ব্রেকিং নিউজ
মিডিয়া

অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে অব্যাহতির সুপারিশ পিবিআইয়ের, নারাজি দেবেন বাদী

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
৭৫ হাজার টাকা দামের শাড়ি ফেরত না দেওয়া এবং এ নিয়ে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে তিশাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংস্থাটি। তবে ওই প্রতিবেদন মানছেন না মামলার বাদী ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী। তিনি নারাজি আবেদনের পাশাপাশি মামলাটি অন্য কোনো সংস্থাকে দিয়ে পুনঃতদন্তের আবেদন করবেন। পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম গত ২৫ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে ওই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বলেন, তারা তদন্ত প্রতিবেদন মেনে নিচ্ছেন না। তার অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্টভাবে তানজিন তিশাকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন। তিশার হুমকির অডিও রেকর্ডিং তদন্ত কর্মকর্তাকে শোনানো হলেও সেটি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। যে অভিযোগে মামলাফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউজ ও স্টুডিও রয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাশন ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং ভ্রমণের সূত্রে তানজিন তিশার সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। বাদীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তার কাছ থেকে একটি শাড়ি নেন। শাড়িটির মূল্য ছিল ৭৫ হাজার টাকা। তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নেন এবং অনুষ্ঠান শেষে পরদিন ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরও শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করেন সানায়া।শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তানজিন তিশাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান বাদী। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তিশা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। আরও পড়ুন আরেক উদ্যোক্তাকে প্রাণনাশের হুমকি, তানজিন তিশার বিরুদ্ধে জিডি পরে ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ দুটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তানজিন তিশার সঙ্গে দেখা হলে সানায়া আবার শাড়িটি ফেরত চান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। কিন্তু তখনও শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে তার অভিযোগ। এরপর ১০ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে ফোন করে তানজিন তিশা মামলা করার এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সানায়া। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। তদন্তে যা পেয়েছে পিবিআইপিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানায়া চৌধুরী ফ্যাশন ডিজাইনার এবং তানজিন তিশা মডেল ও অভিনেত্রী। বিভিন্ন ফ্যাশন ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভ্রমণের সূত্রে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তদন্তে দুই পক্ষের ফেসবুক মেসেঞ্জারে হওয়া কথোপকথনের স্ক্রিনশটও পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর শাড়ি ফেরত চেয়ে সানায়া বার্তা পাঠালেও তানজিন তিশা ওই বার্তা দেখেননি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর সানায়া আবার মেসেঞ্জারে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। জবাবে তিশা কোন শাড়ির কথা বলা হচ্ছে জানতে চান। পরে সানায়া শাড়িটির ছবি পাঠালে তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই এবং খুঁজে দেখে জানাবেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল বাদী তানজিন তিশাকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান। পরে ১৮ মে একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তাদের দেখা হলে দুজনের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়। এর কিছুদিন পর সানায়ার ফ্যাশন হাউসের শোরুমের ট্রায়াল রুম নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা ও মনোমালিন্য হয়। আরও পড়ুন ২৮ হাজার টাকার শাড়ির জন্য আসামি হয়ে আদালতে তানজিন তিশা তানজিন তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, সানায়ার সঙ্গে তার আগে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এর আগে তিনি সানায়ার কাছ থেকে আরও কয়েকটি শাড়ি নিয়েছেন এবং পরে সেগুলো ফেরত দিয়েছেন। এসব শাড়ির জন্য তিনি কোনো টাকা নেননি বলেও তিশা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান। তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, শাড়িটি নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় চলে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন। তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর তিশা বিভিন্ন মাধ্যমে সানায়ার কাছ থেকে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার ঠিকানা জানার চেষ্টা করেন বলে তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান বলে তিশা জানান। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ মার্চ তানজিন তিশা ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান। এ কারণে শাড়ি ফেরত না দেওয়ার ঘটনায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা মত দেন। হুমকির অভিযোগের বিষয়েও পিবিআই একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তানজিন তিশার পাঠানো মেসেজের শেষাংশে শাড়িটি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করা হয়। এসব বিবেচনায় ওই বার্তায় হুমকির কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন। তদন্ত শেষে বাদী ও বিবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পাওয়া নথি ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে তানজিন তিশাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। বাদীপক্ষের আপত্তিপিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট নন বাদী আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী। তার দাবি, তদন্তের সময় তিনি সাক্ষী, হুমকির অডিও রেকর্ডিংসহ বিভিন্ন প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দিয়েছেন। তারপরও এসব যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বলেন, ‘তানজিন তিশার হুমকির অডিও রেকর্ডিং তদন্ত কর্মকর্তাকে শোনানো হয়েছে। কিন্তু তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। আমরা আদালতে ন্যায়বিচার চাইব।’ তিনি জানান, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে অন্য কোনো তদন্ত সংস্থাকে দিয়ে মামলাটি পুনঃতদন্তের আবেদন জানানো হবে। তিশার বিরুদ্ধে আরেক শাড়ির মামলাশাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে অনলাইন ফ্যাশন পেইজ ‘অ্যাপোনিয়া’র কাছ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেওয়া এবং সেটির প্রচার ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলায় আদালত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দেন। ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে গত ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান তিনি। এখন ৯ সেপ্টেম্বর ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি নিয়ে করা মামলার পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর আদালতে শুনানি হবে। ওই দিন বাদীপক্ষের নারাজি ও পুনঃতদন্তের আবেদনের বিষয়েও আদালতের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এমডিএএ/জেএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>