বিজ্ঞাপন
ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। এর মধ্যে ১৮টিই ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জর্ডান।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত দুইদিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দু’বার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছিল ইরান। পরে, জাহাজটি হামলা এড়িয়ে যায় এবং এতে থাকা মার্কিন সেনা বা কর্মীরা হতাহত হওয়া থেকে রক্ষা পান।
এরপর ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার—এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১, এম/টি রিয়েস্কো ও এম/টি দেরিয়া—এ হামলা চালানো হয়। হামলার আগে এসব জাহাজের কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে, এম/টি রিয়েস্কো ডুবে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করে সেন্টকম।
M/T Riesco sinks in the Gulf of Oman, Sept. 8, after being destroyed by CENTCOM forces in response to attempted IRGC attacks on a U.S. Navy warship. pic.twitter.com/EkmG8uyMT9
— U.S. Central Command (@CENTCOM) September 9, 2026
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের জাহাজে হামলা চালিয়ে যাবে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌজাহাজে হামলা করবে বা হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের একটি করে ট্যাংকার হারাতে হবে।
এদিকে, খার্গ দ্বীপের কাছে একটি এবং ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক বন্দরের কাছে আরেকটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি। এর জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি দাবি করেছে, ইরানের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
একই সঙ্গে, মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। পরে আরও দুই মার্কিন জাহাজ ও আটটি ট্যাংকারে হামলার দাবি করলেও এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এ পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে, কুয়েত ও বাহরাইনের সীমান্তবর্তী বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর কর্মীদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যেতে সতর্ক করেছে আইআরজিসি। এর আগে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের ট্যাংকারে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাবে তেহরান।
সূত্র: আল-জাজিরাএমআরএইস/
বিজ্ঞাপন