ব্রেকিং নিউজ
মাদরাসা শিক্ষকদের বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন শুরু ৩০ আগস্ট দিনুশার বীরত্বে ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য ড্র বড় পর্দায় ফিরছেন ‘স্কুইড গেম’ নির্মাতা, এবার কী আনছেন সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের ঢাবি থেকে ডিসিইউতে স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রকাশ বিলীন হয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম, ভিডিওতে দেখা গেল নেপালের বন্যার ভয়াবহতা যাত্রাবাড়ী থানা থেকে হত্যা মামলার নারী আসামির পলায়ন, ৪ পুলিশ প্রত্যাহার সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স থেকে দেড় হাজার ইয়াবা উদ্ধার, চালকসহ আটক ৩ লর্ডসের বৃষ্টিভেজা প্রথম দিনটা পাকিস্তানের যৌন কেলেঙ্কারি, ৯৮ কোটি চেয়ে ৫ কোটি টাকা পেলেন অভিনেত্রী বিচারক-গাড়িচালকের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ
জাতীয়

আ.লীগ–যুবলীগের সশস্ত্র অবস্থানের কারণে ভাইয়ের লাশ আনা যাচ্ছিল না

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ১৯ জুলাই কলেজছাত্র ফয়জুল ইসলামকে (রাজন) গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই মো. রাজিব। জবানবন্দিতে রাজিব বলেন, সেদিন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান করায় ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ হাসপাতাল থেকে আনতে পারছিলেন না তাঁরা।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন রাজিব। তিনি এই মামলার ২৮তম সাক্ষী হিসেবে আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ জবানবন্দি দেন। রাজিব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিরপুর-১১ নম্বরের একটি প্রিন্ট কারখানায় চাকরি করতেন।

তাঁরা দুই ভাই ও এক বোন উল্লেখ করে জবানবন্দিতে রাজিব বলেন, তাঁর ছোট ভাই ফয়জুল ইসলাম ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কসমেটিকসের দোকানে কাজ করতেন। ফয়জুল ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছিলেন।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই প্রিন্ট কারখানায় কাজ শেষে কেরানীগঞ্জের বাড়িতে যান উল্লেখ করে জবানবন্দিতে রাজিব বলেন, বাড়িতে যাওয়ার পর তাঁর মা তাঁকে বলেন, তাঁর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। দুপুর ১২টার সময় তাঁর ছোট ভাই ফয়জুলের সঙ্গে তাঁর মায়ের সর্বশেষ কথা হয়। সেদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে একজন অপরিচিত নারী তাঁকে ফোন দিয়ে বলেন, ফয়জুল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তখন তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মিরপুর-৬–এ অবস্থানরত তাঁর বোন শান্তাকে মিরপুরের আজমল হাসপাতালে খোঁজ নিতে বলেন। তাঁর বোন খোঁজ নিয়ে রাত ৮টার দিকে জানান, ফয়জুল নিহত হয়েছেন।

ওই সময় হাসপাতালের সামনে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন রাজিব। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র অবস্থানের কারণে তাঁর ছোট ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ হাসপাতাল থেকে আনা যাচ্ছিল না। পরে সেদিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে একজন অপরিচিত লোক অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁর ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ কেরানীগঞ্জে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। তখন তাঁর ভাইয়ের বুকের ডান পাশে একটি গুলির ছিদ্র দেখতে পান। গুলিটি বুকের সামনের দিকে লেগে পিঠের দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। পরদিন তাঁর ভাইকে স্থানীয় বাহেরচর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করেন।

পরবর্তী সময়ে খোঁজ নিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাঁর ভাইকে হত্যা করেছেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন রাজিব। তিনি তাঁর ভাই হত্যার বিচার চান।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান পরশ ও সাধারণ সম্পাদক নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সব আসামিই পলাতক।

আজ রাজিবের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হলো। ৪ আগস্ট থেকে এই মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>