বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে নিকেতনে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরনী ওরফে সঞ্জিত ওরফে তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল উদ্দিনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। পুলিশ জানায়, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি চেক উদ্ধারের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
পিএম অফিসের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, আসামিকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
মামলার এজাহার ও রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার সহযোগীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এমন কৌশলে রাজধানীর নিকেতনে নির্মাণাধীন একটি ভবনে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে মামলার বাদীর কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়।
উত্তরা পশ্চিম থানার মামলাটি গত ২৪ আগস্ট দায়ের করা হয়। রিমান্ড আবেদনের কাগজপত্র অনুযায়ী, মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাদী আসামির পরিচিত এবং কলেজজীবনের বন্ধু। ফ্ল্যাট কেনার বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে আসামিদের সঙ্গে লেনদেন হয়। তবে রিমান্ড আবেদনে বাদীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিকেতন এলাকার নির্মাণাধীন ভবনের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ফ্ল্যাটটি কেনার জন্য বাদী বিভিন্ন সময়ে নগদ, বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে ফ্ল্যাটের কাজ সম্পন্ন করার কথা বলে আরও ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকের দুটি চেক নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে সেই হরিদাস হয়ে যান তৌহিদ ইসলাম
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, টাকা নেওয়ার পরও আসামিরা বাদীকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে বাদী জানতে পারেন, তাকে দেওয়ার কথা বলা ফ্ল্যাটটি অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তকালে প্রতারণার ঘটনায় আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার সহযোগী অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি চেক উদ্ধারের প্রয়োজন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ রানা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি বর্তমানে উত্তরা পশ্চিম থানার অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক সহযোগীদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি চেক উদ্ধার এবং মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত পুলিশের সাত দিনের আবেদনের বিপরীতে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এমডিএএ/এমআইএইচএস
বিজ্ঞাপন