বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী ধরনের কনটেন্ট ব্যবহারকারীরা দেখবেন, তা ঠিক করতে অ্যালগরিদমের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। এবার সেই অ্যালগরিদম ব্যবহার করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীদের হাতেই দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
দেশটির সরকার এমন একটি আইন করতে যাচ্ছে, যার আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের ‘শক্তিশালী’ অ্যালগরিদম বন্ধ করার সুযোগ দিতে হবে। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস অস্ট্রেলিয়ার এবিসি জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন
শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা কি কাজ করছে?
চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে খসড়া আইন প্রকাশ করার কথা রয়েছে সরকারের।
প্রস্তাবিত আইনে মেটার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট ঠেকাতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট ও আচরণ মোকাবিলায় সরকারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অনেক অস্ট্রেলীয় অ্যালগরিদমের মাধ্যমে পাওয়া বিনোদন ও বিভিন্ন সুবিধা উপভোগ করেন। তবে, কেউ চাইলে অ্যালগরিদম ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার সুযোগ থাকা উচিত বলে মনে করেন আনিকা ওয়েলস।
তিনি বলেন, ‘অনেক অস্ট্রেলীয় অ্যালগরিদম বেছে নিতে চাইবেন। তবে, আমরা মনে করি, বিগ টেক প্রতিষ্ঠানগুলোর শুরুতেই তাদের এ সুযোগ দেওয়া উচিত এবং ব্যবহারকারীরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিকে সম্মান করা উচিত।’
আরও পড়ুন
অস্ট্রেলিয়ায় বন্ধ হলো লাখ লাখ অ্যাকাউন্ট / ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর
তবে, সরকারের এ উদ্যোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলের নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর। তিনি জানিয়েছেন, লেবার সরকারের প্রস্তাবিত আইনটি তারা এখনো দেখেননি। সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেন্সরশিপ চালুর চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন টেলর। আইনটির খসড়া প্রকাশের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যস্ত রাখতে অ্যালগরিদম ব্যবহার করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীরা কী ধরনের পোস্ট বা ভিডিও বেশি দেখছেন, তা বুঝে একই ধরনের আরও কনটেন্ট তাদের সামনে তুলে ধরে। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি তৈরি হতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা রয়েছে।
আরও পড়ুন
এআইয়ের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে ১০ লাখ নতুন চাকরি!
ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় ধরে রাখতে তাদের সামনে বিতর্কিত, চমকপ্রদ বা ভয় ধরাতে পারে এমন কনটেন্ট তুলে ধরার অভিযোগও রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এর আগে, গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় অস্ট্রেলিয়া। অনলাইনে বুলিং এবং ‘ক্ষতিকর অ্যালগরিদম’ থেকে শিশুদের সুরক্ষার লক্ষ্যে বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে এমন পদক্ষেপ নেয় অস্ট্রেলিয়া। পরে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে, গত মাসে প্রকাশিত তথ্য বলছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার শিশুরা ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ ব্যবহার আরও বেড়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরাএমআরএইস/
বিজ্ঞাপন