জাতীয়

আইফোন কিনতে বিক্রি করা শিশুকে উদ্ধার, মুচলেকায় ছাড়া পেলেন বাবা

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

আইনফোন কেনার জন্য প্রায় এক লাখ টাকায় এক বাবার বিক্রি করা তাঁর ১৫ মাসের ছেলেসন্তানকে উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা পরিবারের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করেন। শিশুটির দাদা মো. মফিজ মুন্সি ও দাদি মাহফুজা বেগম শিশুটিকে গ্রহণ করেন।

এর আগে রোববার রাত ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে দশমিনা থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিশুটির বাবা মারুফ মুন্সিকে (২২) ঢাকা থেকে আটক করে পুলিশ। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের এ নিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে মারুফকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ইউএনও মো. মাহমুদ হাসান মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, আইফোনের জন্য মারুফ নামের এক তরুণের নিজের ছেলেসন্তানকে লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন শিশুটিকে উদ্ধার করে। তবে পরিবারের অভিযোগ না থাকায় ও শিশুটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অভিযুক্ত বাবা মারুফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই সঙ্গে শিশুটির পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মারুফের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের পারিবারিক কলহ চলছিল। কিছুদিন আগে তাঁরা আলাদা বসবাস শুরু করেন। এর পর থেকে শিশুটিকে তাঁর দাদি মাহফুজা বেগম দেখাশোনা করছিলেন।

মাহফুজা বেগম বলেন, শনিবার সকালে শিশুটিকে ভালো জামাকাপড় পরিয়ে ঘুরতে নিয়ে যান মারুফ। সন্ধ্যা হলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন। পরে তাঁরা জানতে পারেন, ঢাকায় মারুফের সহকর্মী ইমরান হোসেনের শ্বশুর মহিবুল টাকার বিনিময়ে তাঁর নাতিকে নিয়েছেন। মহিবুলের কোনো ছেলেসন্তান নেই।

পরিবারের দাবি, শিশুটির দাম এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে লিখিতভাবে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়।

মাহফুজা বেগমের অভিযোগ, ওই টাকা ও নিজের পুরোনো আইফোনের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা যোগ করে মারুফ নতুন আইফোন কিনেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়।

তবে ছেলেকে বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন মারুফ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এলাকায় কিছু ধারদেনা করেছেন। এ কারণে ইমরান ও তাঁর শ্বশুরের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় তাঁরা তাঁকে ৫২ হাজার টাকা দেন। তাঁর কোনো ফোন না থাকায় একটি আইফোন সংগ্রহ করেন।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটির বাবা মারুফকে ঢাকা থেকে এলাকায় আনা হয় বলে জানান দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধার করা শিশুটিকে সোমবার উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>