বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ আজ এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি কোনো ব্যক্তি, কোনো দল কিংবা কোনো সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। প্রশ্নটি আরও মৌলিক: বাংলাদেশে সংবিধান কি সত্যিই সবার জন্য সমান?
এই প্রশ্নকে কোনোভাবেই তুচ্ছ করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ একটি রাষ্ট্রে নির্বাচন, মন্ত্রিসভা, নাগরিকত্ব, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং বিচারব্যবস্থার বৈধতার ভিত্তি হলো সংবিধান। সংবিধান যদি সাধারণ মানুষের জন্য কঠোর হয়, কিন্তু ক্ষমতাবানদের ক্ষেত্রে তার প্রয়োগে শিথিলতা দেখা যায়, তাহলে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিকে তাই নিছক ব্যক্তিগত বিতর্ক হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ২৪ আগস্ট সাংবাদিকেরা তাকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না।
তিনি সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে নিজের বাংলাদেশি পরিচয় ও দেশপ্রেমের কথা বলেন। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের Companies House-এর প্রকাশ্য রেকর্ডে তার নামে British nationality এবং England residence উল্লেখ থাকার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। তবে Companies House-এর এই তথ্যকে একা কোনো ব্যক্তির বর্তমান আইনগত নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
এর পরদিন, ২৫ আগস্ট, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান যে হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তার নিয়োগ ও শপথ গ্রহণে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি বলেন, সরকার সংবিধান মেনেই সবকিছু করেছে।
এই বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর ফলে বিতর্কের প্রকৃতি এখন আরও নির্দিষ্ট হয়েছে। এখন প্রশ্নটি আর শুধু “হুমায়ুন কবির কি ব্রিটিশ নাগরিক?” নয়। বরং প্রশ্ন হলো: সরকারের দাবি অনুযায়ী তিনি যদি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করে থাকেন, তাহলে সেই ত্যাগ কখন আইনগতভাবে কার্যকর হয়েছে এবং তার সাংবিধানিক যোগ্যতা কোন প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হয়েছে?
এই প্রশ্ন করা কোনো ব্যক্তিকে অপমান করা নয়। এটি রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বাভাবিক দাবি।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(১) অনুযায়ী সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া আবশ্যক। ৬৬(২)(c)-তে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারের ক্ষেত্রে অযোগ্যতার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে ৬৬(২A)-তে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক কোনো ব্যক্তি বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জনের পর তা ত্যাগ করলে নির্দিষ্ট শর্তে তাকে ওই বিধানের উদ্দেশ্যে বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জনকারী হিসেবে গণ্য না করার বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে সংবিধানের ৫৬(২) অনুযায়ী, সংসদের বাইরের এমন ব্যক্তিকেও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা যেতে পারে, যিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য যোগ্য। ফলে একজন টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্য হওয়ার সাংবিধানিক যোগ্যতার প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক।
অতএব, একজন ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশি মনে করেন কি না, তিনি বাংলাদেশকে ভালোবাসেন কি না, কিংবা তার দেশপ্রেম কতটা গভীর, সেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাংবিধানিক যোগ্যতা আবেগ দিয়ে নির্ধারিত হয় না, তা নির্ধারিত হয় আইন, নথি এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
এখানেই রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের একটি ন্যায্য প্রশ্ন রয়েছে। সরকার যখন বলছে, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেই হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে এবং তার নিয়োগ সংবিধানসম্মত, তখন জনগণ জানতে চাইতেই পারে: সেই সাংবিধানিক যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রমাণ কোথায়?
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ব্রিটিশ সরকারের নিজস্ব নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করাই নাগরিকত্ব ত্যাগের সমান নয়। declaration of renunciation নিবন্ধিত হওয়ার পরই তা কার্যকর হয় এবং সেই declaration-ই প্রমাণ করে যে ব্যক্তি আর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ধারণ করছেন না।
আরও পড়ুন
একজন ট্রাভেলারের অসমাপ্ত গল্প
সুতরাং আইনমন্ত্রী যখন বলছেন যে হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তখন জনগণের প্রশ্নটি অত্যন্ত নির্দিষ্ট: সেই renunciation-এর declaration কি নিবন্ধিত হয়েছে, কবে হয়েছে এবং নাগরিকত্ব ত্যাগের কার্যকর তারিখ কী?
