ব্রেকিং নিউজ
নতুন রাজনৈতিক দল নেতৃত্ব না দিলে পুরোনো সিস্টেম আগ্রাসন চালাতে পারে পাংশায় পাইপগান ও কার্তুজসহ সন্ত্রাসী মঞ্জুসহ গ্রেপ্তার ২ মানবজাতির অস্তিত্ব নিয়ে জুয়া খেলছে এআই কোম্পানিগুলো, দাবি গবেষকদের Duleep Trophy Final: ৯৯ রানে তিলক ফিরতেই অল আউট দক্ষিণাঞ্চল, ৩৭২ রানের বিশাল লিড নিল পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত, আহত ১ আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ভিকারুননিসার নির্বাচন, অ্যাডহক কমিটি নিয়ে রুল বুলিং শিশুর মানসিক ক্ষতি করে আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডার: আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি দুদকের অভিযোগ রাজনৈতিক হয়রানির অংশ: আসিফ মাহমুদ নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া সভ্যতা পূর্ণতা পায় না: রিজভী
জাতীয়

যশোরের শার্শায় বেড়েছে পাট চাষ, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
কয়েক বছর আগেও যে জমিতে অন্য ফসলের চাষ হতো; এবার সেসব জমির অনেকটাই দখল করেছে পাট। সবুজ পাটগাছ এখন শার্শার মাঠজুড়ে। কোথাও পাট কাটা হচ্ছে, কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ। আবার কোথাও কৃষকেরা পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের সম্ভাবনায় এ বছর পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। তবে উৎপাদন খরচ বাড়ায় বাজারে ন্যায্যদাম পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চল পাট চাষের উপযোগী। দোআঁশ মাটি, মান ভালো, অনুকূল পরিবেশে রোগবালাই কম। কৃষকদের প্রতি কৃষি বিভাগের উদ্বুদ্ধকরণ ও নিয়মিত পরামর্শ, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সরকারি ভর্তুকির বিনামূল্যে বীজ প্রদানসহ অল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর ৫০৩ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। গত মৌসুমে এ আবাদ ছিল ৫ হাজার হেক্টর। অর্থাৎ ‌১ বছরে পাট চাষ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর। উপজেলার দোআঁশ মাটি পাট চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ বছর আবহাওয়াও পাটের অনুকূলে ছিল। ফলে অনেক এলাকায় পাটের গাছ হয়েছে বেশ ভালো। কৃষকদের আশা, বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৬ মণ পর্যন্ত পাট পাওয়া যেতে পারে। চাষকৃত পাট জাতের মধ্যে আছে ভারতীয় কৃষি সেবাইন জাতের পাট বীজ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেশি ও উচ্চফলনশীল জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং সরকারি প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ পাওয়ায় অনেক কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন। পাশাপাশি বাজারে পাট ও পাটখড়ির চাহিদা থাকায় এ ফসলকে লাভজনক মনে করছেন তারা। আরও পড়ুন চরাঞ্চলে যে পদ্ধতিতে মসলার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব তবে ভালো ফলনের পরও কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে উৎপাদন খরচ নিয়ে। পাট কাটা, আঁটি বাঁধা ও জাগ দেওয়ার জন্য শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। বেড়েছে জ্বালানি ও পরিবহন খরচও। ফলে বাজারে প্রত্যাশিত দাম না মিললে লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। কৃষকেরা বলছেন, শুধু আবাদ ও উৎপাদন বাড়লেই হবে না। উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা পাট চাষে আরও উৎসাহিত হবেন। শার্শার মাঠে এখন পাট কাটার ব্যস্ততা। কৃষকের ঘরে উঠছে সোনালি আঁশ। সেই সঙ্গে তাদের প্রত্যাশা পরিশ্রমের ফসলের ন্যায্যদামও ঘরে ফিরবে। পাটের আবাদ বাড়ার এই ধারাকে টেকসই করতে বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এখন কৃষকদের সবচেয়ে বড় দাবি। তারা বলছেন, জন, মজুরি, সার, তেলের দাম বেশি। আমরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করি। ফসলের ন্যায্যমূল্য পাই না। ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলে আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বো। সরকারের কাছে একটাই দাবি, আমরা চাষিরা যেন ফসলের ন্যায্যমূল্য পাই। সরকার যেন কৃষকদের দিকে নজর দেয়। আরও পড়ুন কৃষিকাজ শুরুর আগে যেসব বিষয়ে জানা জরুরি শার্শার বাগআঁচড়া এলাকার পাটচাষি আবদুল হালিম বলেন, ‌‘পাটের ফলন এবার ভালো হয়েছে। কিন্তু পাট কাটতে ও জাগ দিতে শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। তেলের দামও বেড়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি। বাজারে ভালো দাম না পেলে কৃষকের লাভ থাকবে না। পাট চাষে পরিশ্রম অনেক। ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত একের পর এক খরচ করতে হয়। তাই বাজারে দাম কমে গেলে কৃষকের সব পরিশ্রম বৃথা যাবে।’ পাটচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে পাট চাষ করি। ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত অনেক খরচ হয়। বীজ বোনা থেকে শুরু করে পাট জাগ দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কাজে খরচ বেড়েছে। পাটের ন্যায্যদাম না পেলে কৃষক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে পাটসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হোক।’ স্থানীয় ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন জানান, মৌসুমের শুরুতে বাজারে পাটের সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ সময় কৃষকেরা অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে পাট বিক্রি করেন। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও প্রকৃত উৎপাদক কৃষকেরা ন্যায্যদাম থেকে বঞ্চিত হন। আরও পড়ুন কৃষিকাজ কেন কোথায় কীভাবে করবেন পাটের পাশাপাশি পাটখড়ি থেকেও বাড়তি আয় হয়। জ্বালানি, ঘরের বেড়া, ছাউনি এবং বিভিন্ন কাজে পাটখড়ির ব্যবহার থাকায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা আছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পাটখড়ি পাঠানো হয়। ফলে পাটের বাজারদর কিছুটা কম হলেও পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পাটের দাম স্থিতিশীল না থাকলে সামগ্রিকভাবে চাষিদের লাভবান হওয়া কঠিন বলে মনে করছেন তারা। এদিকে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাটখড়ির চাহিদা থাকায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকদের মতে, পাটের বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে এ ফসল তাদের জন্য আরও লাভজনক হয়ে উঠবে। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে সরকারি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মধ্যে পাটের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। পাট উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাট কাটার পর সঠিক পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া হলে আঁশের মান ভালো হবে এবং কৃষকেরা বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন।’ আরও পড়ুন কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও বাজার অস্থিরতা তিনি বলেন, ‘পাট জাগ দেওয়ার সময় পরিষ্কার পানি ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর পর ভালোভাবে ধুয়ে শুকানোর বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মানসম্মত আঁশ উৎপাদন করতে পারলে বাজারে এর চাহিদা ও দাম ভালো থাকবে।’ জেইউডি/এসইউ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>