বিজ্ঞাপন
যশোর শহরের খয়েরতলা এলাকায় ভৈরব নদের জায়গা দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। এই প্রাচীরে স্থানীয়দের যাতায়াতের পথও আটকে গেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বন্ধ ও নদের জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত এই আবেদন করেছেন যশোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নওদাগ্রামের বাসিন্দারা।
লিখিত আবেদনে নওদাগ্রামের বদিয়ার রহমান, শিমুল, আকুল হোসেন, বেলাল শিকদার, আব্দুল কুদ্দুস, পিন্টু বিশ্বাস, জাকির আলী, আতিকুজ্জামান, শুকুর আলীসহ এলাকাবাসী জানান, প্রায় ৩০-৩৫ বছর আগে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র নদ থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রাচীরসংলগ্ন রাস্তা দিয়েই স্থানীয় বাসিন্দারা খয়েরতলা বাজারে যাতায়াত করে আসছেন। তবে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি নদের সীমানার ভেতরে ঢুকে নতুন করে প্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু করেছে। এতে একদিকে যেমন প্রবহমান ভৈরব নদের স্বাভাবিক নাব্যতা ও পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র পথটিও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ কারণে পরিবেশ ও প্রবহমান নদের অস্তিত্ব রক্ষায় নদের জায়গা পুনরুদ্ধারে অবিলম্বে সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন
ভিটেমাটি হারিয়ে গড়ে তোলেন ভূমি গবেষণাগার
জানা যায়, শহরের দড়াটানা সেতু থেকে কাঠের পুল পর্যন্ত ভৈরবের প্রায় ৮০০ মিটার অংশের দুই তীরে অসংখ্য বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীর প্লাবনভূমিতে গড়ে তোলা হয়। যার মধ্যে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর দড়াটানায় জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ অভিযানে ভৈরবের ৪৩ শতক জমি দখলমুক্ত করা হয়। দোকানপাট উচ্ছেদের পর সীমানা পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে জায়গা চিহ্নিত করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে অভয়নগরে ভৈরবের তীরে ৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সেখানে আরও ৩৬টি স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে অভিযান কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
যশোরের সমাজসেবক ও সংস্কৃতিজন হারুন অর রশীদ বলেন, যশোরে ভৈরবের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ২০২০ সালের আংশিক তালিকায় জেলার ৬৭৩ জন নদী দখলদারের নাম উঠে আসে। ওই তালিকায় যশোর সদর উপজেলায় ভৈরব দখল করে দলীয় কার্যালয়, ক্লিনিক, মার্কেট, পুকুর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিজিবি ক্যাম্প ও বসতবাড়ি নির্মাণের তথ্য ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিএসও) ড. শফিকুল ইসলাম জানান, সরকারি ম্যাপ অনুযায়ী নির্দিষ্ট জমি ছেড়েই প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে পরিমাপ (সার্ভে) করার কথা রয়েছে। সরকারি সার্ভেয়ার মেপে নদের সীমানা চিহ্নিত করে দিলে সেই অনুযায়ীই পরবর্তী নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।
মিলন রহমান/এনএইচআর
বিজ্ঞাপন