজ
কেস ফাইল না করে ভেনিস ছাড়ছি না: বাঁধন মুগ্ধতা ছড়ানো ফুলে মেলবোর্নে বসন্তের আগমনী বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো নারীর স্বামীকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ আসাম আদালতের বারডেম হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে যুবক নিহত সরকারি চাকরির নিয়োগে দলীয়করণ-দুর্নীতি তৈরি করবে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি ক্রসফায়ারের ভয়ে বাড়ি ছাড়েন টিপু, তাঁকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়: ট্রাইব্যুনালে স্ত্রীর জবানবন্দি বেনজীরের মতো একজন কুখ্যাত লোককে নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যানার লাগাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিচারিক সংবেদনশীলতার ঘাটতি রয়েছে: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ আওয়ামী লীগের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয়

রামুতেই হচ্ছে ফিফার ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দীর্ঘ জটিলতার পর অবশেষে কক্সবাজারের রামুর রশিদনগরে স্থাপিত হতে যাচ্ছে ফিফার অর্থায়নে বাংলাদেশের ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার। জমি বরাদ্দ ও স্থান নির্বাচন নিয়ে প্রায় চার বছর ধরে চলা নানা প্রক্রিয়া শেষে ১৫ একর ২০ শতক জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে দলিল হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের তারকা হোটেল লং বিচে আয়োজিত অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বাফুফের পক্ষে সভাপতি তাবিথ আওয়াল ও সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জমি রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন। পরে জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে জমির দলিলপত্র বাফুফে সভাপতির হাতে হস্তান্তর করেছেন। এ সময় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্যগণ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রামু উপজেলায় বাফুফে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য সাড়ে ১৫ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি বাফুফের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং এ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, রামুতে আন্তর্জাতিকমানের ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের ফুটবলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান ফুটবলাররা এখানে আধুনিক ও পরিকল্পিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। তাবিথ আওয়াল বলেন, রামুর এই কেন্দ্রকে ঘিরে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের তরুণ ফুটবলার তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রামুর রশিদনগরের ধলিরছড়া মৌজায় মহাসড়ক লাগোয়া ‘স্বপ্নতরী বিনোদন কেন্দ্র’-এর পাশে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ফিফার দেওয়া প্রায় ৮৮ কোটি টাকা (৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার) ব্যয়ে কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে বাফুফে। আগামী মাসেই কেন্দ্র এলাকার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানান তাবিথ আওয়াল। প্রকল্পে যা থাকছে প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানের একাধিক প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ঘাসের ফুটবল মাঠ, জিমনেসিয়াম, চারতলা আবাসিক ভবন, শ্রেণিকক্ষ, স্পোর্টস সায়েন্স ও মেডিকেল ইউনিট, ইনডোর ট্রেনিং সুবিধা, ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, ভিডিও অ্যানালাইসিস ল্যাব এবং কোচিং এডুকেশন সেন্টার থাকবে। পাশাপাশি ডাইনিং, কনফারেন্স ও বয়সভিত্তিক দলের জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। বাফুফে কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্রটিতে জাতীয় দল, নারী দল ও অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-২৩সহ বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে। কোচ ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সারাদেশ থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই ও পরিচর্যার সুযোগও তৈরি হবে। বাফুফের দাপ্তরিক সূত্র জানায়, ২০২২ সালে বাংলাদেশে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য প্রকল্পটি বরাদ্দ দেয় ফিফার নির্বাহী কমিটি। প্রথমে রামুর খুনিয়াপালংয়ে ২০ একর জমি নির্ধারণ করা হলেও সেটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে পড়ায় পরিবেশগত আপত্তির কারণে ওই স্থান বাতিল করা হয়। পরে বিকল্প জমি খুঁজতে শুরু করে বাফুফে। ২০২৫ সালে রামুর রশিদনগরের ধলিরছড়া মৌজায় ১৫ দশমিক ২০ একর খাসজমি চূড়ান্ত করা হয়। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জমিটি বাফুফের অনুকূলে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। বাফুফের প্রকল্প কর্মকর্তা তানভির আহমেদ ছিদ্দিকী বলেন, ভৌগোলিক সুবিধা, প্রশস্ত জায়গা এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা বিবেচনায় রামুর রশিদনগরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের পাশে হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জমির উদ্দীন বলেন, নির্ধারিত জমিটি পাহাড় শ্রেণির নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে গাছপালা ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও নেই। সার্বিক সমীক্ষা শেষে ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপনে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, ২০২৫ সালে প্রকল্পটির জমি বরাদ্দের বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর বাফুফের সঙ্গে সমন্বয় করে জমি নির্ধারণ এবং মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হয়েছে। বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন বলেন, নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। কয়েক দফা ফিফার কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করতে হয়েছে। একপর্যায়ে প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে। এখন দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। জমি হস্তান্তরের পর বাফুফে সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। সায়ীদ আলমগীর/কেএইচকে/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>