জাতীয়

মানবজাতির অস্তিত্ব নিয়ে জুয়া খেলছে এআই কোম্পানিগুলো, দাবি গবেষকদের

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
গতানুগতিক আনুষ্ঠানিকতার ধার না ধেরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণাগারের পেছনের ভয়ানক সত্য প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন বিশ্বখ্যাত এআই প্রতিষ্ঠান এনথ্রোপিকের ২৭ বছর বয়সী গবেষক জ্যাকব কক্সন। ওপেনএআই ও এনথ্রোপিকে টানা তিন বছর প্রি-ট্রেনিং গবেষক হিসেবে কাজ করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি বিস্ফোরক পোস্টে তিনি এই প্রযুক্তির অসংযত প্রতিযোগিতা নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কক্সন তার পোস্টে সরাসরি লিখেছেন যে, অ্যানথ্রোপিক থেকে পদত্যাগ করেছি। গত তিন বছর আমি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক- উভয় প্রতিষ্ঠানেই প্রাক-প্রশিক্ষণ গবেষণা করেছি। কোনো সংস্থাই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। তারা সরাসরি স্ব-উন্নয়নশীল অতি-বুদ্ধিমত্তার দিকে ছুটছে ও আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে। তিনি লেখেন, এআই প্রতিষ্ঠানগুলো মানবজাতিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে স্ব-উন্নয়নশীল সুপারইন্টেলিজেন্স বা পরাবুদ্ধিমত্তা তৈরির এক অন্ধ দৌড়ে লিপ্ত হয়েছে। কক্সনের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করা মূল গবেষকরা নিজেরাও বিশ্বাস করেন যে এই দশকের শেষ নাগাদ এআই পুরো মানবজাতিকে ধ্বংস বা বিলুপ্ত করে দিতে পারে। সংবাদমাধ্যমে কর্মকর্তারা সতর্ক বাণী ব্যবহার করলেও গোপনে বা ব্যক্তিগত আলোচনায় তারা ঠিকই এই আতঙ্ক প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে এই গবেষক জানান, খুব শিগগিরই সুপারহিউম্যান সিস্টেম বাস্তবে রূপ নেবে, যা যে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা হ্যাক করতে পারবে, যে কোনো খাতের চিত্র নিমেষে বদলে দেবে ও প্রকৃত ক্ষমতা অর্জন করবে। এই প্রযুক্তির অগ্রগতি কোনোভাবেই থামছে না। ওপেনএআই-তে এই সভ্যতার ঝুঁকির বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করা না হলেও এনথ্রোপিকে তা বোঝা যায়; কিন্তু অন্য কেউ দায়িত্বশীল হবে না- এমন ভাবনায় নিজেদের আগে পৌঁছানোর এক ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় তারা মেতেছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এমন ভাগ্য পরীক্ষা করা চরম ধৃষ্টতা বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যান্য গবেষকদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এমন সুপারইন্টেলিজেন্ট ব্যবস্থা চালু করা উচিত কি না, তা ভেবে দেখার। তিনি একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বা এআই মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ স্থগিত রাখার পরামর্শ দেন। কক্সনের এই মন্তব্যের জবাবে এনথ্রোপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স লিড ইভান হাবিংগার স্বীকার করেছেন যে, আগামী এক দশকের মধ্যে এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করার আশঙ্কা ১০ শতাংশেরও বেশি। বর্তমান মডেলগুলোর ঝুঁকি কম হলেও স্ব-উন্নয়নশীল সুপারইন্টেলিজেন্স নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা এখনো তৈরি হয়নি বলে তিনি জানান। এদিকে, এনথ্রোপিকের দীর্ঘদিনের সমালোচক ইলন মাস্ক তার অবস্থান পুরোপুরি বদলে কোম্পানিটির প্রশংসা করেছিলেন। অতীতে ক্রড ও এআই মডেলগুলোকে সভ্যতার হুমকি বললেও পরে তিনি স্বীকার করেন এনথ্রোপিক বর্তমানে এআই খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ভেতরের এই উদ্বেগ ও বিতর্ক প্রকাশ পেলেও এআই প্রতিযোগিতার গতি কমেনি, যা বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরেছে। সূত্র: এনডিটিভি এসএএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>