এই প্রশ্নের অর্থ এই নয় যে তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি। বরং এর অর্থ হলো, সরকারের বক্তব্যের আইনগত ভিত্তি জনগণের সামনে পরিষ্কার করা হোক। যদি সবকিছু আইন অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা সরকারের অবস্থানকে দুর্বল করবে না, বরং সরকারের বক্তব্যকেই আরও শক্তিশালী করবে।
এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশ্য সংবাদ প্রতিবেদনে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তার নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক চলছিল এবং কিছু প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের সূত্রের কাছেও তার নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। (prothomalo.com) তাই এখন সরকারের স্পষ্ট বক্তব্যের পর সবচেয়ে যৌক্তিক পথ হলো, বিষয়টি নথির ভিত্তিতে পরিষ্কার করা।
তাই আমাদের দায়িত্ব কাউকে আগে থেকেই দোষী ঘোষণা করা নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ এবং নথিভিত্তিক উত্তর দাবি করা। এটাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সৌন্দর্য।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রায়ই দেখা যায়, ক্ষমতাবান ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হলে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে প্রশ্নকারীকে আক্রমণ করা হয়। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। কারণ একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে, একজন নাগরিক প্রশ্ন করলে কিংবা একটি সংবাদমাধ্যম কোনো সাংবিধানিক বিষয় সামনে আনলে তার জবাব হওয়া উচিত তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে, বিদ্রূপ বা ব্যক্তিগত আক্রমণ দিয়ে নয়। সাম্প্রতিক বিতর্কেও প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে উঠেছে।
রাষ্ট্রের শক্তি প্রশ্ন বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে নয়। রাষ্ট্রের শক্তি হলো কঠিন প্রশ্নেরও স্বচ্ছ উত্তর দেওয়ার সক্ষমতায়। আর এখানেই বিষয়টি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।
জুলাইয়ের রক্ত কি কেবল ক্ষমতার একজনকে সরিয়ে আরেকজনকে বসানোর জন্য ঝরেছিল? নিশ্চয়ই নয়। মানুষ রাস্তায় নেমেছিল এমন একটি রাষ্ট্রের প্রত্যাশায়, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার থাকবে না, প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক আনুগত্যের অধীন হবে না, বিচার পাওয়া যাবে, রাষ্ট্রীয় পদ ব্যক্তিগত বা দলীয় আনুগত্যের পুরস্কার হবে না এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, আইন সবার জন্য সমান হবে।
জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে যদি আমরা শুধু সরকার পরিবর্তনের রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখি, তাহলে সেই আত্মত্যাগের গভীর অর্থকে ছোট করা হবে। জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। আর রাষ্ট্রের মালিক জনগণ হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
সংবিধানকে যখন কোনো বিষয়ে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করা হবে, তখন অন্য কোনো বিষয়ে একই সংবিধানের স্পষ্ট বিধানকে উপেক্ষা করা যাবে না। সংবিধান সুবিধামতো উদ্ধৃত করার দলিল নয়, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ আইন।
তাই আজকের প্রশ্ন কোনো একজন হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে শেষ হওয়ার কথা নয়। আজ প্রশ্ন হওয়া উচিত, বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগের আগে সাংবিধানিক যোগ্যতা যাচাইয়ের একটি স্বচ্ছ ও অভিন্ন ব্যবস্থা আছে কি না।
যদি থাকে, তাহলে সেই ব্যবস্থা কী? কে যাচাই করে? কোন নথির ভিত্তিতে যাচাই করা হয়? নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি থাকলে তার প্রমাণ কীভাবে নিশ্চিত করা হয়? এবং একই নিয়ম কি প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আজ না দিলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে। কারণ আজ একজন প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কাল একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে উঠতে পারে, পরশু কোনো মন্ত্রী, স্পিকার কিংবা অন্য কোনো সাংবিধানিক পদধারীকে নিয়ে উঠতে পারে।
রাষ্ট্রের নিয়ম যদি ব্যক্তি অনুযায়ী বদলে যায়, তাহলে আইনের শাসন আর আইনের শাসন থাকে না।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই না যেখানে ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে আইনের ব্যাখ্যাও বদলে যায়। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই না যেখানে সাধারণ নাগরিকের কাছ থেকে নথি চাওয়া হবে, কিন্তু ক্ষমতাবান ব্যক্তির ক্ষেত্রে নথির প্রয়োজন হবে না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশও চাই না যেখানে কোনো অভিযোগ উঠলেই রাজনৈতিক প্রতিশোধের নামে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে।
আমাদের দাবি এর মাঝখানে নয়, বরং এর ঊর্ধ্বে: স্বাধীন যাচাই হোক, প্রমাণ প্রকাশ করা হোক, আইন প্রয়োগ করা হোক এবং যেখানে প্রয়োজন, স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
কেউ অপরাধী হলে আদালত তা নির্ধারণ করবে। কেউ নির্দোষ হলে রাষ্ট্র তার নির্দোষতাও স্পষ্ট করবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই রাজনৈতিক ক্ষমতা যেন সত্য উদঘাটনের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়।
এখানেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন আসে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগকে এমনভাবে স্বাধীন রাখতে হবে, যেন কোনো সরকার, রাজনৈতিক দল বা ক্ষমতাবান ব্যক্তি নিজের স্বার্থে আইনের ব্যাখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। জনগণের আস্থা তখনই তৈরি হয়, যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে ক্ষমতাবান এবং সাধারণ নাগরিক একই আইনের সামনে দাঁড়ায়।
আইনের শাসনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে নয়, ক্ষমতাবান মানুষের ক্ষেত্রে।
তাই আজ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শুধু কে ক্ষমতায় আছে তা নয়, বরং ক্ষমতায় যে-ই থাকুক, সে সংবিধান মেনে চলছে কি না।
জুলাইয়ের রক্তের বিনিময়ে আমরা যদি শুধু ক্ষমতার মুখ বদলাই, কিন্তু ক্ষমতার সংস্কৃতি না বদলাই, তাহলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। মানুষ বারবার রক্ত দেবে, আর সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন ক্ষমতাবানরা পুরোনো সুবিধা ভোগ করবে, এমন বাংলাদেশ আমরা আর চাই না।
আমরা চাই না কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের আত্মত্যাগকে নিজেদের ক্ষমতার বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করুক। আমরা চাই না কোনো ব্যক্তি নিজেকে রাষ্ট্রের চেয়ে বড় ভাবুক। আমরা চাই না কোনো প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নত হোক।
আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সংবিধান শুধু বইয়ের পাতায় থাকবে না, রাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্তে তার বাস্তব প্রয়োগ থাকবে। সুতরাং আজকের এই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, রাষ্ট্রের কাছে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তার নিয়োগ সম্পূর্ণ সাংবিধানিক। তাহলে সেই নাগরিকত্ব ত্যাগের আইনগত প্রমাণ, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং তার সাংবিধানিক যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া জনগণের সামনে পরিষ্কার করা হোক। আর যদি কোনো সাংবিধানিক প্রশ্ন থেকে থাকে, তাহলে সেটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক।
কোনো চাপ নয়, কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়, কোনো বিশেষ সুবিধাও নয়। শুধু আইন, শুধু সংবিধান, শুধু সত্য।
কারণ সরকার আসে, সরকার যায়। মন্ত্রী আসে, মন্ত্রী যায়। সংসদ আসে, সংসদও একদিন শেষ হয়। কিন্তু রাষ্ট্র থাকে, সংবিধান থাকে, আর জনগণের অধিকার থাকে।
তাই জুলাইয়ের রক্তের প্রতি সত্যিকারের সম্মান দেখানোর একমাত্র পথ হলো এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ক্ষমতার পরিবর্তনের চেয়েও বড় পরিবর্তন হবে আইনের সংস্কৃতিতে।
যেখানে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না, কোনো ব্যক্তি নয়, কোনো দল নয়, কোনো সরকার নয়, কোনো মন্ত্রী নয়, কোনো সংসদ সদস্য নয়, কেউ নয়।
বাংলাদেশের জনগণ আর শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন চায় না। তারা রাষ্ট্রের চরিত্রের পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের প্রথম শর্ত একটাই: সংবিধান সবার জন্য সমান, আর আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
রহমান মৃধাগবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেনই-মেইল: rahman.mridha@gmail.com
এমআরএম
বিজ্ঞাপন